লাইলাতুল কদর বা শবেকদর বছরের শ্রেষ্ঠ রাত। এই রাত হাজার বছরের চেয়ে উত্তম। মহাগ্রন্থ আল কোরআনে রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, ‘তুমি কি জানো শবে কদর কী? শবে কদর এক হাজার মাস অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রূহ প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে অবতীর্ণ হয়। সে রাত (আদ্যোপান্ত) শান্তি ফজরের আবির্ভাব পর্যন্ত। (সুরা কদর : ১-৫) রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘রমজানে এমন একটি রাত আছে, যা হাজার রাতের চেয়ে উত্তম। যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে সত্যিই বঞ্চিত হলো।’ (সুনানে নাসায়ি : ২১০৮)
অন্য হাদিসে তিনি (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদতের মধ্যে রাত জাগবে, তার আগের গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বোখারি : ৩৫) তাই প্রত্যেক মুমিনের উচিত, এ বরকতময় রাতকে যথাসম্ভব ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করা। এ রাতে করা যায়, এমন দশটি আমল নিচে তুলে ধরা হলো।
১. নফল নামাজ পড়া
কদরের রাতে নফল নামাজ পড়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। হজরত মুহাম্মদ (সা.) রমজানের শেষ দশকে রাত জেগে ইবাদত করতেন। আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) শেষ দশকে যে পরিমাণ আমল করতেন, অন্য কোনো সময় এত বেশি আমল করতেন না।’ (মুসলিম : ১১৭৫)
২. ছয় রাকাত আওয়াবিন
মাগরিবের নামাজের পর ছয় রাকাত আওয়াবিন নামাজ পড়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে মাগরিবের পর ছয় রাকাত নফল (আওয়াবিন নামাজ) পড়ে এবং তার মাঝখানে কোনো মন্দ কথা না বলে, তাকে বারো বছর ইবাদতের সমপরিমাণ সওয়াব দেওয়া হবে।’ (ইবনে মাজাহ : ১১৬৭) নফল নামাজের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে এবং নিজের গোনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। তাই এই রাতে সামর্থ্য অনুযায়ী বেশি করে নফল নামাজ আদায় করা উচিত।
৩. তাহাজ্জুদ নামাজ
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে নবীজি (সা.) ইরশাদ করেন, রমজানের পর রোজা রাখার উত্তম সময় মুহাররম মাস আর ফরজ নামাজের পর উত্তম নামাজ রাতের নামাজ, অর্থাৎ তাহাজ্জুদ। (মুসলিম : ২৭২৫) রমজানে শেষ রাতে সেহরি খাওয়া হয়। এটি তাহাজ্জুদেরও সময়। এসময় দোয়া কবুল হওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তাই কদরের রাতে তাহাজ্জুদ নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে বিনয় ও আন্তরিকতার সঙ্গে দোয়া করলে, আল্লাহ তা কবুল করবেন বলে আশা করা যায়।
৪. সালাতুত তাসবিহ পড়া
সালাতুত তাসবিহ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ নফল নামাজ। এই নামাজ আদায়ে অতীতের গোনাহ মাফ হয়। জীবনে একবার হলেও চার রাকাত বিশিষ্ট এ নামাজ পড়তে বলেছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (আবু দাউদ : ১২৯৭) শবে কদরের মতো বরকতময় রাতে সালাতুত তাসবিহ পড়লে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভের বড় সুযোগ সৃষ্টি হয়।
৫. কোরআন তেলাওয়াত
লাইলাতুল কদরে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। এ রাতে কোরআন তেলাওয়াত করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আমল। মনোযোগ সহকারে কোরআন তেলাওয়াত এবং এর অর্থ ও মর্ম অনুধাবনের চেষ্টা করা একজন মুমিনের জন্য বিশেষ সৌভাগ্যের বিষয়।
৬. বেশি বেশি দোয়া পড়া
হাদিসে এসেছে, লাইলাতুল কদরে একটি বিশেষ দোয়া পড়তে মহানবী (সা.) উৎসাহ দিয়েছেন। হজরত আয়েশা (রা.) নবীজিকে (সা.) জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, যদি আমি জানতে পারি আজ লাইলাতুল কদর তাহলে আমি কী দোয়া করতে পারি? নবীজি (সা.) বললেন, তুমি বলো, اللّهُمّ إِنّكَ عُفُوّ تُحِبّ الْعَفْوَ ।فَاعْفُ عَنِّي উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আননি। অর্থ : হে আল্লাহ, আপনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। আপনি ক্ষমা করতেই ভালোবাসেন। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন (তিরমিজি : ৩৫১৩)। শবেকদরের ফজিলত লাভে উল্লিখিত দোয়াসহ বেজোড় রাতগুলোতে যেকোনো ইসতেগফার করা যেতে পারে।
৭. দরুদ শরিফ পাঠ
দরুদ শরিফ পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার ওপর রহমত বর্ষণ করেন। নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তাআলা তার ওপর দশটি রহমত বর্ষণ করেন।’ ( মুসলিম : ৪০৮)
৮. তওবা ও ইসতেগফার করা
গোনাহ করার পর মানুষ যদি নিজের ভুল বুঝতে পারে এবং আন্তরিকভাবে তওবা করে ভবিষ্যতে এমন পাপ না করার দৃঢ় সংকল্প করে, তাহলে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে ক্ষমা করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয় শয়তান বলেছে, ‘হে আমার রব, আপনার ইজ্জতের শপথ করে বলছি, আপনার বান্দাদের শরীরে প্রাণ থাকা পর্যন্ত আমি তাদের পথভ্রষ্ট করতে থাকব।’ তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমার ইজ্জত ও শ্রেষ্ঠত্বের শপথ করে বলছি, তারা যে পর্যন্ত ক্ষমা চাইতে থাকবে, আমি তাদের ক্ষমা করতে থাকব।’ (সহিহুল জামে : ১৬৫০)
৯. জিকির-আজকার করা
আল্লাহর স্মরণে জিকির-আজকার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এর মাধ্যমে বান্দা সবসময় আল্লাহকে স্মরণ করতে পারে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব।’ (সুরা বাকারা : ১৫২)
১০. সবার জন্য দোয়া করা
অন্যের জন্য দোয়া করলে ফেরেশতারা বলেন, হে আল্লাহ এ দোয়াটি আগে দোয়াকারীর জন্য কবুল করুন। অন্য ফেরেশতারা আমিন বলেন। ফেরেশতাদের কোনো গুনাহ নেই। তারা যে দোয়া করেন, সেটাই কবুল হয়। তাই মহিমান্বিত এই রাতে নিজের জন্য দোয়া করার পাশাপাশি বাবা-মা, পরিবার-পরিজন, বন্ধুসমাজ এবং আত্মীয়দের জন্যও দোয়া করা উচিত।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
অন্য হাদিসে তিনি (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদতের মধ্যে রাত জাগবে, তার আগের গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বোখারি : ৩৫) তাই প্রত্যেক মুমিনের উচিত, এ বরকতময় রাতকে যথাসম্ভব ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করা। এ রাতে করা যায়, এমন দশটি আমল নিচে তুলে ধরা হলো।
১. নফল নামাজ পড়া
কদরের রাতে নফল নামাজ পড়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। হজরত মুহাম্মদ (সা.) রমজানের শেষ দশকে রাত জেগে ইবাদত করতেন। আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) শেষ দশকে যে পরিমাণ আমল করতেন, অন্য কোনো সময় এত বেশি আমল করতেন না।’ (মুসলিম : ১১৭৫)
২. ছয় রাকাত আওয়াবিন
মাগরিবের নামাজের পর ছয় রাকাত আওয়াবিন নামাজ পড়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে মাগরিবের পর ছয় রাকাত নফল (আওয়াবিন নামাজ) পড়ে এবং তার মাঝখানে কোনো মন্দ কথা না বলে, তাকে বারো বছর ইবাদতের সমপরিমাণ সওয়াব দেওয়া হবে।’ (ইবনে মাজাহ : ১১৬৭) নফল নামাজের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে এবং নিজের গোনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। তাই এই রাতে সামর্থ্য অনুযায়ী বেশি করে নফল নামাজ আদায় করা উচিত।
৩. তাহাজ্জুদ নামাজ
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে নবীজি (সা.) ইরশাদ করেন, রমজানের পর রোজা রাখার উত্তম সময় মুহাররম মাস আর ফরজ নামাজের পর উত্তম নামাজ রাতের নামাজ, অর্থাৎ তাহাজ্জুদ। (মুসলিম : ২৭২৫) রমজানে শেষ রাতে সেহরি খাওয়া হয়। এটি তাহাজ্জুদেরও সময়। এসময় দোয়া কবুল হওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তাই কদরের রাতে তাহাজ্জুদ নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে বিনয় ও আন্তরিকতার সঙ্গে দোয়া করলে, আল্লাহ তা কবুল করবেন বলে আশা করা যায়।
৪. সালাতুত তাসবিহ পড়া
সালাতুত তাসবিহ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ নফল নামাজ। এই নামাজ আদায়ে অতীতের গোনাহ মাফ হয়। জীবনে একবার হলেও চার রাকাত বিশিষ্ট এ নামাজ পড়তে বলেছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (আবু দাউদ : ১২৯৭) শবে কদরের মতো বরকতময় রাতে সালাতুত তাসবিহ পড়লে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভের বড় সুযোগ সৃষ্টি হয়।
৫. কোরআন তেলাওয়াত
লাইলাতুল কদরে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। এ রাতে কোরআন তেলাওয়াত করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আমল। মনোযোগ সহকারে কোরআন তেলাওয়াত এবং এর অর্থ ও মর্ম অনুধাবনের চেষ্টা করা একজন মুমিনের জন্য বিশেষ সৌভাগ্যের বিষয়।
৬. বেশি বেশি দোয়া পড়া
হাদিসে এসেছে, লাইলাতুল কদরে একটি বিশেষ দোয়া পড়তে মহানবী (সা.) উৎসাহ দিয়েছেন। হজরত আয়েশা (রা.) নবীজিকে (সা.) জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, যদি আমি জানতে পারি আজ লাইলাতুল কদর তাহলে আমি কী দোয়া করতে পারি? নবীজি (সা.) বললেন, তুমি বলো, اللّهُمّ إِنّكَ عُفُوّ تُحِبّ الْعَفْوَ ।فَاعْفُ عَنِّي উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আননি। অর্থ : হে আল্লাহ, আপনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। আপনি ক্ষমা করতেই ভালোবাসেন। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন (তিরমিজি : ৩৫১৩)। শবেকদরের ফজিলত লাভে উল্লিখিত দোয়াসহ বেজোড় রাতগুলোতে যেকোনো ইসতেগফার করা যেতে পারে।
৭. দরুদ শরিফ পাঠ
দরুদ শরিফ পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার ওপর রহমত বর্ষণ করেন। নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তাআলা তার ওপর দশটি রহমত বর্ষণ করেন।’ ( মুসলিম : ৪০৮)
৮. তওবা ও ইসতেগফার করা
গোনাহ করার পর মানুষ যদি নিজের ভুল বুঝতে পারে এবং আন্তরিকভাবে তওবা করে ভবিষ্যতে এমন পাপ না করার দৃঢ় সংকল্প করে, তাহলে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে ক্ষমা করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয় শয়তান বলেছে, ‘হে আমার রব, আপনার ইজ্জতের শপথ করে বলছি, আপনার বান্দাদের শরীরে প্রাণ থাকা পর্যন্ত আমি তাদের পথভ্রষ্ট করতে থাকব।’ তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমার ইজ্জত ও শ্রেষ্ঠত্বের শপথ করে বলছি, তারা যে পর্যন্ত ক্ষমা চাইতে থাকবে, আমি তাদের ক্ষমা করতে থাকব।’ (সহিহুল জামে : ১৬৫০)
৯. জিকির-আজকার করা
আল্লাহর স্মরণে জিকির-আজকার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এর মাধ্যমে বান্দা সবসময় আল্লাহকে স্মরণ করতে পারে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব।’ (সুরা বাকারা : ১৫২)
১০. সবার জন্য দোয়া করা
অন্যের জন্য দোয়া করলে ফেরেশতারা বলেন, হে আল্লাহ এ দোয়াটি আগে দোয়াকারীর জন্য কবুল করুন। অন্য ফেরেশতারা আমিন বলেন। ফেরেশতাদের কোনো গুনাহ নেই। তারা যে দোয়া করেন, সেটাই কবুল হয়। তাই মহিমান্বিত এই রাতে নিজের জন্য দোয়া করার পাশাপাশি বাবা-মা, পরিবার-পরিজন, বন্ধুসমাজ এবং আত্মীয়দের জন্যও দোয়া করা উচিত।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন