সমঝোতা করে চলতে না পারাই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে: আসিফ মাহমুদ

আপলোড সময় : ০৭-০৩-২০২৬ ১১:৩৮:০৩ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৭-০৩-২০২৬ ১১:৩৮:০৩ পূর্বাহ্ন
সমঝোতা করে চলতে না পারাই নিজের এবং আশপাশের সকলের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। শনিবার (৭ মার্চ) ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ লেখেন, আমার মানিয়ে কিংবা সমঝোতা করে চলতে না পারার ক্যারেক্টারটাই নিজের এবং আশপাশে যারা থাকে সকলের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। আজ ১১ মাসের অনুসন্ধানের পর কোনো প্রমাণ না পেয়ে মোয়াজ্জেমকে নিষ্পত্তি দিয়েছে দুদক। অথচ এই ১১ মাসে কয়েক হাজার নিউজ, ন্যারেটিভ ছড়িয়ে তার এবং তার পরিবারের জীবন দুঃসহ করে তোলা হয়েছিল।

আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টা থাকাকালীন তার ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) ছিলেন মোয়াজ্জেম হোসেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায়ও মোয়াজ্জেম হোসেন চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা নিতে দেশের বাইরে যেতে পারেননি বলে দাবি করেন আসিফ। তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া ও মিডিয়ার হ্যারাসমেন্টে কয়েকবার আত্মহত্যা চেষ্টার কথাও পরিবার এবং বন্ধুদের কাছ থেকে জেনেছি। সত্য আজ হোক, কাল হোক সামনে আসেই। কিন্তু এখানেও মিডিয়ায় মিথ্যার মতো জোরেশোরে প্রচার পায় না।

মিডিয়ার ন্যারেটিভ দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই দেশে মিডিয়া দিয়ে এতিমের টাকা মেরে খাওয়ার ন্যারেটিভ উৎপাদন করে কোনোরকম প্রমাণ ছাড়াই খালেদা জিয়াকে জেল বন্দি করে রাখা হয়েছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান না হলে হয়তো জেলবন্দি অবস্থাতেই তাকে হারাতাম আমরা। যে দেশে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে এমন আচরণ করা যায়, সেখানে আমরা কি জিনিস?

তিনি লেখেন, যখন কোনো বৈধ উপায়ে কাউকে দমন করা যায় না। কোনো ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ হাতে থাকে না, তখন এই মিডিয়া ট্রায়াল এবং ন্যারেটিভ নির্মাণের পথ বেছে নেওয়া হয়। গোয়েবলসের সূত্রের মতো মিথ্যাটাই এতবার আপনাকে দেখানো এবং শোনানো হবে যে আপনি সেটা বিশ্বাস করে ফেলবেন কিংবা সন্দেহে পড়ে যাবেন। ফলে ওই মিথ্যার ভিত্তিতেই যে কাউকে নিপীড়ন করা এক ধরনের বৈধতা পেয়ে যাবে।

সমঝোতা করে চললে এর কিছুই ঘটত না বলে দাবি করেন সাবেক এই উপদেষ্টা। তিনি লেখেন, যদি আমি সরকারের সিদ্ধান্ত ও আইনি জটিলতা উপেক্ষা করে সমঝোতা করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে শপথ পড়াতাম। যদি খুনি, ফাঁসির আসামি শেখ হাসিনাকে সেলিব্রেট করা ফ্যাসিস্ট এমপি সাকিব আল হাসানকে সাদরে দেশে নিয়ে আসতাম। যদি তাদের কথামতো শাপলা চত্বর আর মোদিবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের স্বীকৃতি না দিতাম। যদি বিসিবিতে অবৈধভাবে সিন্ডিকেটের (বিশাল ৭ নেতার ৭ ছেলেসহ) কমিটিকে বসাতাম। যদি আওয়ামী লীগের নির্বাচন করার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়াতাম। যদি স্টাবিলিশমেন্টের ক্ষমতার লোভকে সায় দিয়ে গণতন্ত্র ধূলিস্যাৎ হতে দিতাম। যদি তাদের বাধা স্বত্বেও ফেলানী সড়কের নামকরণ না করতাম। যদি কুমিল্লার মুরাদনগরে আমার জন্ম না হতো।

নীতির ওপর অটল থেকেছেন উল্লেখ করে তিনি লেখেন, এমন আরও কয়েক শ’ কারণ দেওয়া যাবে, যেখানে সমঝোতা করিনি। নীতির ওপর অটল থেকেছি। শক্তিশালী প্লেয়ারদের সঙ্গে সমঝোতা করে ফেললেই খুব আরামে থাকা যেত। কেউ জ্বালাতন করত না, বরং তারাই দায়িত্ব নিয়ে আমি কোনো অপকর্ম করলেও তা ধামাচাপ দিত। নিত্যদিন চোথা পাঠিয়ে নিউজ করে চরিত্রহনন করত না।পোস্টের শেষে আসিফ মাহমুদ লেখেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভালো মানুষ এসেও খারাপ হয়ে যায় ঠিক এই কারণেই। শক্তিধরদের সঙ্গে সমঝোতা না করে, তাদের এজেন্ডায় পরিচালিত না হয়ে এখানে বেঁচে থাকাও কঠিন।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :