দেশজুড়ে নেমেছে বিদ্যুতের ভয়াবহ সংকট। বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, কয়লার ঘাটতি ও আমদানি নির্ভরতার কারণে দেশের বিদ্যুৎ খাত এখন গভীর খাদে। জ্বালানি ঘাটতি ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বেশ কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে দিনে দেড় হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত মানুষ পড়েছে তীব্র ভোগান্তিতে। শুধু গৃহস্থালি কাজকর্মে ভোগান্তি নয়, শিক্ষার্থী ও জনসাধারণের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডও ব্যাহত হচ্ছে। প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনেও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে বিকল্প জ্বালানির উন্নয়ন ছাড়া এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এরই মধ্যে গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই অন্ধকার যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে।
দিনে ঘাটতি দেড় হাজার মেগাওয়াট
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে হঠাৎ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদা বর্তমানে ১৬ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট, কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৪ হাজার ৫৬৯ মেগাওয়াট। অর্থাৎ দিনে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এই ঘাটতি মূলত বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটি এবং কয়লার অভাবের কারণে।
মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। অন্য ইউনিট আংশিক চালু থাকলেও সেখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে সক্ষম হচ্ছে না। পটুয়াখালী ও রামপাল কেন্দ্র থেকেও পর্যাপ্ত কয়লার সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন কম। ভারতের আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহও অর্ধেকে নেমেছে।
তবে সমস্যার মাত্রা শুধু রাজধানী বা শহরেই সীমাবদ্ধ নয়। গ্রামীণ বিদ্যুৎ গ্রাহকরা আরও বড় ভোগান্তিতে পড়ছেন। ঢাকা বিভাগের গ্রামাঞ্চলে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা প্রায় ৫ শতাংশ কম। ময়মনসিংহে লোডশেডিং ১৪%, সিলেটে ১৮%, রংপুরে ১২%, কুমিল্লায় ১৪% এবং পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ।
বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞরা বলছেন,“বর্তমান ঘাটতি হঠাৎ নয়। দীর্ঘদিন ধরে আমদানি নির্ভরতার কারণে উৎপাদন চাহিদার সঙ্গে মিলছে না। দেড় হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি সাময়িক হলেও এর প্রভাব নগর-গ্রাম, শিল্প ও শিক্ষা প্রতিটি ক্ষেত্রে পড়ছে।” এছাড়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এ ধরণের ঘাটতি নিয়মিত হতে থাকলে শুধু গৃহস্থালি বা ব্যবসা নয়, শিল্পকারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানও স্থবির হয়ে পড়বে। ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ভাঙচুরের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) তথ্যমতে, মঙ্গলবার রাত ১১টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ১৪ হাজার ৫৬৯ মেগাওয়াট। ওই সময়ে লোডশেডিং হয় ১ হাজার ৬৫৩ মেগাওয়াট। মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট সম্পূর্ণ বন্ধ এবং আরেকটি আংশিক উৎপাদনে আছে। রামপাল ও পটুয়াখালী কেন্দ্র থেকেও কয়লার ঘাটতির কারণে চাহিদামতো বিদ্যুৎ আসছে না। ভারতের আদানি বিদ্যুৎ সরবরাহও অর্ধেকে নেমে এসেছে।
অন্ধকারে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা
রাজধানী ঢাকায় লোডশেডিং আরও তীব্র আকার নিয়েছে। দক্ষিণ বনশ্রী, পূর্ব মাদারটেক, নন্দীপাড়া, গোড়ান, মুগদা, শাহজাহানপুর, মানিকনগর, যাত্রাবাড়ী, কেরানীগঞ্জ, লালবাগ, আদাবর, মোহাম্মদপুর, পল্টন, তেজগাঁও, উত্তরা, খিলগাঁও, ধানমন্ডি ও কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ এলাকাতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে দৈনন্দিন জীবন চরম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার রাতেও ফ্ল্যাশলাইট বা জেনারেটর ছাড়া কাজ করতে পারছে না। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারছে না, অফিসকারীরা অনলাইন মিটিং ও কম্পিউটার কাজ করতে পারছে না।
রাসেল নামে একজন শিক্ষার্থী জানালেন,“লোডশেডিংয়ের কারণে রাতের পড়াশোনা করতে পারছি না। পরীক্ষার সময় বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।”গৃহিণী সাজেদা খানম বলেন, “রাতের রান্না করা যায় না। ফ্রিজের খাবার নষ্ট হচ্ছে। বাচ্চাদের জন্য গরমের সময় ঘরে কোনো সান্ত্বনা নেই।” প্রাইভেট অফিস কর্মী রাশেদুল হক বলেন,“অনলাইন ডকুমেন্ট পাঠাতে সমস্যা হচ্ছে। ল্যাপটপ চালাতে পারছি না। দিনের বেলায়ও বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে।”
বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন,“রাজধানীর বড় বড় এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের পেছনে রয়েছে কেবল উৎপাদন কমে যাওয়াই নয়, বরং সঠিকভাবে চাহিদা অনুযায়ী বিতরণ লাইন ও সাব-স্টেশনের সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের অভাবও।”
হঠাৎ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অন্যতম প্রধান কারণ হলো কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, এই কেন্দ্রগুলোতে যান্ত্রিক ত্রুটি ও কয়লার ঘাটতি মিলিতভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধের মূল কারণ। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ স্বাভাবিকের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে।
মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের একটি ইউনিট সম্পূর্ণ বন্ধ, আরেকটি ইউনিট আংশিক উৎপাদনে রয়েছে। পটুয়াখালী ও রামপাল কেন্দ্র থেকেও পর্যাপ্ত কয়লা না আসায় উৎপাদন কমে গেছে। এছাড়া ভারতের আদানি কোম্পানির সরবরাহ অর্ধেকে নেমে যাওয়ায় দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে আরও চাপ তৈরি হয়েছে।
পিডিবি জানিয়েছে, এই ঘাটতি সাময়িক। তারা আশা করছে, আগামী দুই–তিন দিনের মধ্যে যান্ত্রিক সমস্যা মেরামত ও সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হলে লোডশেডিংয়ের পরিস্থিতি অনেকটা কমে যাবে। তবে এ ধরনের হঠাৎ বন্ধ হওয়া কেন্দ্রগুলো দেশের বিদ্যুৎ নিরাপত্তা ও স্থায়িত্বে দুর্বলতার প্রমাণ হিসেবেও ধরা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,“কেবল যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত না করা, উৎপাদন পর্যবেক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনার অভাব এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। ভবিষ্যতে এ ধরনের হঠাৎ বন্ধ হওয়া এড়াতে প্রি-এম্পটিভ মেইনটেন্যান্স এবং শক্তিশালী সরবরাহ চেইন নিশ্চিত করা জরুরি।”
এ পরিস্থিতিতে শহর-গ্রাম উভয়েই ভোগান্তিতে পড়েছে। নগরাঞ্চলে ঘন ঘন লোডশেডিং, গ্রামীণ এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না আসা—সব মিলিয়ে দেশের দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।
গ্রাম-গঞ্জে চরমে লোডশেডিং
রাজধানী ও সিলেটের মতো শহরাঞ্চলের পাশাপাশি পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকেরা আরও বেশি দুর্ভোগে পড়েছে। বিউবোর তথ্যমতে, ঢাকা বিভাগে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ৫ শতাংশ কম। ময়মনসিংহে ১৪, সিলেটে ১৮, রংপুরে ১২ এবং কুমিল্লায় ১৪ ভাগ লোডশেডিং হচ্ছে। সবচেয়ে ভোগান্তিতে আছেন গ্রামীণ জনগণ।
রাজশাহীর পবা উপজেলার কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন,“ধান কাটার পর ধান শুকাতে পারছি না। বিদ্যুৎ না থাকায় মেশিন চালানো যাচ্ছে না। একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে লোডশেডিং—ফসল নষ্ট হওয়ার ভয়ে রাতেও ঘুম হয় না।”
কুমিল্লার লাকসামের গৃহিণী রুবিনা আক্তার কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলেন,“সারাদিনে ৬-৭ বার বিদ্যুৎ যায়। রাতে বাচ্চারা ঘুমাতে পারে না, গরমে কান্নাকাটি করে। ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হয়ে যায়। বিদ্যুতের বিল ঠিকই দিতে হয়, কিন্তু সুবিধা পাই না।”
সিলেটের জকিগঞ্জের ব্যবসায়ী হাফিজ উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“বিদ্যুৎ না থাকায় বাজারে দোকান খোলা রাখাই মুশকিল। ফ্রিজে রাখা মাছ-মাংস পচে যায়। প্রতিদিন হাজার টাকার ক্ষতি হচ্ছে। সরকার যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, আমাদের ছোট ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।”
খুলনার পাইকগাছার স্কুলশিক্ষক সেলিম রেজা বলেন,“গ্রামে দিনে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ আসে, তিন ঘণ্টা যায়। স্কুলে পড়াতে পারি না, শিক্ষার্থীরাও কষ্টে থাকে। অনলাইন ক্লাসের কথা তো চিন্তাই করা যায় না।”
বরিশালের মুলাদির এক গৃহস্থ রমজান আলী আক্ষেপ করে বলেন,“চিকিৎসার জন্য বাসায় অক্সিজেন মেশিন চালাতে হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় রোগীকে নিয়ে টানাটানি করতে হয়। একটা জেনারেটর কিনতে গেলে খরচ চালাতে পারি না।”
সিলেটে চাহিদার চেয়ে ঘাটতি বেশি
সিলেট নগরীতে বিদ্যুতের চাহিদা যেখানে ৪০ মেগাওয়াটের বেশি, সেখানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ২৫ দশমিক ৩০ মেগাওয়াট। এর ফলে নগরীর অধিকাংশ এলাকা দীর্ঘ সময় অন্ধকারে থাকছে। বিশেষ করে মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দিন ধরে ঘন ঘন লোডশেডিং দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সিলেট কার্যালয় সূত্র জানায়, এই পরিস্থিতি সাময়িক। সিলেট নগরের বিদ্যুৎ সরবরাহ কম হওয়ায় বিদ্যুৎবিতরণে অপ্রতুলতা তৈরি হয়েছে। পিডিবি কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় গ্রিডে পর্যাপ্ত সরবরাহ মেলে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
সিলেটের বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, ‘সিলেটে চাহিদার চেয়ে ঘাটতি বেশি হওয়ায় লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। স্থানীয়ভাবে বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা এবং ছোট ছোট সৌর বা ব্যাটারি সমাধান দ্রুত চালু করা না হলে নগরবাসীর ভোগান্তি চলতে থাকবে।’
জাকসু নির্বাচনে বিদ্যুৎ বিভ্রাট
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ নম্বর হলে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। কর্তব্যরত কর্মকর্তারা জানান, বৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে এবং জেনারেটরের ব্যবস্থা না থাকায় ভোটগ্রহণ অন্ধকারেই চলতে থাকে। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ভোট দিতে পারেননি অনেকে। এ হলে মোট ভোটার ৫২২ জন।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান বিদ্যুৎ বিপর্যয় হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা ঘাটতি, আমদানি নির্ভরতা ও সঠিক সময় সিদ্ধান্ত নিতে না পারার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি গবেষক বলেন,“আমরা অনেকটা অন্ধভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছি, কিন্তু গ্যাস ও কয়লার যোগান নিশ্চিত করতে পারিনি। ফলে চাহিদা বেড়ে গেলেও উৎপাদন স্থবির হয়ে গেছে। এখন আর শুধু কেন্দ্র বাড়ালেই হবে না—কাঁচামাল সরবরাহ ও বিকল্প জ্বালানির পরিকল্পনা জরুরি।”
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিদ্যুৎ বিভাগের এক অধ্যাপকের মতে,“দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা অনেক। কিন্তু সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি। সৌরবিদ্যুৎ ও বায়ুবিদ্যুতের মাধ্যমে অন্তত ২০ শতাংশ চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিল। এই খাত অবহেলা করার কারণে আজকে জনগণ লোডশেডিংয়ে ভুগছে।”
এনার্জি পলিসি অ্যানালিস্টরা জানান,“বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবেলায় সরকারকে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি দুই ধরনের কৌশল নিতে হবে। তা না হলে শুধু গ্রাম নয়, শিল্পকারখানাও স্থবির হয়ে পড়বে। এতে রপ্তানি খাত হুমকির মুখে পড়বে।”
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল করিম জানান, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে প্রয়োজনীয় কয়লা, গ্যাস, তেল সময়মতো আমদানি করতে না পারলে এই সংকট আরও তীব্র হবে। তাই আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব জ্বালানি উৎস কাজে লাগানোর কোনো বিকল্প নেই।’
অন্যদিকে পরিবেশবিদ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন,‘ প্রচলিত জ্বালানি দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। টেকসই সমাধান একমাত্র সবুজ জ্বালানির মাধ্যমে সম্ভব। সরকার চাইলে গ্রাম-গঞ্জের লোডশেডিং অনেকটা কমাতে সৌরবিদ্যুতের বিকেন্দ্রীকৃত মডেল চালু করতে পারে।’
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন/এসকে
দিনে ঘাটতি দেড় হাজার মেগাওয়াট
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে হঠাৎ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদা বর্তমানে ১৬ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট, কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৪ হাজার ৫৬৯ মেগাওয়াট। অর্থাৎ দিনে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এই ঘাটতি মূলত বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটি এবং কয়লার অভাবের কারণে।
মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। অন্য ইউনিট আংশিক চালু থাকলেও সেখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে সক্ষম হচ্ছে না। পটুয়াখালী ও রামপাল কেন্দ্র থেকেও পর্যাপ্ত কয়লার সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন কম। ভারতের আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহও অর্ধেকে নেমেছে।
তবে সমস্যার মাত্রা শুধু রাজধানী বা শহরেই সীমাবদ্ধ নয়। গ্রামীণ বিদ্যুৎ গ্রাহকরা আরও বড় ভোগান্তিতে পড়ছেন। ঢাকা বিভাগের গ্রামাঞ্চলে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা প্রায় ৫ শতাংশ কম। ময়মনসিংহে লোডশেডিং ১৪%, সিলেটে ১৮%, রংপুরে ১২%, কুমিল্লায় ১৪% এবং পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ।
বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞরা বলছেন,“বর্তমান ঘাটতি হঠাৎ নয়। দীর্ঘদিন ধরে আমদানি নির্ভরতার কারণে উৎপাদন চাহিদার সঙ্গে মিলছে না। দেড় হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি সাময়িক হলেও এর প্রভাব নগর-গ্রাম, শিল্প ও শিক্ষা প্রতিটি ক্ষেত্রে পড়ছে।” এছাড়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এ ধরণের ঘাটতি নিয়মিত হতে থাকলে শুধু গৃহস্থালি বা ব্যবসা নয়, শিল্পকারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানও স্থবির হয়ে পড়বে। ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ভাঙচুরের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) তথ্যমতে, মঙ্গলবার রাত ১১টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ১৪ হাজার ৫৬৯ মেগাওয়াট। ওই সময়ে লোডশেডিং হয় ১ হাজার ৬৫৩ মেগাওয়াট। মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট সম্পূর্ণ বন্ধ এবং আরেকটি আংশিক উৎপাদনে আছে। রামপাল ও পটুয়াখালী কেন্দ্র থেকেও কয়লার ঘাটতির কারণে চাহিদামতো বিদ্যুৎ আসছে না। ভারতের আদানি বিদ্যুৎ সরবরাহও অর্ধেকে নেমে এসেছে।
অন্ধকারে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা
রাজধানী ঢাকায় লোডশেডিং আরও তীব্র আকার নিয়েছে। দক্ষিণ বনশ্রী, পূর্ব মাদারটেক, নন্দীপাড়া, গোড়ান, মুগদা, শাহজাহানপুর, মানিকনগর, যাত্রাবাড়ী, কেরানীগঞ্জ, লালবাগ, আদাবর, মোহাম্মদপুর, পল্টন, তেজগাঁও, উত্তরা, খিলগাঁও, ধানমন্ডি ও কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ এলাকাতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে দৈনন্দিন জীবন চরম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার রাতেও ফ্ল্যাশলাইট বা জেনারেটর ছাড়া কাজ করতে পারছে না। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারছে না, অফিসকারীরা অনলাইন মিটিং ও কম্পিউটার কাজ করতে পারছে না।
রাসেল নামে একজন শিক্ষার্থী জানালেন,“লোডশেডিংয়ের কারণে রাতের পড়াশোনা করতে পারছি না। পরীক্ষার সময় বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।”গৃহিণী সাজেদা খানম বলেন, “রাতের রান্না করা যায় না। ফ্রিজের খাবার নষ্ট হচ্ছে। বাচ্চাদের জন্য গরমের সময় ঘরে কোনো সান্ত্বনা নেই।” প্রাইভেট অফিস কর্মী রাশেদুল হক বলেন,“অনলাইন ডকুমেন্ট পাঠাতে সমস্যা হচ্ছে। ল্যাপটপ চালাতে পারছি না। দিনের বেলায়ও বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে।”
বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন,“রাজধানীর বড় বড় এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের পেছনে রয়েছে কেবল উৎপাদন কমে যাওয়াই নয়, বরং সঠিকভাবে চাহিদা অনুযায়ী বিতরণ লাইন ও সাব-স্টেশনের সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের অভাবও।”
হঠাৎ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অন্যতম প্রধান কারণ হলো কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, এই কেন্দ্রগুলোতে যান্ত্রিক ত্রুটি ও কয়লার ঘাটতি মিলিতভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধের মূল কারণ। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ স্বাভাবিকের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে।
মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের একটি ইউনিট সম্পূর্ণ বন্ধ, আরেকটি ইউনিট আংশিক উৎপাদনে রয়েছে। পটুয়াখালী ও রামপাল কেন্দ্র থেকেও পর্যাপ্ত কয়লা না আসায় উৎপাদন কমে গেছে। এছাড়া ভারতের আদানি কোম্পানির সরবরাহ অর্ধেকে নেমে যাওয়ায় দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে আরও চাপ তৈরি হয়েছে।
পিডিবি জানিয়েছে, এই ঘাটতি সাময়িক। তারা আশা করছে, আগামী দুই–তিন দিনের মধ্যে যান্ত্রিক সমস্যা মেরামত ও সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হলে লোডশেডিংয়ের পরিস্থিতি অনেকটা কমে যাবে। তবে এ ধরনের হঠাৎ বন্ধ হওয়া কেন্দ্রগুলো দেশের বিদ্যুৎ নিরাপত্তা ও স্থায়িত্বে দুর্বলতার প্রমাণ হিসেবেও ধরা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,“কেবল যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত না করা, উৎপাদন পর্যবেক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনার অভাব এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। ভবিষ্যতে এ ধরনের হঠাৎ বন্ধ হওয়া এড়াতে প্রি-এম্পটিভ মেইনটেন্যান্স এবং শক্তিশালী সরবরাহ চেইন নিশ্চিত করা জরুরি।”
এ পরিস্থিতিতে শহর-গ্রাম উভয়েই ভোগান্তিতে পড়েছে। নগরাঞ্চলে ঘন ঘন লোডশেডিং, গ্রামীণ এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না আসা—সব মিলিয়ে দেশের দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।
গ্রাম-গঞ্জে চরমে লোডশেডিং
রাজধানী ও সিলেটের মতো শহরাঞ্চলের পাশাপাশি পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকেরা আরও বেশি দুর্ভোগে পড়েছে। বিউবোর তথ্যমতে, ঢাকা বিভাগে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ৫ শতাংশ কম। ময়মনসিংহে ১৪, সিলেটে ১৮, রংপুরে ১২ এবং কুমিল্লায় ১৪ ভাগ লোডশেডিং হচ্ছে। সবচেয়ে ভোগান্তিতে আছেন গ্রামীণ জনগণ।
রাজশাহীর পবা উপজেলার কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন,“ধান কাটার পর ধান শুকাতে পারছি না। বিদ্যুৎ না থাকায় মেশিন চালানো যাচ্ছে না। একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে লোডশেডিং—ফসল নষ্ট হওয়ার ভয়ে রাতেও ঘুম হয় না।”
কুমিল্লার লাকসামের গৃহিণী রুবিনা আক্তার কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলেন,“সারাদিনে ৬-৭ বার বিদ্যুৎ যায়। রাতে বাচ্চারা ঘুমাতে পারে না, গরমে কান্নাকাটি করে। ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হয়ে যায়। বিদ্যুতের বিল ঠিকই দিতে হয়, কিন্তু সুবিধা পাই না।”
সিলেটের জকিগঞ্জের ব্যবসায়ী হাফিজ উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“বিদ্যুৎ না থাকায় বাজারে দোকান খোলা রাখাই মুশকিল। ফ্রিজে রাখা মাছ-মাংস পচে যায়। প্রতিদিন হাজার টাকার ক্ষতি হচ্ছে। সরকার যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, আমাদের ছোট ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।”
খুলনার পাইকগাছার স্কুলশিক্ষক সেলিম রেজা বলেন,“গ্রামে দিনে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ আসে, তিন ঘণ্টা যায়। স্কুলে পড়াতে পারি না, শিক্ষার্থীরাও কষ্টে থাকে। অনলাইন ক্লাসের কথা তো চিন্তাই করা যায় না।”
বরিশালের মুলাদির এক গৃহস্থ রমজান আলী আক্ষেপ করে বলেন,“চিকিৎসার জন্য বাসায় অক্সিজেন মেশিন চালাতে হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় রোগীকে নিয়ে টানাটানি করতে হয়। একটা জেনারেটর কিনতে গেলে খরচ চালাতে পারি না।”
সিলেটে চাহিদার চেয়ে ঘাটতি বেশি
সিলেট নগরীতে বিদ্যুতের চাহিদা যেখানে ৪০ মেগাওয়াটের বেশি, সেখানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ২৫ দশমিক ৩০ মেগাওয়াট। এর ফলে নগরীর অধিকাংশ এলাকা দীর্ঘ সময় অন্ধকারে থাকছে। বিশেষ করে মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দিন ধরে ঘন ঘন লোডশেডিং দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সিলেট কার্যালয় সূত্র জানায়, এই পরিস্থিতি সাময়িক। সিলেট নগরের বিদ্যুৎ সরবরাহ কম হওয়ায় বিদ্যুৎবিতরণে অপ্রতুলতা তৈরি হয়েছে। পিডিবি কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় গ্রিডে পর্যাপ্ত সরবরাহ মেলে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
সিলেটের বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, ‘সিলেটে চাহিদার চেয়ে ঘাটতি বেশি হওয়ায় লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। স্থানীয়ভাবে বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা এবং ছোট ছোট সৌর বা ব্যাটারি সমাধান দ্রুত চালু করা না হলে নগরবাসীর ভোগান্তি চলতে থাকবে।’
জাকসু নির্বাচনে বিদ্যুৎ বিভ্রাট
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ নম্বর হলে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। কর্তব্যরত কর্মকর্তারা জানান, বৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে এবং জেনারেটরের ব্যবস্থা না থাকায় ভোটগ্রহণ অন্ধকারেই চলতে থাকে। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ভোট দিতে পারেননি অনেকে। এ হলে মোট ভোটার ৫২২ জন।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান বিদ্যুৎ বিপর্যয় হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা ঘাটতি, আমদানি নির্ভরতা ও সঠিক সময় সিদ্ধান্ত নিতে না পারার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি গবেষক বলেন,“আমরা অনেকটা অন্ধভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছি, কিন্তু গ্যাস ও কয়লার যোগান নিশ্চিত করতে পারিনি। ফলে চাহিদা বেড়ে গেলেও উৎপাদন স্থবির হয়ে গেছে। এখন আর শুধু কেন্দ্র বাড়ালেই হবে না—কাঁচামাল সরবরাহ ও বিকল্প জ্বালানির পরিকল্পনা জরুরি।”
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিদ্যুৎ বিভাগের এক অধ্যাপকের মতে,“দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা অনেক। কিন্তু সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি। সৌরবিদ্যুৎ ও বায়ুবিদ্যুতের মাধ্যমে অন্তত ২০ শতাংশ চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিল। এই খাত অবহেলা করার কারণে আজকে জনগণ লোডশেডিংয়ে ভুগছে।”
এনার্জি পলিসি অ্যানালিস্টরা জানান,“বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবেলায় সরকারকে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি দুই ধরনের কৌশল নিতে হবে। তা না হলে শুধু গ্রাম নয়, শিল্পকারখানাও স্থবির হয়ে পড়বে। এতে রপ্তানি খাত হুমকির মুখে পড়বে।”
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল করিম জানান, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে প্রয়োজনীয় কয়লা, গ্যাস, তেল সময়মতো আমদানি করতে না পারলে এই সংকট আরও তীব্র হবে। তাই আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব জ্বালানি উৎস কাজে লাগানোর কোনো বিকল্প নেই।’
অন্যদিকে পরিবেশবিদ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন,‘ প্রচলিত জ্বালানি দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। টেকসই সমাধান একমাত্র সবুজ জ্বালানির মাধ্যমে সম্ভব। সরকার চাইলে গ্রাম-গঞ্জের লোডশেডিং অনেকটা কমাতে সৌরবিদ্যুতের বিকেন্দ্রীকৃত মডেল চালু করতে পারে।’
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন/এসকে