দুনিয়ার সভ্য সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একটা কথা খুবই পরিষ্কার। আমাদের ঘাড়ের ওপর আমরা কারও আধিপত্য মেনে নেব না। অতীতে নেয়া হয়েছে। এই বোঝা আমরা ফেলে দিয়েছি।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে মিরপুর-১০ এ অবস্থিত আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুস্থদের মধ্যে চীনের সহায়তায় ফুডপ্যাক বিতরণ অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি। ফুডপ্যাক বিতরণ অনুষ্ঠানে ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা সারা দুনিয়ার সভ্য সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করতে চাই। কিন্তু একটা কথা খুবই পরিষ্কার। আমাদের ঘাড়ের ওপর আমরা কারও আধিপত্য মেনে নেব না। অতীতে নেয়া হয়েছে। এই বোঝা আমরা ফেলে দিয়েছি। এই বোঝা আর নিজের ঘাড়ে উঠবে না। আমাদের যুবসমাজ একদম এটা সহ্য করবে না। তারা বুক উঁচু করে বাঁচতে চায়, বিশ্বের বুকে পরিচয় দিতে চায়, আমি একজন গর্বিত বাংলাদেশি।’
নিজের নির্বাচনি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে চীন সরকার এবং রাষ্ট্রদূতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘এই উপহার যদি আমাদের ভাই-বোনদের ঈদের দিনে চেহারায় একটু খুশির ঝিলিক এনে দেয়, এটি হবে আমাদের বড় পাওনা।’
তিনি বলেন, ‘সরকার আমাদের যা দেবে, তা আপনাদের কাছে একেবারে হুবহু পৌঁছে দেবো। আপনাদের পাওনা আপনাদের কাছে পৌঁছে যাবে। এর সঙ্গে চেষ্টা করবো নিজেও কিছু যোগ করতে পারি কি না। আমাদেরও তো কিছু দায়-দায়িত্ব আছে।’
তিনি চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘চীনের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক সুদীর্ঘ ৫০ বছরের। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে চীন অন্যতম বৃহৎ পার্টনার, উন্নয়ন অংশীদার। চীনের অংশীদারত্বে বাংলাদেশে অনেক বড় বড় নিদর্শন গড়ে উঠেছে। তাদের বন্ধুত্বের নিদর্শন চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র। এটা পরিপূর্ণভাবেই চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশের জন্য উপহার। এখানে বাংলাদেশের একটি টাকাও নেই। পুরাটাই চীনের উপহার। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে আমাদের এই বন্ধুত্বের নিদর্শনটা হাইজ্যাক হয়ে গিয়েছিল। এই হলটার নাম পাল্টিয়ে তাদের বাপের নাম এখানে লিখে দিয়েছিল। এটি চরম অকৃতজ্ঞতা। এটা হতে পারে না। একটা দেশ ভালোবাসার জায়গা থেকে আমাদের উপহার দিয়েছে। আর তাদের নাম-নিশানাই মিশিয়ে দেয়া হলো। শুধু এক্ষেত্রে তারা এটা করেননি। সারা দেশকেই তারা এভাবে দখল করে নিয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই দখলমুক্ত হয়েছে।’
আজ পর্যন্ত স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে চীন কোনো হস্তক্ষেপ করেনি উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘অনেকে বাংলাদেশকে কিছু না দিয়েই বাংলাদেশ থেকে সবকিছু নিয়েই তারা যখন তখন হস্তক্ষেপ করে। কিন্তু চীন করে না। চীন অবিরত বন্ধুর পরিচয় দিয়েই চলেছে। আমরা আশা করবো অতীতের চাইতেও আগামী দিনগুলোতে আমাদের প্রিয় বন্ধু রাষ্ট্র চীন আরও বেশি উদ্যোগী হয়ে বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে তারা কাজ করবে।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিস্তা প্রকল্পের বিষয়টি চীন রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেছেন। এটি বাংলাদেশের কান্না, উত্তরাঞ্চলের কান্না। আমরা এই কান্নার অবসান চাই। অতীতে এটা কেন বাস্তবায়ন হয়নি, এটা সবাই বোঝে। আমরা এই অপসংস্কৃতি থেকে বের হয়ে জানিয়ে দিতে চাই, আমরাও স্বাধীন দেশের নাগরিক। আমাদের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি আছে। আমরা এই প্রকল্পকে শুধু সাপোর্ট করবো না। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে যদি আমাদের কিছু করার থাকে সেটাও করবো। কারণ আমরা দেশের কল্যাণ চাই, মানুষের কল্যাণ চাই। চীন শুধু এই ক্ষেত্রে না, এরইমধ্যে শুনেছেন এক হাজার বেডের দুটি হাসপাতাল করার সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছে। এর পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্টদের জন্য বিশাল একটি হল নির্মাণ করে দেয়ার ঘোষণা এবং বাজেট এরইমধ্যে তারা বরাদ্দ করেছে। এগুলো তো বন্ধুত্বের নিদর্শন।’
অনুষ্ঠানে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘এখানে এসে আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আপনাদের বড় উৎসব আসছে। ঈদুল ফিতর হরো ভালোবাসার উৎসব। কৃতজ্ঞতার প্রকাশ এবং সবার মধ্যে আনন্দ, ঈদের প্রস্তুতিতে সহায়তা করতে এবং পরিবারের সঙ্গে ভালো সময় কাটাতে আজকে আমরা কিছু উপহার নিয়ে এসেছি।’
তিনি সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে জামায়াত আমিরের ভূয়সী প্রশংসা করেন ও অভিনন্দন জানান। জামায়াতের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমর্থন দেয়ার জন্য বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসহ ভবিষ্যতে জামায়াতে ইসলামী ও আমির ডা. শফিকুর রহমানকে সমর্থন করবেন। আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যেতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি যে, বাংলাদেশের মুসলিম ভাই-বোনেরাও একটি উন্নত জীবন, নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ অংশীদার হবে।’
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচএইচ/এসকে
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে মিরপুর-১০ এ অবস্থিত আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুস্থদের মধ্যে চীনের সহায়তায় ফুডপ্যাক বিতরণ অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি। ফুডপ্যাক বিতরণ অনুষ্ঠানে ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা সারা দুনিয়ার সভ্য সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করতে চাই। কিন্তু একটা কথা খুবই পরিষ্কার। আমাদের ঘাড়ের ওপর আমরা কারও আধিপত্য মেনে নেব না। অতীতে নেয়া হয়েছে। এই বোঝা আমরা ফেলে দিয়েছি। এই বোঝা আর নিজের ঘাড়ে উঠবে না। আমাদের যুবসমাজ একদম এটা সহ্য করবে না। তারা বুক উঁচু করে বাঁচতে চায়, বিশ্বের বুকে পরিচয় দিতে চায়, আমি একজন গর্বিত বাংলাদেশি।’
নিজের নির্বাচনি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে চীন সরকার এবং রাষ্ট্রদূতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘এই উপহার যদি আমাদের ভাই-বোনদের ঈদের দিনে চেহারায় একটু খুশির ঝিলিক এনে দেয়, এটি হবে আমাদের বড় পাওনা।’
তিনি বলেন, ‘সরকার আমাদের যা দেবে, তা আপনাদের কাছে একেবারে হুবহু পৌঁছে দেবো। আপনাদের পাওনা আপনাদের কাছে পৌঁছে যাবে। এর সঙ্গে চেষ্টা করবো নিজেও কিছু যোগ করতে পারি কি না। আমাদেরও তো কিছু দায়-দায়িত্ব আছে।’
তিনি চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘চীনের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক সুদীর্ঘ ৫০ বছরের। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে চীন অন্যতম বৃহৎ পার্টনার, উন্নয়ন অংশীদার। চীনের অংশীদারত্বে বাংলাদেশে অনেক বড় বড় নিদর্শন গড়ে উঠেছে। তাদের বন্ধুত্বের নিদর্শন চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র। এটা পরিপূর্ণভাবেই চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশের জন্য উপহার। এখানে বাংলাদেশের একটি টাকাও নেই। পুরাটাই চীনের উপহার। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে আমাদের এই বন্ধুত্বের নিদর্শনটা হাইজ্যাক হয়ে গিয়েছিল। এই হলটার নাম পাল্টিয়ে তাদের বাপের নাম এখানে লিখে দিয়েছিল। এটি চরম অকৃতজ্ঞতা। এটা হতে পারে না। একটা দেশ ভালোবাসার জায়গা থেকে আমাদের উপহার দিয়েছে। আর তাদের নাম-নিশানাই মিশিয়ে দেয়া হলো। শুধু এক্ষেত্রে তারা এটা করেননি। সারা দেশকেই তারা এভাবে দখল করে নিয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই দখলমুক্ত হয়েছে।’
আজ পর্যন্ত স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে চীন কোনো হস্তক্ষেপ করেনি উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘অনেকে বাংলাদেশকে কিছু না দিয়েই বাংলাদেশ থেকে সবকিছু নিয়েই তারা যখন তখন হস্তক্ষেপ করে। কিন্তু চীন করে না। চীন অবিরত বন্ধুর পরিচয় দিয়েই চলেছে। আমরা আশা করবো অতীতের চাইতেও আগামী দিনগুলোতে আমাদের প্রিয় বন্ধু রাষ্ট্র চীন আরও বেশি উদ্যোগী হয়ে বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে তারা কাজ করবে।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিস্তা প্রকল্পের বিষয়টি চীন রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেছেন। এটি বাংলাদেশের কান্না, উত্তরাঞ্চলের কান্না। আমরা এই কান্নার অবসান চাই। অতীতে এটা কেন বাস্তবায়ন হয়নি, এটা সবাই বোঝে। আমরা এই অপসংস্কৃতি থেকে বের হয়ে জানিয়ে দিতে চাই, আমরাও স্বাধীন দেশের নাগরিক। আমাদের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি আছে। আমরা এই প্রকল্পকে শুধু সাপোর্ট করবো না। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে যদি আমাদের কিছু করার থাকে সেটাও করবো। কারণ আমরা দেশের কল্যাণ চাই, মানুষের কল্যাণ চাই। চীন শুধু এই ক্ষেত্রে না, এরইমধ্যে শুনেছেন এক হাজার বেডের দুটি হাসপাতাল করার সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছে। এর পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্টদের জন্য বিশাল একটি হল নির্মাণ করে দেয়ার ঘোষণা এবং বাজেট এরইমধ্যে তারা বরাদ্দ করেছে। এগুলো তো বন্ধুত্বের নিদর্শন।’
অনুষ্ঠানে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘এখানে এসে আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আপনাদের বড় উৎসব আসছে। ঈদুল ফিতর হরো ভালোবাসার উৎসব। কৃতজ্ঞতার প্রকাশ এবং সবার মধ্যে আনন্দ, ঈদের প্রস্তুতিতে সহায়তা করতে এবং পরিবারের সঙ্গে ভালো সময় কাটাতে আজকে আমরা কিছু উপহার নিয়ে এসেছি।’
তিনি সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে জামায়াত আমিরের ভূয়সী প্রশংসা করেন ও অভিনন্দন জানান। জামায়াতের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমর্থন দেয়ার জন্য বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসহ ভবিষ্যতে জামায়াতে ইসলামী ও আমির ডা. শফিকুর রহমানকে সমর্থন করবেন। আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যেতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি যে, বাংলাদেশের মুসলিম ভাই-বোনেরাও একটি উন্নত জীবন, নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ অংশীদার হবে।’
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচএইচ/এসকে