​সংসদে দেখে দেখে বক্তব্য দেওয়া অ্যালাউড না: স্পিকার

আপলোড সময় : ১৫-০৩-২০২৬ ০৭:২১:৫৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৫-০৩-২০২৬ ০৯:০২:০৮ অপরাহ্ন
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেখে দেখে লিখিত বক্তব্য পাঠ করার রেওয়াজ নেই উল্লেখ করে সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। তিনি সদস্যদের চিরকুট বা নোট হাতে রেখে হাউসের দিকে তাকিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বক্তব্য দেওয়ার অভ্যাস করার পরামর্শ দেন।

রোববার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা চলাকালে এই নির্দেশনা দেন স্পিকার। পিরোজপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতের সংসদ সদস্য মাসুদ বিন সাঈদী ও ইসলামী আন্দোলনের সংসদ সদস্য অলি উল্লাহ কাগজ দেখে পুরো বক্তব্য পাঠ করলে স্পিকার তাদের থামিয়ে এই হুঁশিয়ারি দেন।

মাসুদ বিন সাঈদীকে উদ্দেশ্য করে স্পিকার বলেন, ‘বিনয়ের সঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সংসদে দেখে দেখে পড়া অ্যালাউড না। আপনি নোট রাখবেন, একবার সেদিকে তাকাবেন এবং একবার হাউসের দিকে তাকিয়ে বক্তব্য রাখবেন।’ 

একই বিষয়ে অলি উল্লাহকেও সতর্ক করে স্পিকার বলেন, ‘সংসদে না দেখে বলার অভ্যাস করেন। এটি সংসদের দীর্ঘদিনের রেওয়াজ। কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী লিখিত বক্তব্য পড়তে হলে আগে স্পিকারের অনুমতি নিতে হয়।’

এর আগে আলোচনায় অংশ নিয়ে মাসুদ বিন সাঈদী এক আবেগঘন ও কড়া বক্তব্য পেশ করেন। তিনি বলেন, ‘পিরোজপুরের মানুষ সব প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে আমাকে যে আমানত দিয়েছেন, তার মর্যাদা আমি আমৃত্যু রক্ষা করব। আমার পিতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আদর্শকে সমুন্নত রেখে দেশে ইনসাফ কায়েম করাই আমার লক্ষ্য।’

তিনি তার বক্তব্যে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদ ও মুগ্ধসহ সকল বীরদের স্মরণ করেন। মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘তথাকথিত ক্যাঙ্গারু ট্রাইব্যুনালে মিথ্যাচারের মাধ্যমে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হওয়া আমার পিতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ অসংখ্য নেতাকর্মীর ত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা এখানে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি।’

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির দাবি জানিয়ে মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘টিআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী কেবল সড়ক ও জনপথ বিভাগেই ৫২ হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। এই লুটপাট বন্ধ করতে হবে।’ তিনি সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও অতিরিক্ত সরকারি সুবিধা বর্জনেরও আহ্বান জানান।

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তারা জুলাইয়ের গণ-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আমরা আশা করি, তারা দ্রুতই এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবে।’

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দেওয়া ‘জুলাই আবেগ নয়’ বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘জুলাই শুধু আবেগ নয়, এটি একইসঙ্গে এক জ্বলন্ত বাস্তবতা। আবেগ বলে জুলাইকে খাটো করার সুযোগ নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সব অধ্যাদেশই আইন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য দায়িত্বশীল ছিল না। ভবিষ্যতে তাকে আরও সতর্ক হতে হবে।’

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টার আলোচনার দ্বিতীয় দিনে আজ সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের উপস্থিতিতে সংসদ ছিল বেশ প্রাণবন্ত। আলোচনার পর স্পিকার আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত সংসদ মুলতবি ঘোষণা করেন।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচএইচ/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :