​চট্টগ্রাম বন্দরের ৩ প্রবেশপথে স্কপের অবরোধ

আপলোড সময় : ২৬-১১-২০২৫ ১২:০২:২৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৬-১১-২০২৫ ১২:০২:২৭ অপরাহ্ন
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ (এনসিটি) বিভিন্ন স্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরের তিনটি প্রবেশপথে অবরোধ করেছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকালে থেকে পূর্বঘোষিত এই অবরোধ কর্মসূচিতে অবস্থান নিয়েছেন তারা।

এদিকে,  চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখী সকল প্রবেশপথে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) ডাকা অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সতর্ক অবস্থায় আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নগর পুলিশের কর্মকর্তারা বলেছেন, বন্দরের কাজে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে ছাড় দেয়া হবে না। সোমবার (২৪ নভেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্কপ নেতারা মাইলের মাথা (সীমেন্স হোস্টেল), টোল রোডের টোলপ্লাজা গেট এবং বড় পোলে এ কর্মসূচি পালনের কথা জানান। বন্দরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রকৌশল কমডোর কাওছার রশিদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন স্কপ নেতা ও চট্টগ্রাম জেলা ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, এসকে খোদা তোতন প্রমুখ।

স্কপের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বন্দর কর্তৃপক্ষ এনসিটি টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেয়ার প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা ব্যাখ্যা করে জানান যে, বন্দরের চেয়ারম্যান বর্তমানে ছুটিতে থাকায় নভেম্বরে কোনো ধরনের চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তা ছাড়া ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন তফসিল ঘোষণা হলে বর্তমান সরকারের পক্ষে এমন চুক্তি করার সুযোগও আর থাকবে না। তাই তড়িঘড়ি করে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি এগিয়ে নেয়ার কোনো পরিস্থিতি নেই। 

স্কপ নেতারা এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন যে, লালদিয়ার চর ও পানগাঁও ইজারা দেয়ার দিন বিডার প্রধান নির্বাহী আশিক চৌধুরী সাত দিনের মধ্যে এনসিটির চুক্তি হবে বলে যে মন্তব্য করেছিলেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের মতে, একটি অন্তর্বর্তী সরকারের এ ধরনের কৌশলগত চুক্তি করার নৈতিক কিংবা আইনি অধিকার নেই।  তারা আরও জানান, স্কপ গত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে আসছে এবং এতে এখন দেশের শ্রমিক সমাজ, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ যুক্ত হয়েছে। ফলে স্কপ এখন একতরফাভাবে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াতে পারে না।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া চরে টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৩৩ বছরের চুক্তি করেছে সরকার। এই মেয়াদ আরও ১৫ বছর বাড়ানোর সুযোগ আছে চুক্তিতে। একইদিন কেরাণীগঞ্জের পানগাঁও নৌ-টার্মিনাল ২২ বছর মেয়াদে পরিচালনার জন্য সুইজারল্যান্ডের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এছাড়া, বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালও (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্ত আছে সরকারের।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :