প্রথম ফ্লাইট পরীক্ষা সফল

আসছে ১০ যাত্রী বহনে সক্ষম বৈদ্যুতিক উড়ন্ত ট্যাক্সি

আপলোড সময় : ১৫-০৩-২০২৬ ০২:৪৫:৩৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৫-০৩-২০২৬ ০২:৫২:২৭ অপরাহ্ন
চীনের একটি প্রতিষ্ঠান সফলভাবে ৫ টন (৪ হাজার ৫৩৬ কেজি) ওজনের বৈদ্যুতিক উল্লম্ব উড্ডয়ন ও অবতরণ সক্ষম উড়োজাহাজের প্রথম ফ্লাইট পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটিই এখন পর্যন্ত পরীক্ষা সম্পন্ন করা সবচেয়ে বড় বৈদ্যুতিক উল্লম্ব উড্ডয়ন ও অবতরণ করা ড্রোন সদৃশ উড়োজাহাজ।

উড়োজাহাজটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফেংফেই এভিয়েশন জানিয়েছে, তাদের তৈরি ভি–৫০০০ মডেলের উড়োজাহাজটি পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের সময় প্রথমে উল্লম্ব উড্ডয়ন পদ্ধতিতে আকাশে ওঠে, পরে স্থির ফিক্সড-উইং মোডে স্বল্প দূরত্বে উড়ে এবং শেষ পর্যন্ত আবার উল্লম্ব অবতরণ পদ্ধতিতে নিরাপদে অবতরণ করে। উল্লম্ব উড্ডয়ন ও অবতরণ প্রযুক্তির উড়োজাহাজগুলো অনেকটা হেলিকপ্টারের মতো কাজ করে। ফলে এগুলো হেলিপ্যাড বা ছোট জায়গা থেকেও উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে এবং ফিক্সড-উইং উড়োজাহাজের মতো রানওয়ের প্রয়োজন হয় না।

এই পরীক্ষা গত ৫ ফেব্রুয়ারি চীনের জিয়াংসু প্রদেশের কুনশান সিভিল আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল টেস্ট ফ্লাইট অপারেশন বেজে অনুষ্ঠিত হয়। ফেংফেই এভিয়েশন প্রায়ই এই স্থানে জনসমক্ষে প্রদর্শনী ও সংবাদমাধ্যমের প্রচারের জন্য ফ্লাইট পরীক্ষা পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটির একাধিক সংস্করণ রয়েছে। এর সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সংস্করণ একবার চার্জে ২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। অন্যদিকে হাইব্রিড শক্তিচালিত সংস্করণ প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে সক্ষম।

ভি–৫০০০ উড়োজাহাজটি আবার পণ্য বা যাত্রী পরিবহনের ভিত্তিতে দুই ধরনের সংস্করণে তৈরি হয়েছে। যাত্রীবাহী সংস্করণটির নাম “স্কাই ড্রাগন”, যা সর্বোচ্চ ১০ জন যাত্রী বহন করতে পারে। ফেংফেই এভিয়েশনের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড অটোফ্লাইট একই উড়োজাহাজের আরেকটি সংস্করণ তৈরি করেছে, যার নাম ভি–৫০০০ ম্যাট্রিক্স। এটি প্রায় ৯০৭ কেজি বা প্রায় এক টন পণ্য বহন করতে পারে। এই উড়োজাহাজের নকশায় রয়েছে প্রায় ২০ মিটার চওড়া যৌগিক ডানা, যা তিন স্তরের অ্যারোডাইনামিক বিন্যাসে তৈরি। এতে ২০টি লিফট মোটর ব্যবহৃত হয়েছে। এতগুলো মোটর ব্যবহারের কারণ হলো, যদি কয়েকটি মোটর বিকলও হয়ে যায়, তবুও উড়োজাহাজটি নিরাপদে উড়তে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বাণিজ্যিক উড়ন্ত ট্যাক্সি পরিষেবা চালুর জন্য এই ধরনের উড়োজাহাজ নিয়ে কাজ করছে। উদাহরণ হিসেবে জোবি এভিয়েশন ছয় বছরের একচেটিয়া চুক্তিতে দুবাইয়ে উড়ন্ত ট্যাক্সি পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া চীনের ইহাং তৈরি করেছে চালকবিহীন ইএইচ–২১৬–এস উড়োজাহাজ, যা চীনে নিম্ন আকাশপথে পর্যটন ফ্লাইট পরিচালনার জন্য অনুমোদন পেয়েছে। তবে এসব বড় ড্রোন জাতীয় উড়োজাহাজ সাধারণত চার থেকে ছয় যাত্রী বহনক্ষম এবং ভি–৫০০০-এর তুলনায় অনেক হালকা। বেশিরভাগই স্বল্প দূরত্বের শহুরে যাতায়াতের জন্য তৈরি। কিন্তু ভি–৫০০০ দেখিয়েছে যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে দীর্ঘ দূরত্বের আঞ্চলিক পরিবহনও সম্ভব হতে পারে।

কিছু প্রতিষ্ঠান বড় এয়ারলাইনের সহায়তাও পাচ্ছে। যেমন জোবি এভিয়েশনকে সমর্থন করছে ডেল্টা এয়ারলাইন্স, আর আর্চারকে সমর্থন করছে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স। ফলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে। ভি–৫০০০ স্কাই ড্রাগন বা ম্যাট্রিক্স উড়োজাহাজের পরীক্ষার পর কবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন মিলবে—এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটির আরেকটি ছোট উড়োজাহাজ ভি–২০০০সিজি (২ টন পণ্যবাহী) ইতোমধ্যে চীনে উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ও মান সংক্রান্ত সার্টিফিকেশন পেয়েছে। ফেংফেই এভিয়েশন, বিশেষ করে তাদের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড অটোফ্লাইট, চীনের শীর্ষ ব্যাটারি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কনটেম্পোরারি অ্যামপেরেক্স টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড থেকে বড় বিনিয়োগ পেয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিনিয়োগের পরিমাণ কয়েকশো মিলিয়ন ডলার।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন  

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :