রাজশাহী বিভাগে হামের সংক্রমণ বেড়ে ৩১ দশমিক ৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সংক্রমণের হার বেড়েছে ২ দশমিক ৩০ শতাংশ। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বিভাগের প্রত্যেক জেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করছে। এতে ৩১ দশমিক ৩০ শতাংশ নমুনায় হাম পজিটিভ হচ্ছে।
রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) হাবিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগের ২৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৭৭ জনের হাম পজিটিভ পাওয়া গেছে। সংক্রমণের হার দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৩০ শতাংশ। গত ২৬ মার্চ পর্যন্ত এই নমুনা নেওয়া হয়। এর আগে গত ১৮ মার্চ পর্যন্ত ১৫৩ জনের নমুনা থেকে ৪৪ জন হাম পজিটিভ রোগী পাওয়া যায়। তখন সংক্রমণের হার ছিল প্রায় ২৯ শতাংশ। পরবর্তী আট দিনে রাজশাহী বিভাগে হাম সংক্রমণ বেড়েছে ২ দশমিক ৩০ শতাংশ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও পাবনায় হামের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি বলে জানান তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। গত তিন মাসে জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ৬ শতাধিক শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সেবা নিয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালটিতে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ৭২ জন ভর্তি আছে। তার মধ্যে ৩৯ জন ছেলে এবং ৩৩ জন মেয়ে শিশু। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে এবং একজনকে রাজশাহীতে রেফার্ড করা হয়েছে। এ ছাড়াও হাসপাতালটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়াসহ অন্য রোগে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়ে ১১০ জন শিশু রোগি ভর্তি হয়েছে এবং ১৪৫ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ডায়রিয়াসহ অন্য রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৭০ শিশু রোগী চিকিৎসাধীন আছে।
এদিকে রোগীর চাপ এতই বেশি যে অনেক শিশুকে শয্যা না পেয়ে হাসপাতালের মেঝেতেও থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার টিকরামপুর এলাকার মলি খাতুন খাতুন বলেন, আমার মেয়ের কিছুদিন আগে অনেক হাম বের হয়েছিল। এরপর শুক্রবার (২৭ মার্চ) থেকে অনেক জ্বর। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে খিচুনিসহ জ্বর ছিল। পরে হাসপাতালে এসে মেয়েকে নিয়ে ভর্তি আছি। ইনজেকশন দিয়েছে, ওষুধ চলছে। জুবায়ের আহমেদ বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার সময়ে আমার ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে এসেছিলাম। সেই সময়ে ছেলের অনেক জ্বর ছিল। আলহামদুলিল্লাহ এখন অনেক সুস্থতা অনুভব করছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের শিশু বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মাহফুজ রায়হান বলেন, এই সিজনে তিন মাস আগে আমরা প্রথম হামের রোগী আইডেন্টিফাই করেছিলাম। সে সময়ে প্রতিদিন তিন থেকে চারটি করে রোগী ভর্তি পাচ্ছিলাম। তারা মূলত নিউমোনিয়া রোগের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিল, কিন্তু পরে আমরা বুঝতে পারি এটা হাম। এরপর থেকে প্রকোপটা বাড়তে থাকে। দুই মাস আগে যখন প্রকোপটা বেড়ে গেল তখন আমরা বুঝতে পারলাম যে প্রকোপটা আরও বেড়ে যাবে। ফলে তখন আলাদাভাবে আইসোলেশনের একটা ওয়ার্ড চালু করেছি। প্রায় ২০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড। আর ফ্লোরিং মিলে এই হাসপাতালে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জনকে চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা আছে। গত একমাস থেকে এখানে ৫০ এর অধিক হামের বাচ্চা ভর্তি থাকছে। এভাবে হামের প্রকোপটা মারাত্মকভাবে আরও বাড়ছে। এটা মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগ হওয়ার কারণে এবং অনেক বাচ্চা টিকা নেয়নি। ফলে নয় মাসের নিচের বাচ্চাগুলো বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এটার মৃত্যুহারও যথেষ্ট বেশি এবং এটাতে কম্পিকেশনের হারও বেশি। আমাদের সদর হাসপাতালে যে বাচ্চাগুলো ভর্তি হচ্ছে তার মধ্যে ৯৫ ভাগ বাচ্চাকে চিকিৎসা দিতে সক্ষম। কিন্ত যেগুলো আইসিইউ লাগার মতো অবস্থা ও শ্বাসকষ্ট অতিরিক্ত হচ্ছে, অক্সিজেন ডিপেন্টডেন্ট সেই বাচ্চাগুলোকে আমরা রাজশাহীতে পাঠাচ্ছি। এ পর্যন্ত গত তিন মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে চার জন মারা গেছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে একজন একজন করে দুই জন এবং রানিং মার্চ মাসে দুই জন মারা গেছে। গত তিন মাসে ৬ শতাধিক রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হাম এমন একটা মারাত্মক রোগ যে ভালো হয়ে যাওয়ার পরেও পরবর্তী দুই থেকে তিন মাস এই বাচ্চাগুলোর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারে কমে যায়। এই কারণে হাম ভালো হয়ে যাওয়ার পরেও সেই বাচ্চার পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে আরও তিন মাসের বেশি সময় লাগতে পারে। এ জন্য তাদেরকে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো ও তাদের প্রতি এক্সট্রা যত্ন নেওয়া দরকার। আর অসুস্থতা এড়ানোর জন্য যেটা করণীয় সেটা হলো টিকা নিতে হবে। গত তিন থেকে চার বছরে অনেক বাচ্চা হামের টিকা মিস করার কারণে এই বার হামের মহামারিটি দেখা গেছে। কেন মিস করেছে সেটার অনেকগুলো ব্যাখ্যা আছে। হাম আক্রান্ত হয়ে গেলে বাচ্চাগুলোকে আইসোলেশনে রাখতে হবে। আপাতত বাইরে ভিড় এড়িয়ে যেতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বাচ্চাদেরকে যেতে না দেওয়া। এ ছাড়াও আরেকটি ভয়ের বিষয় হলো গত এক সপ্তাহ থেকে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু দেখা দিয়েছে। তাই হাম আর ডেঙ্গু একসঙ্গে শুরু হলে পরিস্থিতি কোনদিকে গড়াবে আল্লাই ভালো জানে।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, এই মুহূর্তে চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ সারাদেশে হাম রোগের সংখ্যা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের সদর হাসপাতালে আজকে রবিবার পর্যন্ত টোটাল রোগী ৫৭১ জন। তার মধ্যে ২৩১ জনই হচ্ছে শিশু। এর মধ্যে ৭১ জন হচ্ছে হাম রোগে আক্রান্ত। ২৫০ শয্যার হাসপাতালে যে পরিমাণ রোগী থাকার কথা ছিল তার চেয়ে প্রায় আড়াইগুণ রোগী ভর্তি আছে এবং এই আড়াইগুণ রোগীর প্রায় ৪০ ভাগ হচ্ছে শিশুরোগী। আমরা জানুয়ারি মাসের দিকে হাম রোগী পাই এবং এই রোগীগুলোকে আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়ার কাজ করি। আমাদের হাসপাতালে একটি ইউনিট আছে যা কিডনি বা ডায়ালাইসিস ইউনিট হিসেবে ছিল। পরে আমরা সেই ইউনিটকে হাম ইউনিট করেছি। হাম এমন একটা রোগ যা সহজেই এক শিশু থেকে আরেক শিশুকে আক্রান্ত করার চান্স থাকে। তাই তাদেরকে আলাদা করার জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড করেছি। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই আমাদের এই আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু আছে। তাদেরকে ভিটামিন এ সহ পূর্ণাঙ্গ চিৎকিসা দেওয়া হচ্ছে।
রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) হাবিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগের ২৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৭৭ জনের হাম পজিটিভ পাওয়া গেছে। সংক্রমণের হার দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৩০ শতাংশ। গত ২৬ মার্চ পর্যন্ত এই নমুনা নেওয়া হয়। এর আগে গত ১৮ মার্চ পর্যন্ত ১৫৩ জনের নমুনা থেকে ৪৪ জন হাম পজিটিভ রোগী পাওয়া যায়। তখন সংক্রমণের হার ছিল প্রায় ২৯ শতাংশ। পরবর্তী আট দিনে রাজশাহী বিভাগে হাম সংক্রমণ বেড়েছে ২ দশমিক ৩০ শতাংশ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও পাবনায় হামের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি বলে জানান তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। গত তিন মাসে জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ৬ শতাধিক শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সেবা নিয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালটিতে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ৭২ জন ভর্তি আছে। তার মধ্যে ৩৯ জন ছেলে এবং ৩৩ জন মেয়ে শিশু। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে এবং একজনকে রাজশাহীতে রেফার্ড করা হয়েছে। এ ছাড়াও হাসপাতালটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়াসহ অন্য রোগে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়ে ১১০ জন শিশু রোগি ভর্তি হয়েছে এবং ১৪৫ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ডায়রিয়াসহ অন্য রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৭০ শিশু রোগী চিকিৎসাধীন আছে।
এদিকে রোগীর চাপ এতই বেশি যে অনেক শিশুকে শয্যা না পেয়ে হাসপাতালের মেঝেতেও থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার টিকরামপুর এলাকার মলি খাতুন খাতুন বলেন, আমার মেয়ের কিছুদিন আগে অনেক হাম বের হয়েছিল। এরপর শুক্রবার (২৭ মার্চ) থেকে অনেক জ্বর। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে খিচুনিসহ জ্বর ছিল। পরে হাসপাতালে এসে মেয়েকে নিয়ে ভর্তি আছি। ইনজেকশন দিয়েছে, ওষুধ চলছে। জুবায়ের আহমেদ বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার সময়ে আমার ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে এসেছিলাম। সেই সময়ে ছেলের অনেক জ্বর ছিল। আলহামদুলিল্লাহ এখন অনেক সুস্থতা অনুভব করছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের শিশু বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মাহফুজ রায়হান বলেন, এই সিজনে তিন মাস আগে আমরা প্রথম হামের রোগী আইডেন্টিফাই করেছিলাম। সে সময়ে প্রতিদিন তিন থেকে চারটি করে রোগী ভর্তি পাচ্ছিলাম। তারা মূলত নিউমোনিয়া রোগের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিল, কিন্তু পরে আমরা বুঝতে পারি এটা হাম। এরপর থেকে প্রকোপটা বাড়তে থাকে। দুই মাস আগে যখন প্রকোপটা বেড়ে গেল তখন আমরা বুঝতে পারলাম যে প্রকোপটা আরও বেড়ে যাবে। ফলে তখন আলাদাভাবে আইসোলেশনের একটা ওয়ার্ড চালু করেছি। প্রায় ২০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড। আর ফ্লোরিং মিলে এই হাসপাতালে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জনকে চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা আছে। গত একমাস থেকে এখানে ৫০ এর অধিক হামের বাচ্চা ভর্তি থাকছে। এভাবে হামের প্রকোপটা মারাত্মকভাবে আরও বাড়ছে। এটা মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগ হওয়ার কারণে এবং অনেক বাচ্চা টিকা নেয়নি। ফলে নয় মাসের নিচের বাচ্চাগুলো বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এটার মৃত্যুহারও যথেষ্ট বেশি এবং এটাতে কম্পিকেশনের হারও বেশি। আমাদের সদর হাসপাতালে যে বাচ্চাগুলো ভর্তি হচ্ছে তার মধ্যে ৯৫ ভাগ বাচ্চাকে চিকিৎসা দিতে সক্ষম। কিন্ত যেগুলো আইসিইউ লাগার মতো অবস্থা ও শ্বাসকষ্ট অতিরিক্ত হচ্ছে, অক্সিজেন ডিপেন্টডেন্ট সেই বাচ্চাগুলোকে আমরা রাজশাহীতে পাঠাচ্ছি। এ পর্যন্ত গত তিন মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে চার জন মারা গেছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে একজন একজন করে দুই জন এবং রানিং মার্চ মাসে দুই জন মারা গেছে। গত তিন মাসে ৬ শতাধিক রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হাম এমন একটা মারাত্মক রোগ যে ভালো হয়ে যাওয়ার পরেও পরবর্তী দুই থেকে তিন মাস এই বাচ্চাগুলোর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারে কমে যায়। এই কারণে হাম ভালো হয়ে যাওয়ার পরেও সেই বাচ্চার পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে আরও তিন মাসের বেশি সময় লাগতে পারে। এ জন্য তাদেরকে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো ও তাদের প্রতি এক্সট্রা যত্ন নেওয়া দরকার। আর অসুস্থতা এড়ানোর জন্য যেটা করণীয় সেটা হলো টিকা নিতে হবে। গত তিন থেকে চার বছরে অনেক বাচ্চা হামের টিকা মিস করার কারণে এই বার হামের মহামারিটি দেখা গেছে। কেন মিস করেছে সেটার অনেকগুলো ব্যাখ্যা আছে। হাম আক্রান্ত হয়ে গেলে বাচ্চাগুলোকে আইসোলেশনে রাখতে হবে। আপাতত বাইরে ভিড় এড়িয়ে যেতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বাচ্চাদেরকে যেতে না দেওয়া। এ ছাড়াও আরেকটি ভয়ের বিষয় হলো গত এক সপ্তাহ থেকে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু দেখা দিয়েছে। তাই হাম আর ডেঙ্গু একসঙ্গে শুরু হলে পরিস্থিতি কোনদিকে গড়াবে আল্লাই ভালো জানে।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, এই মুহূর্তে চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ সারাদেশে হাম রোগের সংখ্যা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের সদর হাসপাতালে আজকে রবিবার পর্যন্ত টোটাল রোগী ৫৭১ জন। তার মধ্যে ২৩১ জনই হচ্ছে শিশু। এর মধ্যে ৭১ জন হচ্ছে হাম রোগে আক্রান্ত। ২৫০ শয্যার হাসপাতালে যে পরিমাণ রোগী থাকার কথা ছিল তার চেয়ে প্রায় আড়াইগুণ রোগী ভর্তি আছে এবং এই আড়াইগুণ রোগীর প্রায় ৪০ ভাগ হচ্ছে শিশুরোগী। আমরা জানুয়ারি মাসের দিকে হাম রোগী পাই এবং এই রোগীগুলোকে আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়ার কাজ করি। আমাদের হাসপাতালে একটি ইউনিট আছে যা কিডনি বা ডায়ালাইসিস ইউনিট হিসেবে ছিল। পরে আমরা সেই ইউনিটকে হাম ইউনিট করেছি। হাম এমন একটা রোগ যা সহজেই এক শিশু থেকে আরেক শিশুকে আক্রান্ত করার চান্স থাকে। তাই তাদেরকে আলাদা করার জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড করেছি। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই আমাদের এই আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু আছে। তাদেরকে ভিটামিন এ সহ পূর্ণাঙ্গ চিৎকিসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে পাবনা জেলার হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। পাবনা জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২৭ জন। তবে এখন পর্যন্ত মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। চিকিৎসাসেবা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে রোগীর স্বজনদের।
আড়াইশ’ শয্যা বিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭ জন। আর গত সাত দিনে জেলায় ২৩ জন হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া গত ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১১৮ জন। অন্যদিকে, বর্তমানে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ২৭ জন রোগীর মধ্যে ৩ মাস থেকে ১২ মাস বয়সী শিশু রয়েছে ২৫ জন। আর মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি দুই যুবকের মধ্যে একজনের বয়স ২২ বছর অন্যজনের বয়স ৩২ বছর। পাবনা সদর উপজেলার আশুতোষপুর গ্রামের গৃহবধূ স্মৃতি খাতুন তার চার মাস বয়সী মেয়ে শিশুকে গত ২৬ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। এখনও সুস্থ হয়নি তার সন্তান।তিনি জানান, তার মেয়ে প্রথমে ঠান্ডা জ্বর আসে। তারপর শরীরে মুখে লাল গুটি গুটি বের হয়। অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করে। বিছানায় ঘুমাতে পারে না। এমন অবস্থায় তারা হাসপাতালে এসে চিকিৎসকদের পরামর্শে ভর্তি করা হয়েছে। পরে পরীক্ষা করে তাদের হাম শনাক্ত করেছেন চিকিৎসকরা। একই উপজেলার হারিয়াবাড়িয়া গ্রামের সুফিয়া বেগম জানান, গত শনিবার মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু এখনে ঠিকমতো চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে না। এই কক্ষে ডাক্তার এলে নার্সদের ডেকেও পাওয়া যাচ্ছে না। আর রুমটাও ঠিকমতো পরিষ্কার করা হচ্ছে না। সদর উপজেলার মালিগাছা গ্রামের শিমলা খাতুন তার ৮ মাস বয়সী ছেলে সাফায়াতকে ঈদের পরদিন ভর্তি করেছেন। এখনও সুস্থ না হওয়ায় চিকিৎসাধীন। তিনি জানান, হাসপাতাল থেকে ওষুধ ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। ডাক্তার লিখে দিলে বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। আর নার্স, পরিচ্ছন্নতাকর্মী কেউ এই রুমে আসতে চাচ্ছে না।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. তানভীর ইসলাম বলেন, হামের রোগী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা পৃথক স্থানে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি। আপাতত কোনও সমস্যা হচ্ছে না। বিষয়টি আমরা নজরদারিতে রেখেছি। আড়াইশ’ শয্যা বিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুল হাসান বলেন, এটি ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ। শিশুসহ যেকোনও বয়সী মানুষের হাম হতে পারে। আপাতত ভর্তি করা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ায় কোনও সংকট নেই। রোগীর স্বজনদের অভিযোগের বিষয়ে সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুল হাসান জানান, ৩৮ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন ভর্তি থাকে ২০০ রোগীর ওপরে। আমাদের তো ওই ৩৮ শয্যার ওষুধ সরবরাহ করা হয়। এক্ষেত্রে কিছু সংকটতো থেকে যায়। তবে হামের জন্য নতুন করে একটি ওয়ার্ড চালুর কথা জানান তিনি। হামের টিকা নেওয়ার পরও কেন হঠাৎ এমন প্রাদুর্ভাব বেড়েছে সে বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত করে দেখা দরকার বলে মনে করেন এই চিকিৎসক।
এ বিষয়ে পাবনার সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘প্রায় প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই চার জন করে হামের রোগী ভর্তি হচ্ছে। যে কারণে জেলার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৃথক আইসোলেশন সেন্টার করা হয়েছে। ৯ মাস বা তার কম বয়সী শিশু রোগীর সংখ্যাই বেশি। যেহেতু ৯ মাস বয়সে হামের টিকা দেওয়ার পরও নতুন করে হামে আক্রান্ত হচ্ছে এ বিষয়টি নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। হাম ভীষণ ছোঁয়াচে রোগ। আক্রান্তদের আইসোলেশনে রাখা প্রয়োজন। কিন্তু হাসপাতালগুলোতে অন্য শিশুদের সঙ্গেই হাম রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলছে। তাই হাসপাতাল থেকেও শিশুরা এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেকের পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। সংক্রমণ ধরা পড়ার পর তিন মাস পর শনিবার রাতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছে। রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) মো. হাবিবুর রহমান জানান, হাসপাতালে হামের রোগীদের আলাদা ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন। সবখানে এটা শুরুতে সম্ভব হয়নি। সরকারের সহযোগিতায় হামের প্রকোপ মোকাবিলায় তারা কাজ করছেন।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
আড়াইশ’ শয্যা বিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭ জন। আর গত সাত দিনে জেলায় ২৩ জন হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া গত ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১১৮ জন। অন্যদিকে, বর্তমানে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ২৭ জন রোগীর মধ্যে ৩ মাস থেকে ১২ মাস বয়সী শিশু রয়েছে ২৫ জন। আর মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি দুই যুবকের মধ্যে একজনের বয়স ২২ বছর অন্যজনের বয়স ৩২ বছর। পাবনা সদর উপজেলার আশুতোষপুর গ্রামের গৃহবধূ স্মৃতি খাতুন তার চার মাস বয়সী মেয়ে শিশুকে গত ২৬ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। এখনও সুস্থ হয়নি তার সন্তান।তিনি জানান, তার মেয়ে প্রথমে ঠান্ডা জ্বর আসে। তারপর শরীরে মুখে লাল গুটি গুটি বের হয়। অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করে। বিছানায় ঘুমাতে পারে না। এমন অবস্থায় তারা হাসপাতালে এসে চিকিৎসকদের পরামর্শে ভর্তি করা হয়েছে। পরে পরীক্ষা করে তাদের হাম শনাক্ত করেছেন চিকিৎসকরা। একই উপজেলার হারিয়াবাড়িয়া গ্রামের সুফিয়া বেগম জানান, গত শনিবার মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু এখনে ঠিকমতো চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে না। এই কক্ষে ডাক্তার এলে নার্সদের ডেকেও পাওয়া যাচ্ছে না। আর রুমটাও ঠিকমতো পরিষ্কার করা হচ্ছে না। সদর উপজেলার মালিগাছা গ্রামের শিমলা খাতুন তার ৮ মাস বয়সী ছেলে সাফায়াতকে ঈদের পরদিন ভর্তি করেছেন। এখনও সুস্থ না হওয়ায় চিকিৎসাধীন। তিনি জানান, হাসপাতাল থেকে ওষুধ ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। ডাক্তার লিখে দিলে বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। আর নার্স, পরিচ্ছন্নতাকর্মী কেউ এই রুমে আসতে চাচ্ছে না।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. তানভীর ইসলাম বলেন, হামের রোগী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা পৃথক স্থানে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি। আপাতত কোনও সমস্যা হচ্ছে না। বিষয়টি আমরা নজরদারিতে রেখেছি। আড়াইশ’ শয্যা বিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুল হাসান বলেন, এটি ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ। শিশুসহ যেকোনও বয়সী মানুষের হাম হতে পারে। আপাতত ভর্তি করা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ায় কোনও সংকট নেই। রোগীর স্বজনদের অভিযোগের বিষয়ে সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুল হাসান জানান, ৩৮ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন ভর্তি থাকে ২০০ রোগীর ওপরে। আমাদের তো ওই ৩৮ শয্যার ওষুধ সরবরাহ করা হয়। এক্ষেত্রে কিছু সংকটতো থেকে যায়। তবে হামের জন্য নতুন করে একটি ওয়ার্ড চালুর কথা জানান তিনি। হামের টিকা নেওয়ার পরও কেন হঠাৎ এমন প্রাদুর্ভাব বেড়েছে সে বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত করে দেখা দরকার বলে মনে করেন এই চিকিৎসক।
এ বিষয়ে পাবনার সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘প্রায় প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই চার জন করে হামের রোগী ভর্তি হচ্ছে। যে কারণে জেলার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৃথক আইসোলেশন সেন্টার করা হয়েছে। ৯ মাস বা তার কম বয়সী শিশু রোগীর সংখ্যাই বেশি। যেহেতু ৯ মাস বয়সে হামের টিকা দেওয়ার পরও নতুন করে হামে আক্রান্ত হচ্ছে এ বিষয়টি নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। হাম ভীষণ ছোঁয়াচে রোগ। আক্রান্তদের আইসোলেশনে রাখা প্রয়োজন। কিন্তু হাসপাতালগুলোতে অন্য শিশুদের সঙ্গেই হাম রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলছে। তাই হাসপাতাল থেকেও শিশুরা এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেকের পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। সংক্রমণ ধরা পড়ার পর তিন মাস পর শনিবার রাতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছে। রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) মো. হাবিবুর রহমান জানান, হাসপাতালে হামের রোগীদের আলাদা ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন। সবখানে এটা শুরুতে সম্ভব হয়নি। সরকারের সহযোগিতায় হামের প্রকোপ মোকাবিলায় তারা কাজ করছেন।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন