কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা: মীরসরাইয়ে সূর্যের আলোয় পাতকুয়ো
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৪-১১-২০২৬ ০২:৩৬:১১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৪-১১-২০২৬ ০৩:১০:১৯ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
মীরসরাই উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ড্রাগওয়েল অর্থাৎ সৌরবিদ্যুৎচালিত পাতকুয়ো স্থাপন করে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সূর্যের আলো কাজে লাগিয়ে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের এ প্রযুক্তি কৃষি কাজে সেচ সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন খরচ কমাতেও ভূমিকা রাখছে। সোলার প্যানেল থেকে সৌরশক্তি ব্যবহার করে যন্ত্রের মাধ্যমে সেই পানি যাচ্ছে কৃষি জমির সেচ কাজে। সৌরশক্তির মাধ্যমে পাম্প চলায় নেই তেল খরচ কিংবা লোডশেডিংয়ের ঝামেলা। ফলে পাতকুয়োর চারপাশের মাটিতে এখন নির্বিঘ্নে চাষাবাদ করছেন কৃষকরা।
কৃষক ও প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা বলছেন, পাতকুয়োগুলোর ফলে পাহাড়ের পাদদেশের অনাবাদি জমিতে এখন আবাদ হচ্ছে। পূর্ব অলিনগর গ্রামের যে জায়গায় পাতকুয়োটি স্থাপন করা হয়েছে সেখানে আগে পানির অভাবে কিছুই হতো না। এখন অনাবাদি ও শুষ্ক মৌসুমে চাষাবাদের আওতায় এসেছে প্রায় ২০ একর জমি। এছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও সংশ্লিষ্ট কার্বন নিঃসরণ কমানোর সুযোগ রয়েছে। পরিবেশবান্ধব এ প্রযুক্তি কৃষির আধুনিকায়ন এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও সহায়ক হতে পারে।
বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী তমাল দাশ জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষিকে আরও আধুনিক, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব করে তোলার একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ এই ড্রাগওয়েল। মীরসরাইয়ে আমরা মোট ৬টি ড্রাগওয়েল স্থাপন করি।
পরিবেশবান্ধব ও আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী এই পাতকুয়োর মাধ্যমে ধান চাষ, সবজি ও ফলমূল আবাদ করা যায়। মীরসরাইয়ের পাহাড়ি বেলে মাটি এবং পানির স্তর অত্যন্ত ভালো। ড্রাগওয়েল পুরোপুরি ভূগর্ভস্থ না আবার পুরোপুরি ভূ-উপরিস্থ না, এটি হচ্ছে সাব সারফেস। এমন স্তরের পানি ব্যবহার পরিবেশের জন্য হুমকি নয়। একটি ড্রাগওয়েল স্থাপনে সরকারের ১৭ লাখ টাকা খরচ হয়। ড্রাগওয়েল মূলত কৃষকরা কমিটি করে রক্ষণাবেক্ষণ করেন। এতে সরকারকে বা বিএডিসি’কে কোনো খরচ দিতে হয় না।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স