যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে: আনু মুহাম্মদ

আপলোড সময় : ১৩-০৩-২০২৬ ০৩:৪৫:৩৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৩-০৩-২০২৬ ০৩:৪৫:৩৮ অপরাহ্ন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফেলে গেছে। চুক্তির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের নাম প্রকাশ করে বিচার ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। বর্তমান সরকারপ্রধান নির্বাচনের আগে বলেছিলেন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। যদি এই স্লোগান সত্যিই বিশ্বাস করা হয়, তাহলে সরকারকে এ বিষয়ে সংসদে আলোচনার উদ্যোগ নিতে হবে। যারা চুক্তিতে সই করেছেন, তাদের নাম উন্মোচন করে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরে “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি কেন বাংলাদেশের জন্য বিপজ্জনক” শীর্ষক এক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি এ সেমিনারের আয়োজন করে। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লেখক ও গবেষক ড. গোলাম রসূল। আলোচনায় অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহা মীর্জা। আনু মুহাম্মদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের আগ্রহ ছিল বেশি। তারা কেন এমনটি করেছে, তা বোধগম্য নয়। নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে এই চুক্তি করার কারণও প্রশ্নসাপেক্ষ।

তিনি আরও বলেন, তারা চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল চুক্তিটিও করতে চেয়েছিল। তবে শ্রমিকদের প্রতিবাদের কারণে তা সম্ভব হয়নি। সে সময় এ বিষয়ে সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষ দূত লুতফে সিদ্দিকী ও প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বেশ তৎপর ছিলেন। আদালতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এখন আবার আদালত রায় দিচ্ছে। বিস্ময়কয় লাগে—সরকারের ইচ্ছা যেন আদালত বুঝে ফেলে এবং সে অনুযায়ী রায় দেয়। জানি না এটি কোন আইনি প্রক্রিয়ায় ঘটে।” তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেভাবে চুক্তি হয়েছে, তাতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ধস নামতে পারে এবং নতুন করে ভয়াবহ বেকারত্ব তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশের জিডিপির তুলনায় কর বাড়ানো জরুরি হলেও এই চুক্তির ফলে কর কমতে পারে, যার প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর।

ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, মানবাধিকার রক্ষায় ইউরোপ কোনও কার্যকর ভূমিকা রাখেনি। ইরানের ওপর হামলার ঘটনায়ও তারা কোনও নিন্দা জানায়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে চীন বা রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পর্ক রাখবে কি না— সেটিও যেন যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করছে। বৈশ্বিক সংকটে জাতিসংঘেরও কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। এতে ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার ভয়ংকর চেহারা ফুটে উঠছে। তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে বলেছেন, সবার আগে বাংলাদেশ। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র। আমাদের দাবি, এ বাণিজ্য চুক্তিতে যারা সই করেছে তাদের বিচার করতে হবে।” তিনি বলেন, সংসদে আলোচনা ছাড়া কোনও চুক্তি করা উচিত নয়। বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান চুক্তিটিকে ভালো বলছেন, কিন্তু সরকারের উচিত এ চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। অন্যথায় ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানটি কেবল বাগাড়ম্বর হয়ে থাকবে। জাতীয় সক্ষমতা বাড়াতে সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বানও জানান তিনি।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :