এক বছরে ৩৪০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

মৃত্যুদণ্ডে নতুন রেকর্ড সৌদির

আপলোড সময় : ১৭-১২-২০২৫ ১২:৪৬:০৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৭-১২-২০২৫ ১২:৪৬:০৯ অপরাহ্ন
এক বছরে সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রেকর্ড গড়েছে সৌদি আরব। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশটিতে ৩৪০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে এক বছরে এত বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নজির এর আগে দেখা যায়নি। অনেক ক্ষেত্রে ত্রুটিপূর্ণ বিচারপ্রক্রিয়ার পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে সৌদির বিরুদ্ধে।

সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই বলছে, এএফপির হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে এক বছরে সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে নিজেরই আগের রেকর্ড ভেঙেছে সৌদি আরব। গত সোমবার সৌদি কর্তৃপক্ষ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা জানানোর পর ৩৪০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সর্বশেষ এ সংখ্যা সামনে আসে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মক্কায় খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত তিন ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

চলতি বছরের এই সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় দুই জন বেশি। সে বছর এএফপির হিসাবে ৩৩৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। আর সেই সংখ্যা তখনও ছিল এক বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড। তবে মানবাধিকার সংগঠন আলক্বস্ত, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও রিপ্রিভের হিসাব অনুযায়ী ২০২৪ সালে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা ছিল ৩৪৫।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন আলক্বস্তের প্রতিনিধি নাদিন আবদুলআজিজ বলেন, গত বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে এগোচ্ছে, তা জীবনের অধিকারকে উপেক্ষা করার স্পষ্ট উদাহরণ এবং জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের বারবার করা আহ্বানকে অবজ্ঞা করারই প্রমাণ। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ত্রুটিপূর্ণ বিচারপ্রক্রিয়ার পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। নির্যাতনের মাধ্যমে আদায় করা স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে রায় দেয়া হয়েছে, এমনকি অভিযুক্ত অপরাধের সময় যারা অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিল, তাদেরও মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।

এদিকে চলতি বছরে কার্যকর হওয়া মৃত্যুদণ্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ২৩২টি মাদকসংক্রান্ত মামলার রায় কার্যকর হয়েছে। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদের অভিযোগেও বেশ কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে, যদিও সৌদি আরবে সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা বেশ বিস্তৃত ও অনেক ক্ষেত্রে অস্পষ্ট। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এসব মৃত্যুদণ্ডের অনেকগুলোই আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কেবল ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের মতো ‘সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের’ ক্ষেত্রেই মৃত্যুদণ্ডের অনুমতি রয়েছে। ২০২২ সালের শেষ দিকে প্রায় তিন বছর স্থগিত থাকার পর মাদকসংক্রান্ত অপরাধে আবারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর শুরু করে সৌদি আরব। এরপর থেকে যাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে, তাদের বড় একটি অংশই বিদেশি নাগরিক।

সংবাদমাধ্যম বলছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সৌদি আরব এমন দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে, যারা তাদের করা অপরাধের সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিল। আর এটি আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, অপরাধের সময় বয়স ১৮ বছরের নিচে হলে কারও মৃত্যুদণ্ড দেয়া নিষিদ্ধ। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের স্বাক্ষরকারী দেশ সৌদি আরবও এই বিধানের আওতাভুক্ত। বিশ্বব্যাপী সমালোচনার মুখে ২০২০ সালে সৌদি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছিল, শিশু অপরাধীদের ক্ষেত্রে বিচারকদের মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ক্ষমতা বাতিল করা হবে। দেশটির মানবাধিকার কমিশন তখন জানায়, এ বিষয়ে একটি রাজকীয় আদেশ জারি হয়েছে। তবে সেই ঘোষণার পরও অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

আলক্বস্ত জানিয়েছে, আরও পাঁচজন শিশু অপরাধী বর্তমানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঝুঁকিতে রয়েছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪— টানা তিন বছর বিশ্বে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দেশের তালিকায় সৌদি আরব ছিল তৃতীয় অবস্থানে। এ তালিকায় সৌদি আরবের আগে রয়েছে চীন ও ইরান।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন  

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :