১০০ কোটি ডলারে হুথিদের সঙ্গে সমঝোতার প্রস্তাব সৌদি আরবের
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২৭-১০-২০২৬ ০৫:০৯:৫৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৭-১০-২০২৬ ০৫:১০:৫৭ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা বন্ধের বিনিময়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে রিয়াদ। এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে ইরান। তবে অর্থ হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে কিনা, সে সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োমের বরাত দিয়ে এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরায়েল হায়োম জানিয়েছে, ইরানের মাধ্যমে হুথি বিদ্রোহীদের এই আর্থিক প্যাকেজ প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি কর্মীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ ও বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের মতো বিষয়গুলোর সমাধান করা। বিনিময়ে হুথিদের সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে হবে।
ইসরায়েল হায়োমের তথ্যমতে, সংঘাত প্রশমনের বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান সোমবার তেহরানে যান এবং ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সংবাদপত্রের একটি সূত্র দাবি করেছে, মন্ত্রী একটি সি-১৩০ সামরিক পরিবহন বিমানে করে এই অর্থ নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে সৌদি আরবের কোনো কর্মকর্তা অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
প্রস্তাবিত এই আর্থিক প্যাকেজটি আগের কিছু সমঝোতার সঙ্গে সম্পর্কিত। সেই সমঝোতা অনুযায়ী, সৌদি আরব ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি কর্মীদের বেতন প্রদান এবং অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে সহায়তা করার কথা ছিল। এর বিনিময়ে হুথিদের যুদ্ধবিরতি মেনে চলা এবং সৌদি ভূখণ্ডে হামলা বন্ধ করার কথা ছিল। বর্তমানে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামোর ওপর হুথিদের হামলার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় নতুন এই প্রস্তাবের মাধ্যমে পুরোনো সেই সমঝোতাগুলোকে পুনরায় কার্যকর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংবাদপত্রটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিরা রিয়াদের বিরুদ্ধে আগের প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা না করার অভিযোগ তুলেছে।
এই কথিত চুক্তির শর্তাবলি, যার মধ্যে ১০০ কোটি ডলার হস্তান্তরের বিষয়টি এবং সৌদি মন্ত্রীর বিমানে করে অর্থ নিয়ে যাওয়ার দাবিটি রয়েছে, তা নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া হুথিরা এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছে কি না, তাও প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।
পুরো অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনার পারদ যখন ঊর্ধ্বমুখী, তখন সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। ইয়েমেন সংঘাতের ক্ষেত্রে তেহরান নিজেকে একটি কূটনৈতিক পক্ষ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, যদিও তাদের বিরুদ্ধে হুথিদের সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ২০ অক্টোবর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি জানান, আলোচনা আয়োজনের জন্য তেহরান যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তাতে সৌদি আরব ও হুথিরা কোনো সাড়া দেয়নি। তবে সাম্প্রতিক আলোচনার খবর থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ধারায় হয়তো কোনো পরিবর্তন আসছে; যদিও কোনো চুক্তির বিস্তারিত তথ্য বা বর্তমান অবস্থা এখনো অস্পষ্ট।
এদিকে সৌদি আরব প্রকাশ্যে জানিয়েছে, তেহরানে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ছিল উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টার অংশ। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রিন্স খালিদ এবং সহযোগী দেশগুলোর প্রতিনিধিদের এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল উত্তেজনা প্রশমনে সহায়তা করা। তবে এই বিবৃতিতে ১০০ কোটি ডলার প্রদানের যে খবর ছড়িয়েছে, সে সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি।
একটি যুদ্ধবিরতি সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো সুরক্ষায় সহায়তা করতে পারে এবং জ্বালানি রপ্তানির ওপর চাপ কমাতে পারে—এমন এক সময়ে, যখন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন হামলা ও বিঘ্ন আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে। ইরানের জন্য এই মধ্যস্থতা তাদের কূটনৈতিক প্রভাবকে শক্তিশালী করতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো নির্ধারণে তাদের ভূমিকা আরও বড় করে তুলতে পারে। অন্যদিকে সৌদি আরবের ক্ষেত্রে যেকোনো চুক্তিতে হুথিদের হামলার কারণে সৃষ্ট চলমান হুমকির বিষয়টি অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
সূত্র : ফার্স্টপোস্ট
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স