দীর্ঘ ১৬ ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছায়াসঙ্গী হিসেবে ছিলেন গৃহকর্মী ফাতেমা। ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ, গৃহবন্দি জীবন এবং এভারকেয়ার হাসপাতালে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তে খালেদা জিয়ার পাশে ছিলেন তিনি। তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মী নন, কোনো দলীয় পদও নেই। তবু ইতিহাসের কঠিন মুহূর্তগুলোয় তার উপস্থিতি ছিল অবিচ্ছেদ্য।
ফাতেমার জন্ম ভোলার সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের শাহ-মাদার গ্রামে। রফিকুল ইসলাম ও মালেকা বেগম দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি সবার বড়। একই ইউনিয়নের কৃষক হারুন লাহাড়ির সঙ্গে বিয়ের পর সংসার বাঁধেন। ঘরে আসে মেয়ে জাকিয়া ইসলাম রিয়া ও ছেলে মো. রিফাত। ছেলের বয়স তখন মাত্র দুই বছর, ঠিক সেই সময় ২০০৮ সালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান তার স্বামী। এরপর ছোট দুই সন্তান নিয়ে তিনি ফিরে যান বাবা-মায়ের ঘরে। মুদি দোকানি বাবা সামান্য আয় দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। তখন সন্তানদের গ্রামে রেখে কাজের খোঁজে ঢাকায় পাড়ি জমান তিনি।
২০০৯ সালে পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি কাজ পান খালেদা জিয়ার বাসভবনে। সেখান থেকেই শুরু হয় এক দীর্ঘ সহযাত্রা। রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এক নারীর দৈনন্দিন জীবনের নীরব সাক্ষী হয়ে ওঠেন তিনি।
২০১৪ সালের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিকে ঘিরে প্রথমে নজরে আসেন ফাতেমা। গুলশানের বাসার সামনে বালুভর্তি ট্রাক দিয়ে পথরুদ্ধ, গাড়িতে উঠেও বেরোতে পারেননি। ফিরোজার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলছেন খালেদা জিয়া। পুলিশের চাপে শরীরের ভার সামলাতে পারছেন না। ঠিক তখন দৃশ্যপটে ফাতেমা, শক্ত করে ধরে রেখেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর হাত। ক্যামেরার ফ্রেমে ধরা পড়ে সেই মুহূর্ত। তখন থেকেই সবার নজরে আসেন তিনি।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আদালতের রায়ে খালেদা জিয়া কারাগারে যান। সেই সময় তার আইনজীবীরা আবেদন করেন গৃহকর্মী ফাতেমা যেন তার সঙ্গে থাকতে পারেন। আদালতের অনুমতিতে ছয় দিন পর ফাতেমা যান কারাগারে। রাজনৈতিক কোনো পরিচয় ছাড়াই স্বেচ্ছায় হন কারাবন্দি তিনি। কারণ, তিনি জানতেন, এই সময়ে একা থাকা মানে ভেঙে পড়া।
রাজনীতির ইতিহাসে বহু নাম উচ্চারিত হয় নেতা, আন্দোলন, ক্ষমতা, কারাগার। কিন্তু সেই ইতিহাসের আড়ালে থেকে যায় কিছু নীরব মুখ। খালেদা জিয়ার জীবনে সেই ছায়াসঙ্গীর নাম ফাতেমা বেগম।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
ফাতেমার জন্ম ভোলার সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের শাহ-মাদার গ্রামে। রফিকুল ইসলাম ও মালেকা বেগম দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি সবার বড়। একই ইউনিয়নের কৃষক হারুন লাহাড়ির সঙ্গে বিয়ের পর সংসার বাঁধেন। ঘরে আসে মেয়ে জাকিয়া ইসলাম রিয়া ও ছেলে মো. রিফাত। ছেলের বয়স তখন মাত্র দুই বছর, ঠিক সেই সময় ২০০৮ সালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান তার স্বামী। এরপর ছোট দুই সন্তান নিয়ে তিনি ফিরে যান বাবা-মায়ের ঘরে। মুদি দোকানি বাবা সামান্য আয় দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। তখন সন্তানদের গ্রামে রেখে কাজের খোঁজে ঢাকায় পাড়ি জমান তিনি।
২০০৯ সালে পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি কাজ পান খালেদা জিয়ার বাসভবনে। সেখান থেকেই শুরু হয় এক দীর্ঘ সহযাত্রা। রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এক নারীর দৈনন্দিন জীবনের নীরব সাক্ষী হয়ে ওঠেন তিনি।
২০১৪ সালের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিকে ঘিরে প্রথমে নজরে আসেন ফাতেমা। গুলশানের বাসার সামনে বালুভর্তি ট্রাক দিয়ে পথরুদ্ধ, গাড়িতে উঠেও বেরোতে পারেননি। ফিরোজার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলছেন খালেদা জিয়া। পুলিশের চাপে শরীরের ভার সামলাতে পারছেন না। ঠিক তখন দৃশ্যপটে ফাতেমা, শক্ত করে ধরে রেখেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর হাত। ক্যামেরার ফ্রেমে ধরা পড়ে সেই মুহূর্ত। তখন থেকেই সবার নজরে আসেন তিনি।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আদালতের রায়ে খালেদা জিয়া কারাগারে যান। সেই সময় তার আইনজীবীরা আবেদন করেন গৃহকর্মী ফাতেমা যেন তার সঙ্গে থাকতে পারেন। আদালতের অনুমতিতে ছয় দিন পর ফাতেমা যান কারাগারে। রাজনৈতিক কোনো পরিচয় ছাড়াই স্বেচ্ছায় হন কারাবন্দি তিনি। কারণ, তিনি জানতেন, এই সময়ে একা থাকা মানে ভেঙে পড়া।
রাজনীতির ইতিহাসে বহু নাম উচ্চারিত হয় নেতা, আন্দোলন, ক্ষমতা, কারাগার। কিন্তু সেই ইতিহাসের আড়ালে থেকে যায় কিছু নীরব মুখ। খালেদা জিয়ার জীবনে সেই ছায়াসঙ্গীর নাম ফাতেমা বেগম।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে