ঈদ বাজারে দামের অস্বস্তি

ব্রয়লারে আগুন: কেজি ২৩০

আপলোড সময় : ১৩-০৩-২০২৬ ০৩:২৬:১৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৩-০৩-২০২৬ ০৬:০৭:৫৬ অপরাহ্ন
পবিত্র রমজান মাস শেষের দিকে। আর মাত্র কয়েকদিন পরই ঈদুল ফিতর। ঈদকে কেন্দ্র করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বিশেষ করে মাছ, মাংস ও ডিমের দাম বাড়তে শুরু করেছে। মাছের মধ্যে ইলিশের দাম কেজিতে প্রায় ২০০ টাকা বেড়েছে। ডিমের ডজনে বেড়েছে ১০ টাকা এবং মাংসের মধ্যে দেশি, পাকিস্তানি ও পোল্ট্রি মুরগির দাম আগের তুলনায় কেজিপ্রতি ৫০ টাকার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার এখন ২২০-২৩০ টাকা। গরুর মাংসও ৮০০ টাকার নিচে নামছে না; কোথাও কোথাও বিক্রি হচ্ছে ৮২০ টাকায়। ঈদকে সামনে সামনে রেখে জিনিসপত্রের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

দেখা গেছে, এ সপ্তাহে বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে। বেগুন বিক্রি হচ্ছে কেজি ৬০ টাকা দরে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় ২০ টাকা কম। করলা ছাড়া প্রায় অধিকাংশ সবজি ৬০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া আলু ১৫-২০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৩০-৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগে মাছের দামও ঊর্ধ্বমুখী। রুই ও কাতলা মাছের দাম কেজিপ্রতি ৩০-৪০ টাকা বেড়ে এখন ২৮০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক সপ্তাহ আগেও ছিল ২৪০-২৫০ টাকা। এছাড়া ইলিশ মাছের দাম কেজিতে প্রায় ২০০ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন রায়সাহেব বাজারের এক মাছ বিক্রেতা। তিনি জানান, বড় আকারের ইলিশ ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি এবং মাঝারি আকারের ইলিশ ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে তিনি বলেন, নদীতে মাছের সরবরাহ কম। এ জন্য দাম বেড়েছে, সামনে আরও বাড়তে পারে। আরেক মাছ ব্যবসায়ী জানান, প্রায় সব মাছের দামই কেজিপ্রতি ১৫-২০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে তেলাপিয়া মাছ কেজি ২২০ টাকা, ছোট রুই ২৬০ টাকা, বড় রুই ৩২০ টাকা, বড় পাঙাশ ২২০ টাকা এবং ছোট পাঙাশ ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

আজ বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২২০-২৩০ টাকা এবং সোনালি ও লেয়ার মুরগি ৩৩০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, গত সপ্তাহেও ব্রয়লার মুরগির কেজি ছিল ১৭০-১৮০ টাকা। সোনালি মুরগি বিক্রি হতো ২৮০-৩০০ টাকায় এবং লেয়ার মুরগি ছিল ২৭০-২৯০ টাকা কেজি। অন্যদিকে বর্তমানে দেশি মুরগি কেজিপ্রতি ৬৫০-৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ৬০০-৬২০ টাকা। রায়সাহেব বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী জাহিদ বলেন, “ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে বাজারে মুরগির চাহিদা বাড়ে। সেই সঙ্গে বাড়ে দামও। এ বছরও ঈদ সামনে রেখে মুরগির বাজার চড়া। গত এক সপ্তাহ ধরে বাজারে মুরগির দাম বাড়ছে।”

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম নিম্নমুখী থাকলেও বর্তমানে তা কিছুটা বেড়েছে। এখন এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি ডজনে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। রমজান শেষের দিকে হওয়ায় বাজারে ছোলা ও ডালের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা কমে বিক্রি হতে দেখা গেছে। চিনির দামও আগের মতো ১০০-১১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গরু ও ছাগলের মাংসের দাম আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও ঈদের আগে তা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। পুরান ঢাকার এক মাংস ব্যবসায়ী বলেন, “গরুর মাংস এখনো ৮৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি। তবে গরুর সরবরাহ কম থাকায় ঈদের আগে দাম বাড়তে পারে।”

এদিকে কিছুদিন আগে বাজারে ভোজ্যতেলের সংকট থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। তবে পুরোপুরি সংকট কাটেনি। এক দোকানে না পেলেও অন্য দোকানে ঘুরে ক্রেতারা তেল পাচ্ছেন। বর্তমানে প্রতি লিটার বোতলজাত তেল ১৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য মুদিপণ্যের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। রায়সাহেব বাজারের কয়েকটি মুদির দোকানে সাধারণ মানের আটাশ চাল কেজি ৬৫ টাকা এবং মিনিকেট চাল ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের নাজিরশাইল চাল কিনতে কেজি প্রতি গুনতে হচ্ছে ৮৬ টাকা। এছাড়া সুগন্ধি চিনিগুড়া চালের দাম কেজি প্রতি ১৪৫ টাকা। ডালের বাজারে মসুর ডাল ১৫৫ টাকা, মুগ ডাল ১৭৫ টাকা এবং বুটের ডাল ১১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

মসলার বাজারে বেশ চড়া দাম লক্ষ করা গেছে। প্রতি কেজি এলাচ ৩ হাজার ২০০ টাকা, লবঙ্গ ১  হাজার ৬০০ টাকা এবং জিরা ৬৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শুকনো মরিচ ২৮০ টাকা, হলুদ ৩০০ টাকা এবং আদা ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রান্নার অপরিহার্য উপাদান চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা কেজিতে এবং রসুন ২২০ টাকা কেজিতে। সাধারণ আটা ও ময়দা যথাক্রমে ৪৫ ও ৫৫ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ১২৫ গ্রাম স্যাভলন সাবানের খুচরামূল্য রাখা হচ্ছে ৭৫ টাকা।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :