‘লোভ হয়েছিল, তবুও দামি ঘড়ি–আইপ্যাড ফিরিয়ে দিলাম’

প্রলোভনের ঊর্ধ্বে ওঠাই জনপ্রতিনিধিদের প্রধান কাজ- জ্বালানি উপদেষ্টা

আপলোড সময় : ০৫-০৯-২০২৫ ১১:৪৯:৪৭ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৫-০৯-২০২৫ ১১:৪৯:৪৭ পূর্বাহ্ন
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাউজুল কবীর খান ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, প্রলোভনের ঊর্ধ্বে ওঠাই জনপ্রতিনিধিদের প্রধান দায়িত্ব। তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে বলেন, জনপ্রতিনিধি যদি লোভ সামলাতে পারেন তবে অন্য সব কাজ সহজ হয়ে যায়।

ফাউজুল কবীর খান লিখেছেন, কয়েকদিন আগে শ্রীলঙ্কায় মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকে গিয়ে আয়োজকদের কাছ থেকে একটি দামি ব্র্যান্ডের হাতঘড়ি পান। ঘড়িটি প্রথমে পছন্দ হলেও দেশে ফিরে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে চিঠি লিখে তা তোষাখানায় জমা দেন।

সম্প্রতি এক ভারতীয় বিদ্যুৎ কোম্পানির প্রধানও তাঁকে একটি আইপ্যাড উপহার দিতে চান। বাসার আইপ্যাড পুরনো হওয়ায় লোভ হলেও তিনি সেটি ফিরিয়ে দেন। পাশে থাকা আরেক উপদেষ্টা বিষয়টি দেখে মিটি মিটি হাসলেও তিনি নীতির বাইরে যাননি বলে জানান।

তবে সব ধরনের উপহার তিনি ফিরিয়ে দেন না। বিদেশি মন্ত্রী বা রাষ্ট্রদূতরা বই, সুভেনির বা মূল্যসীমার মধ্যে থাকা চকোলেটের মতো অবাণিজ্যিক উপহার আনলে তিনি গ্রহণ করেন। বিনিময়ে তাঁদের নিজের লেখা বই উপহার দেন।

শেষে তিনি লেখেন, “আমার মনে হয়েছে, প্রলোভনের ঊর্ধ্বে ওঠাই জনপ্রতিনিধিদের প্রধান কাজ। আশা করি আসন্ন নির্বাচনে জনগণ নির্লোভ জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত করবেন।”

বাংলাস্কুপের পাঠকদের জন্য উপদেষ্টার ফেসবুক পোস্টা পুরো তুলে ধরা হলো------
 
প্রলোভন
 
কিছুদিন আগে শ্রীলংকায় এক মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকে গেলে সেখানকার বিদ্যুৎমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে আমাকে একটি উপহার প্রদান করা হয়। হোটেলে ফিরে গিফট বক্স খুলে দেখি একটি দামি ব্র্যান্ডের হাতঘড়ি।ঘড়িটি আমি হাতে পড়ি, পছন্দ হয়, লোভ হয়। দেশে ফিরে এসে, মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে চিঠি লিখে ঘড়িটি তোষাখানায়  জমা দেয়ার জন্য পাঠাই। 
 
গত পরশু আবার এক ভারতীয় বিদ্যুৎ কোম্পানির প্রধান (আদানি নয়) আমার সাথে দেখা করেন, আমাদের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে সাথে নিয়ে। দীর্ঘদিনের পাওনা বকেয়া পরিষদ করায় কৃতজ্ঞতা জানতে এসেছেন। ফেরার সময় বলেন সামান্য উপহার নিয়ে এসেছি। আমি তাঁকে বলি উপহার গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি নির্ধারিত মূল্যসীমা আছে। উপহারটি খুলে দেখি একটি আইপ্যাড। বাসার আইপ্যাডটি পুরনো হয়ে গেছে, তাই লোভ হয়। আইপ্যাডটি তাঁকে ফিরিয়ে দিই। পাশে সোফায় বসে আমার কান্ড দেখে অন্য একজন উপদেষ্টা মিটি মিটি হাসছেন। 
 
তবে কোন উপহারই গ্রহণ করিনা এমন নয়। বিদেশী মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূতরা দেখা করার সময় সুভেনির, বই নিয়ে আসেন। অবাণিজ্যিক পণ্য, বা মূল্যসীমার মধ্যে কোন খাবার, যেমন, চকোলেট। সেগুলো গ্রহণ করি। বিনিময়ে তাদের নিজের লেখা বই উপহার দিই। ভাগ্যিস কয়েকটা বই লিখেছিলাম! 
 
আমার মনে হয়েছে, প্রলোভনের উর্ধ্বে ওঠাই জনপ্রতিনিধিদের প্রধান কাজ। এটা করতে পারলেই অন্য সব কাজ সহজ হয়ে যায়। আশা করি আসন্ন নির্বাচনে জনগণ নির্লোভ জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত করবেন।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :