​জাহাজভাঙা শিল্পে ১৭৯ দুর্ঘটনায় ৩৮ শ্রমিক নিহত

আপলোড সময় : ১৮-০১-২০২৬ ০১:১২:০১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-০১-২০২৬ ০১:১২:০১ অপরাহ্ন
দুর্ঘটনা কমছে না চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড কিংবা জাহাজভাঙা শিল্পে। মৃত্যৃঝুঁকি নিয়েই কাজ করছেন এই এখানকার শ্রমিকরা। গত পাঁচ বছরে এই শিল্পে ১৭৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৩৮ জন নিহত এবং ১৮৮ জন আহত হয়েছেন। একসময় ১৬০টি ছোট-বড় শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড থাকলেও বর্তমানে তা কমে ২৩টিতে ঠেকেছে। চালু থাকা ২৩টি ইয়ার্ড গ্রিন হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিলস ডিটিডিএ প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে জাহাজভাঙা শিল্পে ৩৮ জন নিহতসহ আহত হয়েছেন ১৮৮ জন। এর মধ্যে ২০২৫ সালে ৪৮টি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনা ঘটে। এতে চার জন নিহত এবং ৫৪ জন আহত হন। ২০২৪ সালে ২৮টি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ৭ জন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হন। ২০২৩ সালে  ৩৪টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন। ২০২২ সালে ২২টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন আহত ও ৭ জন নিহত হন। ২০২১ সালে শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ৪৭টি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ১৩ জন নিহত এবং ৪৪ জন আহত হন। 

জাহাজভাঙা শিল্পে কর্মরত কয়েকজন শ্রমিক জানান, সেখানে নানাভাবে শ্রমিক আহত-নিহতের ঘটনা ঘটছে। গত ৫ জানুয়ারি ‘কেআর গ্রিন শিপইয়ার্ড’ নামে একটি জাহাজভাঙা কারখানার দুই শ্রমিক নিহত হন। তারা ওই কারখানার নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। তাদের মৃত্যুর কারণ এখনও উদ্ঘাটন হয়নি। এ ছাড়াও কাজ করার সময় রাডার ভেঙে পড়া, ম্যাগনেটের হুক লাগাতে গিয়ে আহত, অগ্নি দুর্ঘটনা, ভারী লোহার খণ্ড পড়া, অক্সিজেন টিউবের জয়েন্ট বিস্ফোরণ, জাহাজ কাটার সময় আগুনের ফুল্কি ছিটকে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) সহকারী সচিব নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘একসময় ছোট-বড় প্রায় ১৬০টি ইয়ার্ড ছিল। বর্তমানে আমাদের হালনাগাদ সদস্য আছেন ৮৫ জন। এর মধ্যে ২৩টি আছে গ্রিন শিপইয়ার্ড। বাকিগুলো সনাতন। বর্তমানে গ্রিন শিপইয়ার্ডগুলো চালু আছে।’

দিন দিন শিপইয়ার্ড কমে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশি বাজারে দামে সঙ্গতি না থাকা। আর্থিক সমস্যাসহ নানাবিধ কারণে শিপইয়ার্ড কমে গেছে। বর্তমানে সবকটি শিপ ইয়ার্ডে অন্তত ২০ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। গ্রিন শিপ ইয়ার্ডগুলোতে শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ ভালো। এসব ইয়ার্ডে আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতি মেনেই শ্রমিকরা কাজ করেন।’এ প্রসঙ্গে জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের আহ্বায়ক তপন দত্ত বলেন, ‘ঝুঁকি নিয়ে জাহাজভাঙা শিল্পে শ্রমিকরা কাজ করছেন। এখনও এ খাতে সরকার ঘোষিত মজুরি শ্রমিকদের দেওয়া হয় না। এখানে শ্রমিকদের নিয়মের চেয়ে বেশি কাজ করানো হচ্ছে। অথচ কাজ অনুযায়ী শ্রমিকরা নির্ধারিত মজুরি পাচ্ছেন না। বিষয়টি কল-কারখানা পরিদর্শন অধিদফতরকে অবহিত করেছি।’তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামে একসময় ১৬০টি ছোট-বড় ইয়ার্ড ছিল। বর্তমানে ২০ থেকে ২৫টি গ্রিন ইয়ার্ড চালু আছে। এসব ইয়ার্ডে গত বছর ২০২৫ সালে ছোট-বড় ৪৮টি দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় ৫৪ জন আহত হয়েছেন। এ খাতের শ্রমিকরা মারা গেলে পরিবারকে দেওয়া হচ্ছে ৭ লাখ টাকা। আহত হয়ে পঙ্গু হলে দেওয়া হয় আড়াই লাখ টাকা।’

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :