ঢাকা , রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬ , ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এবার জার্মানিতে ব্যাপক সহিংসতা-লুটপাট

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ০১-১১-২০২৬ ১১:২৩:৫৪ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ০১-১১-২০২৬ ১১:২৩:৫৪ পূর্বাহ্ন
এবার জার্মানিতে ব্যাপক সহিংসতা-লুটপাট ফাইল ছবি
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষাব্যবস্থার সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে। এর মধ্যে ফ্রান্সে ঘটেছে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা। এই বিক্ষোভ ও সহিংসতার প্রভাব পড়েছে জার্মানিতেও। দেশটিতেও ব্যাপক লুটপাট ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রয়টার্সের খবরে বলা হয়, উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে জার্মানির বিভিন্ন শহরে জেন-জির নেতৃত্বে বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। শনিবার রাতে দেশটির আর্থিক কেন্দ্র ফ্রাঙ্কফুর্টে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি দোকানে লুটপাট চালান। এর আগে জার্মানির বড় শহরগুলোতে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।

চলতি বছর ইউরোপজুড়ে জেন-জি প্রজন্মের নেতৃত্বে ধারাবাহিক বিক্ষোভের অংশ হিসেবে জার্মানিতেও এ কর্মসূচি পালিত হয়। সার্বিয়ায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে আন্দোলন নির্বাচনে দেশটির দীর্ঘদিনের নেতাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ভূমিকা রেখেছিল। অন্যদিকে, ফ্রান্সে বিক্ষোভ থেকে সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

জার্মানিতে ‘জেন-জি রেগেল্ট’ নামের একটি প্রচারগোষ্ঠী এসব বিক্ষোভের আয়োজন করে। জার্মান ভাষায় নামটির অর্থ ‘জেন-জি দায়িত্ব নিচ্ছে’। বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখসহ ৩৪টি শহরে পালিত হয় কর্মসূচি। বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের বিরোধিতা এবং শিক্ষায় বেশি বিনিয়োগের দাবি জানাচ্ছে গোষ্ঠীটি। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশটির অনেক তরুণই আর্থিক চাপে রয়েছেন।

জার্মানির আর্থিক কেন্দ্র ফ্রাঙ্কফুর্টে বিক্ষোভ সহিংস হয়ে উঠলে দোকানগুলোতে চালানো হয় লুটপাট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে পুলিশ। রয়টার্সের একজন প্রত্যক্ষদর্শী এ তথ্য জানিয়েছেন।

ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, সহিংস বিশৃঙ্খলা অব্যাহত রয়েছে। শহরের কেন্দ্রস্থলে কয়েকটি দোকানের জানালা ভাঙচুর করা হয়েছে। জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের লক্ষ্য করে পেট্রলবোমাও ছোড়া হচ্ছে। আমরা সাধারণ মানুষকে শহরের কেন্দ্রস্থল এড়িয়ে চলার অথবা এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

শনিবার বিকেলের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আয়োজকদের প্রাথমিক প্রত্যাশা ১ লাখ ৮২ হাজারের চেয়ে অনেক কম ছিল। ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ ও বার্লিনে পুলিশ সর্বোচ্চ ১৮ হাজার বিক্ষোভকারীর উপস্থিতির কথা জানিয়েছে। আয়োজকদের ওয়েবসাইটে দেয়া প্রায় ৩৬ হাজার অংশগ্রহণকারীর হিসাবের অর্ধেক ছিল এই সংখ্যা।

শনিবার হ্যালোইন উৎসবের পাশাপাশি এসব বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। জার্মান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কর্মসূচিগুলো সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলো আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারে বলে সতর্ক করেছে তারা।

হামবুর্গে কয়েকটি ব্যারিকেডে আগুন দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। শনিবার বার্লিনে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ‘জেন-জি রেগেল্ট’ গোষ্ঠীর মুখপাত্র লিনা ফ্রিডরিখ বলেন, ‘আমরা আজ যুদ্ধ ও জবরদস্তির বিরুদ্ধে, শান্তি ও স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে এখানে এসেছি। আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থার জন্য আরও ভালো সহায়তা নিশ্চিত করা। আমরা বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের বিরুদ্ধে এবং দায়িত্বের বোঝা আরও ন্যায্যভাবে বণ্টনের পক্ষে।’

জার্মানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির চরম বামপন্থি গোষ্ঠীগুলোর কিছু অংশ এবং বিদেশি উগ্রপন্থি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি সংগঠন বিক্ষোভে সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করেছে। জার্মানির হেসেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোসেক বলেন, ‘ফ্রান্সের সেই দৃশ্যগুলো আমাদের সবার মনে আছে- দোকান লুটপাট, বাড়িঘরে আগুন, পুলিশের গাড়িতে আগুন এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলা। এ ক্ষেত্রে ফ্রান্সকে কোনোভাবেই আদর্শ হিসেবে তুলে ধরা যায় না।’

জার্মানির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে বেবি বুমার প্রজন্মের মানুষ অবসরে যাওয়ায় দেশটির পেনশন ও সরকারি পরিষেবা খাতের ওপর চাপ বাড়ছে। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও কমছে। তবে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব কারা দিচ্ছে এবং এটি সত্যিকার অর্থেই তরুণদের নেতৃত্বাধীন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের সংগঠন যুক্ত রয়েছে।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন 
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ