ঋণের টাকা নিয়ে বিরোধ, ভাবিকে মারধরের ভিডিও ভাইরাল
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৫-১০-২০২৬ ১২:০২:১২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৫-১০-২০২৬ ১২:০২:১২ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
স্বামীর চিকিৎসার খরচ জোগাতে দেবরের কাছ থেকে ধার নিয়েছিলেন ৩১ হাজার টাকা। এর মধ্যে পাঁচ হাজার টাকা পরিশোধও করেছিলেন। বাকি ২৬ হাজার টাকা কীভাবে পরিশোধ করা হবে, তা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জেরে ভাবিকে চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে মারধর এবং তার অসুস্থ স্বামীকে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে দেবর ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার পূর্ব ষাটনল গ্রামের প্রধান বাড়ির। ভুক্তভোগী নার্গিস আক্তার (৪৫) তার দেবর কবির হোসেন প্রধান (৪০), দেবরের স্ত্রী শাহিনুর বেগম (৩৬) ও তাদের মেয়ে কাশফিয়া আক্তারকে (১৮) অভিযুক্ত করে মতলব উত্তর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
নার্গিস আক্তারের স্বামী মনির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তার চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। নার্গিস জানান, বিভিন্নজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে এবং কিস্তিতে টাকা তুলে তাদের সংসার চালাতে হচ্ছে। এর মধ্যেই স্বামীর চিকিৎসার জন্য দেবর কবির হোসেনের কাছ থেকে ৩১ হাজার টাকা ধার নেন তিনি।
নার্গিসের দাবি, ধার নেয়া টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি ২৬ হাজার টাকা দুই মাস পর পরিশোধের বিষয়ে পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে দেবর বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর পাওনা টাকা নিয়ে চাপ বাড়তে থাকে।
এই টাকা পরিশোধের বিষয়টি নিয়েই গত ২১ অক্টোবর সকালে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ বাধে বলে অভিযোগ নার্গিসের।
নার্গিস আক্তারের অভিযোগ, ২১ অক্টোবর সকালে তিনি জামাইবাড়িতে যাওয়ার পথে দেবর ও তার পরিবারের সদস্যদের হামলার শিকার হন। তাকে গালিগালাজ করার পর মারধর করা হয়। একপর্যায়ে চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে মারধর করা হয়। পরে কাঠের লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়।
দেবরের মেয়ে তার ডান হাতের কবজিতে কামড় দিয়ে জখম করেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে এক নারীকে চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে মারধর করতে দেখা যায়।
নার্গিসের অভিযোগ, তার গলায় থাকা ছয় আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে গেছেন শাহিনুর বেগম। তার চিৎকার শুনে স্বামী মনির হোসেন ও মেয়ে মুনিয়া এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। অসুস্থ মনির হোসেনের বুকে লাথি মারা এবং মুনিয়ার গলা চেপে শ্বাসরোধের চেষ্টা করার অভিযোগও করেছেন তিনি।
পরে আহত ব্যক্তিরা মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নার্গিস আক্তার বলেন, ‘২১ অক্টোবর সকালে আমি জামাইবাড়িতে যাওয়ার সময় তারা আমার ওপর হামলা চালায়। চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে ইচ্ছেমতো মারধর করেছে। আমার অসুস্থ স্বামীকেও অনেক মারধর করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহিনুর বেগম। তার দাবি, পাওনা টাকা চাইতে গেলে নার্গিসের পরিবারের সদস্যরা তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তাদের জায়গায় এসে মারধর করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর প্রসঙ্গে শাহিনুর বেগম বলেন, ভিডিওর শেষের অংশ দেখানো হচ্ছে। এর আগে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
দুপক্ষের বক্তব্যে ঘটনার সূত্রপাত ও হামলার পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্নতা থাকায় অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তদন্তের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ ঘটনায় নার্গিস আক্তার মতলব উত্তর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে দেবর কবির হোসেন প্রধান, তার স্ত্রী শাহিনুর বেগম ও মেয়ে কাশফিয়া আক্তারকে বিবাদী করা হয়েছে।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া বলেন, এ ঘটনায় শনিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে।
ঋণের টাকা পরিশোধ নিয়ে পারিবারিক বিরোধ থেকে মারধরের অভিযোগ এবং সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এখন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স