শাওয়ালের ছয় রোজা: অল্প আমলে সারা বছরের সওয়াব

আপলোড সময় : ২৮-০৩-২০২৬ ০৩:০৯:৪৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৮-০৩-২০২৬ ০৩:০৯:৪৪ অপরাহ্ন
রমজান শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু ইবাদত ও সওয়াব অর্জনের সেই দরজা এখনো বন্ধ হয়নি। আল্লাহ-তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য রমজানের পরও শাওয়াল মাসে একটি বিশেষ সুযোগ রেখে দিয়েছেন। সুযোগটি শুধু একটি আমল নয়; বরং মুমিনের জন্য ইবাদতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ সুযোগের মূল্য অপরিসীম এবং এর প্রতিদান দীর্ঘস্থায়ী।

শাওয়াল মাসে ছয়টি নফল রোজা রাখাই হচ্ছে বিশেষ সেই সুযোগ। এই ছয়টি রোজা মূলত রমজানের প্রশিক্ষণকে ধরে রাখারই একটি বাস্তব প্রয়োগ। যারা রমজানে নিজেদের গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে ইবাদতে অভ্যস্ত করেছেন, তাঁদের জন্য এটি সেই ধারাকে অব্যাহত রাখার সহজ পথ। আমরা কি চাইলেই সারাবছর রোজা রাখতে পারব? মনে হয় না। কাজটা বেশ কঠিন। কিন্তু মাত্র ছয় দিন রোজা রাখার ফলেই আমরা সেই কঠিন কাজটির সওয়াব পেতে পারি ইনশাআল্লাহ।

শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখলে কীভাবে তা এক বছর রোজা রাখার সমান হতে পারে? এ প্রসঙ্গে কোরআনের এই আয়াতের দিকে লক্ষ করা যায়: ‘যে ব্যক্তি একটি নেক আমল করল, তার জন্য থাকবে দশ গুণ প্রতিদান।’ (সুরা আনআম, আয়াত: ১৬০) শাওয়াল মাসের নফল রোজার প্রতিদান প্রকৃতপক্ষেই অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, এরপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারা বছর রোজা রাখল।’ (মুসলিম, আস-সহিহ ২/৮২২)

এই বিশাল ফজিলতের পেছনে রয়েছে কোরআনের সেই মূলনীতি—প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান ১০ গুণ। অতএব, রমজানের ৩০টি রোজা + শাওয়ালের ৬টি রোজা = ৩৬টি রোজা। আর (৩৬ × ১০) = ৩৬০ দিন, যা একটি পূর্ণ বছরের সমান। এভাবে খুব অল্প আমলের মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বান্দাকে বিশাল সওয়াব অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছেন, যা তাঁর অসীম দয়া ও অনুগ্রহের প্রমাণ। এত বড় ফজিলত ও সহজ সুযোগ সামনে থাকার পরও যদি আমরা তা গ্রহণ না করি, তবে সেটি হবে আক্ষেপের বিষয়। তাই আমাদের উচিত এই ছয়টি রোজা রাখার মাধ্যমে নিজেদের আমলনামা সমৃদ্ধ করা এবং রমজানের শিক্ষাকে বাস্তবে ধরে রাখা।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :