​ভূমিকম্প: ঢাবি হলগুলো ‘কাঠামোগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ নয়’

আপলোড সময় : ২২-১২-২০২৫ ০৮:৩৭:১৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২২-১২-২০২৫ ০৮:৫১:১৬ অপরাহ্ন
গত ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো পরীক্ষা করে ‘কোনো ভবন কাঠামোগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ নয়’ বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও ভূমিকম্প-পরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ ভবন তদারকি কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে অধ্যাপক আবদুল মতিন ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। আবাসিক হলগুলোর সংস্কার কার্যক্রম এবং বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত কমিটির প্রতিবেদন সম্পর্কে তিনি সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'আমাদের কোনো হল বসবাসের অনুপযুক্ত বা থাকা যাবে না–এরকম মন্তব্য বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনে করা হয়নি। আমাদের যে হলগুলো আছে, সেখানে শিক্ষার্থীরা থাকতে পারবে।'

তিনি বলেন, গত ২১ নভেম্বর ভূমিকম্প-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য চারটি কারিগরি সাব-কমিটি করা হয়। প্রতিটি কমিটিতে বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের একজন করে অধ্যাপক ছিলেন। এসব কমিটির প্রতিবেদনে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি—এই তিন ধরনের সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

কোষাধ্যক্ষ জানান, চারটি কমিটির সুপারিশের আলোকে মোট ১৯টি কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে শামসুন্নাহার হলের ওয়াশরুম ব্লকগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শামসুন্নাহার হলের ক্ষতিগ্রস্ত ওয়াশরুম ব্লকের ওভারহেড পানির ট্যাংক খালি করে জরুরি ভিত্তিতে প্লাস্টিকের পানির ট্যাংক স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের একটি অংশ ‘ভালনারেবল’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ওই হলের ক্ষতিগ্রস্ত স্টিল প্রপের মেরামতকাজ দুয়েক দিনের মধ্যে শুরু হবে।

অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতিবেদনে কয়েকটি হলে ‘ডিটেইলড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট (ডিইএ)’ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় কমপক্ষে তিন মাস সময় লাগে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ডিইএ সম্পন্ন হলে দীর্ঘমেয়াদে কী ধরনের কাজ প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা যাবে।

তিনি জানান, এরই মধ্যে তিনটি হলে মেরামতকাজ ‘প্রায় সম্পন্ন’ হয়েছে। হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের মোট ১৭৫টি কক্ষের মধ্যে ১৬৭টি কক্ষ, সূর্যসেন হলের ১৪১টি কক্ষের সবগুলো এবং মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের ১২১টি কক্ষের সবগুলোর মেরামত কাজ শেষ হয়েছে।

গত ২১ নভেম্বর দেশে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের সময় ঢাকা বিশ্বাবদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীদের লাফিয়ে পড়ে আহত হওয়ার খবর আসে। পরদিন আরও তিন দফা ভূমিকম্পে আতঙ্ক আরও বাড়ে।

এ অবস্থায় ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পরিদর্শন ও মেরামতের লক্ষ্যে গত ২২ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষাকার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। সে সময় শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

পরে ৬ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত শীতকালীন ছুটিও বহাল রাখা হয়। সে অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ক্লাস শুরু হবে ২৮ ডিসেম্বর। সেদিন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :