এনআইডি সংশোধনে জালিয়াতি, কঠোর অবস্থানে ইসি
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৪-১১-২০২৬ ১১:২১:২২ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
০৪-১১-২০২৬ ১১:২১:২২ পূর্বাহ্ন
ফাইল ছবি
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কেউ কেউ সম্পত্তি বিক্রি, উত্তরাধিকার দাবি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে জালিয়াতির চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, কোনো কোনো কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং ফৌজদারি মামলা ও গ্রেফতারের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এই অভিযোগে আমাদের অনেক কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত হয়েছেন। অনেকের বিরুদ্ধে আমরা ফৌজদারি মামলা করেছি। তাদের গ্রেফতারের ব্যবস্থাও করেছি। সুতরাং আমরা ছাড় দিচ্ছি না।
জালিয়াতি রোধে ইসির অবস্থান কঠোর। প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে সন্তুষ্ট হওয়ার পরই সংশোধনের সিদ্ধান্ত দিচ্ছে কমিশন। আবেদনকারীকে সঠিক তথ্য ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দিতে হবে। অপব্যবহারের প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে নাম বদল করে সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছে।
অনেকে উত্তরাধিকার বা ওয়ারিশ হিসেবে প্রমাণ করার জন্য এনআইডি সংশোধন করে। অনেকে জালিয়াতি করে পাসপোর্ট পরিবর্তনের চেষ্টা করেছে। এজন্য যাচাই-বাছাই না করে সবকিছু সঙ্গে সঙ্গে করা যায় না, সংশোধন করে দেওয়া যায় না।’
ইসির কর্মকর্তারা জানান, এনআইডি জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সম্প্রতি ঝালকাঠী জেলার কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আ. ছত্তারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে ইসি। এছাড়া জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পঞ্চগড় সদরের অফিস সহকারী কামনা রানী সরকারকেও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা বলেন, অনেক আবেদনে পিতা-ছেলের বয়সের ব্যবধান মাত্র তিন বছর, মা-মেয়ের ব্যবধান দুই-তিন বছর। কারও একাধিক জন্মনিবন্ধন বা শিক্ষাগত সনদ রয়েছে। এসব যাচাই না করে সংশোধন করলে জটিলতা তৈরি হতে পারে, ভুয়া পরিচয়ে এনআইডি সংগ্রহের ঝুঁকিও থাকে। সিইসি বলেন, ‘এমনও শোনা যায়, বিদেশি নাগরিক, রোহিঙ্গারা আমাদের নাগরিক হয়ে এনআইডি তৈরি করে ফেলে। এজন্য এগুলো যাচাই-বাছাই, তদন্ত ও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন হয়।’
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, অনেক আবেদনকারী এমন জন্মতারিখ চান, যা আগের নিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একজনের জন্ম ১৯৯৭ সালে, ২০১৫ সালে ১৮ বছর বয়সে ভোটার হন। পরে জন্মসাল ২০০২ করতে চান। তাহলে নিবন্ধনের সময় তার বয়স হয় ১৩, অথচ ভোটার হওয়ার বয়স ১৮। এমন আবেদন কীভাবে গ্রহণ করা সম্ভব? তিনি বলেন, অনেকে বিদেশে যাওয়ার সমস্যা বা ব্যক্তিগত অসুবিধার কথা বলে মানবিক বিবেচনায় সংশোধন চান। যাচাই ছাড়া অনুমোদন করলে ইসিকেই সমস্যায় পড়তে হয়।
কর্মকর্তারা জানান, অধিকাংশ সংশোধন উপজেলা পর্যায়েই সম্ভব। তবে নাম, পিতা-মাতার নাম, বয়সসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একসঙ্গে সংশোধনের জটিল আবেদন উচ্চপর্যায়ে যায়। সেখানে জন্মনিবন্ধন ও শিক্ষাগত সনদসহ প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই হয়। পিতার নাম পরিবর্তনে পিতার এনআইডি ও পরিবারের অন্য সদস্যদের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা জরুরি। শুধু হলফনামার ভিত্তিতে সংশোধন সম্ভব নয়। সিইসি বলেন, ‘আপনি যদি আপনার নাম ও বাবার নাম পরিবর্তন করতে চান, তাহলে আমরা বলতে পারি আপনার অন্যান্য ভাই-বোনের এনআইডি নিয়ে আসেন। তাদের এনআইডিতে বাবার নাম কী আছে।’ যথার্থতা প্রমাণের জন্যই এসব তথ্য চাওয়া হয় বলে তিনি জানান।
সম্প্রতি এনআইডি সংশোধন করতে ইসিতে আসেন যশোরের কেশপুরের হরিদাশ কর্মকার (ছদ্দ নাম) । তিনি জানান, গত ছয়মাস আগে তার স্ত্রীর নাম সংশোধনের আবেদন করেছেন। সংশোধনের সময় বলা হয়, তার স্ত্রীর নামে দুটি জন্মনিবন্ধন রয়েছে। একটি জন্মনিবন্ধন বাতিল করে আসলে সংশোধন করে দেওয়া হবে। এরপর একটি জন্মনিবন্ধন বাতিল করে ইসিতে আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, নাম সংশোধনের জন্য তার স্ত্রীর ভাই-বোনের প্রত্যায়ন পত্র দিতে হবে। বায়োম্যাট্টিক দিতে হবে। এছাড়া আরো বিভিন্ন ডকুমেন্ট চাওয়া হয়। যা তিনি এখনো সংগ্রহ করতে পারেননি।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স