জয়-পুতুলসহ সিআরআইয়ের আটজনের আয়কর নথি জব্দের আদেশ
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৮-১০-২০২৬ ০৪:২৭:২৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৮-১০-২০২৬ ০৪:৩৮:১৬ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ আটজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার তদন্তে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আদেশে ২০২৫-২৬ করবর্ষ পর্যন্ত সিআরআইয়ের আয়কর নথি ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজীর আহমেদ।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে সিআরআইয়ের অনুকূলে অনুদান গ্রহণ, অবৈধভাবে আয়কর সুবিধা দেওয়া এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে।
মামলায় জয়-পুতুল ছাড়াও আসামি করা হয়েছে সিআরআইয়ের ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, সিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক শাস্তি বিন শামস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং কর আপিলের সদস্য রওশন আরা আক্তারকে।
দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২৩টি কোম্পানির কাছ থেকে সিআরআইয়ের হিসাবে ৪৫ কোটি ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জমা হয়েছে। ২০১৩-১৪ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মোট আয় দেখানো হয়েছে ১০০ কোটি ৩১ লাখ ৪০ হাজার ৪৮৬ টাকা। এর মধ্যে ১৫ কোটি ৬৮ লাখ ৫৯ হাজার ৫২১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া সিআরআইয়ের ২৫টি ব্যাংক হিসাবে ২৪৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকার বেশি জমা এবং ১৯১ কোটি ২১ লাখ টাকার বেশি উত্তোলন করা হয়েছে। এসব হিসাবে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৪৩৯ কোটি টাকার বেশি। ৩৬ লাখ ৫২ হাজার ৭৪২ টাকা আয়কর পরিশোধ না করে সরকারের আর্থিক ক্ষতি করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগ, সিআরআইকে আয়কর সুবিধা দিতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটিকে অবৈধ কর সুবিধা দেওয়া এবং বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে অনুদানের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ ও আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত করছে সংস্থাটি।
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সিআরআইয়ের টিআইএন নম্বরের বিপরীতে ঢাকা কর অঞ্চল-৬-এর সার্কেল-১১৬-এ সংরক্ষিত আয়কর নথি ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র জব্দের আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স