ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ , ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​ডিপোর আড়ালে শতাধিক হরিণ পালন

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৯-১০-২০২৬ ০২:১৭:২৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৯-১০-২০২৬ ০২:১৭:২৭ অপরাহ্ন
​ডিপোর আড়ালে শতাধিক হরিণ পালন ​ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাটের রামপালে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের পাশে দুবাই বাংলাদেশ সিমেন্ট কোম্পানির ডিপোতে শতাধিক হরিণ পালনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে রাতের আঁধারে হরিণ জবাই করে মাংস বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের দাবিও করেছেন স্থানীয়রা।

এ ছাড়া সরকারি রেকর্ডভুক্ত ঠালনতলা খাল ভরাট ও দখল করে ডিপো নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। তবে হরিণ পালনের বৈধতা, জবাই ও মাংস সরবরাহের অভিযোগ এবং সরকারি খাল দখলের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ডিপোর ভেতরে হরিণ পালন করা হচ্ছে। রাতের বেলায় ব্যক্তিগত গাড়িতে করে হরিণ মোংলার একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে জবাই করে মাংস বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ডিপোতে গেলে প্রবেশপথেই বাধার মুখে পড়তে হয়। এ সময় গেটে দায়িত্বরত প্রহরী দাবি করেন, সেখানে কোনো হরিণ পালন করা হয় না এবং ডিপোর ভেতরে প্রবেশের অনুমতি নেই।

পরে বিষয়টি জানতে পেরে সরেজমিন পরিদর্শন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী। তিনি সেখানে হরিণ পালনের সত্যতা পাওয়ার কথা জানান। একই সঙ্গে সরকারি খালের ওপর কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, ডিপোসংলগ্ন সরকারি রেকর্ডভুক্ত ঠালনতলা খাল ভরাট ও দখলের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, একসময় খালটি এলাকার পানি প্রবাহ ও কৃষিকাজের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। খাল ভরাট করে ডিপো নির্মাণ এবং খালের ওপর পাকা গেট তৈরি করায় জমিতে যাতায়াত ও কৃষিকাজে সমস্যা হচ্ছে।

স্থানীয় জামায়াতের যুব বিভাগের নেতা মোহাম্মদ খলিলুল্লাহ বলেন, কোম্পানির ভেতরে শতাধিক হরিণ অবৈধভাবে পালনের অভিযোগ রয়েছে। বন্যপ্রাণীগুলোকে উদ্ধার করে নিরাপদ আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি খাল দখলমুক্ত করে কৃষকদের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান তিনি

এলাকাবাসী মো. রাজু শেখ ও প্রীতিসও খালটি পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়ে বলেন, খাল ভরাটের কারণে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে স্থানীয় মাছচাষি মনি বলেন, হরিণ পালনের বৈধ অনুমতি থাকলে নিয়ম মেনে পালন করতে হবে। অনুমতি না থাকলে অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী পালন বন্ধ করা প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে দুবাই বাংলাদেশ সিমেন্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সুন্দরবনের ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে হরিণ চাষ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। রামপালও এ নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত। এ ছাড়া হরিণ জবাই ও মাংস বিক্রির কোনো সুযোগ নেই এ ধরনের কার্যক্রম আইনবিরোধী।

হরিণ পালনের বৈধতা, জবাই করে মাংস সরবরাহের অভিযোগ এবং সরকারি খাল ভরাট ও দখলের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ