​উত্তরে বন্যার শঙ্কা

তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই

আপলোড সময় : ০৫-১০-২০২৫ ০৪:০৬:৩৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৫-১০-২০২৫ ০৫:৩৬:০৯ অপরাহ্ন
দেশের উত্তরের নদ–নদীগুলোর পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও কুড়িগ্রাম অঞ্চলে সাময়িক বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারসহ বিভিন্ন নদীর পানি আগামী দুই দিনে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যেই তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে।

রোববার (৫ অক্টোবর) বিকেলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৩টার দিকে তিস্তার পানি সমতল রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৪ মিটার, যা বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচে। বাড়তি পানির চাপ সামাল দিতে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। ফলে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলোতে নদীভাঙন ও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলা এবং লালমনিরহাটের তীরবর্তী ইউনিয়নগুলোতে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ার শঙ্কায় রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের দার্জিলিং ও কালিম্পং অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢল নেমে এসেছে। তার প্রভাবে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমারসহ বেশ কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলেছে, দেশের ভেতরে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশেও টানা বর্ষণ চলছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে।

রংপুর বিভাগের আরও কয়েকটি নদী—যেমন করতোয়া, যমুনেশ্বরী, পুনর্ভবা, টাঙ্গন, আত্রাই, আপার-আত্রাই, মহানন্দা ও ঘাঘটের পানিও বাড়ছে। এসব নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই দিন পর বৃষ্টি কমে এলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, ‘‘তিস্তা ও অন্যান্য নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে মূলত হঠাৎ বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে। এতে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে বৃষ্টি কমে গেলে দ্রুতই পানি নামতে শুরু করবে।’’

তিস্তা তীরের মানুষ এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, ‘‘তিস্তা নদীর পানি বাড়লেই আমাদের সব কিছু পানিতে তলিয়ে যায়। এবারও মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’’
 
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :