২৭৬ জন পেশাদার গাড়িচালককে সম্মাননা দিচ্ছে সড়ক বিভাগ
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২২-১০-২০২৬ ০১:৩৯:১০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২২-১০-২০২৬ ০৩:০৩:৫৩ অপরাহ্ন
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সারাদেশের ২৭৬ জন দক্ষ ও পেশাদার গাড়িচালককে সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।
আগামী ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে কেন্দ্রীয়ভাবে ২০ জন এবং জেলা পর্যায়ে প্রতিটি জেলায় চারজন করে মোট ২৭৬ চালককে এ সম্মাননা দেওয়া হবে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এক নথি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষ চালকদের উৎসাহিত করা, দায়িত্বশীল গাড়ি চালনায় উদ্বুদ্ধ করা এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকের সভাপতিত্বে গত ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এক সভায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
সভায় চালকদের সম্মাননা দেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, সড়কের সাইন-সিগন্যাল ও রোড মার্কিং সংস্কার এবং দেশব্যাপী প্রচারাভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জানতে চাইলে ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, ‘দক্ষ ও দায়িত্বশীল চালকেরা নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের পেশাগত দক্ষতা ও ভালো কাজের স্বীকৃতি দিতে এ সম্মাননার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা চাই, চালকেরা ট্রাফিক আইন মেনে চলবেন এবং যাত্রী ও পথচারীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্মাননাপ্রাপ্ত চালকদের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও সড়ক নিরাপত্তায় অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে পরিবহন খাতে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে চালক নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান বলেন, ‘পেশাদার চালকদের দক্ষতা, ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতা এবং নিরাপদ ড্রাইভিং অভ্যাস সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ। চালকদের প্রশিক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা আরও জোরদার করা সম্ভব।
দিবসটি উপলক্ষে আগামী ২৮ অক্টোবর সকাল ১০টায় রাজধানীর সড়ক ভবনের সামনে থেকে রোডশো আয়োজন করা হবে। এতে সড়ক পরিবহন খাতের বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেবেন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি), ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থা, মালিক-শ্রমিক সংগঠন এবং সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সংগঠনগুলো এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে।
একই দিন সকাল ১১টায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, চালকদের দায়িত্বশীলতা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষ চালকদের সম্মাননা দেওয়া ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে দীর্ঘমেয়াদে দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের প্রশিক্ষণ, কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, যানবাহনের ফিটনেস এবং সড়কের নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। সম্মাননার পাশাপাশি এসব ক্ষেত্রে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা জরুরি।
পেশাদার চালকদের শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনায় অক্টোবর মাসে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় চক্ষু পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে চশমা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা বলেন, চালকদের কাছ থেকে নিরাপদ ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করার পাশাপাশি তাদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। চালক ও পরিবহন মালিকদের সম্মিলিত উদ্যোগে সড়ক নিরাপত্তা আরও উন্নত করা সম্ভব।
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে অবকাঠামোগত নিরাপত্তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে সাইন, সিগন্যাল ও রোড মার্কিং সংস্কার এবং সচল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ কাজে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে জনসচেতনতা বাড়াতে পোস্টার, লিফলেট, স্টিকার, টি-শার্ট, ক্যাপ, ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন বিতরণ এবং প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ ও টেলিভিশনে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রচার চালানো হবে। বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সড়ক নিরাপত্তার বার্তা প্রচারের বিষয়েও সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে অক্টোবর মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগরের ১০টি এবং জেলা পর্যায়ে অন্তত চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হবে। এসব কর্মসূচিতে সড়ক পারাপার, ট্রাফিক সংকেত মেনে চলা, ফুটপাত ব্যবহার এবং পথচারী ও চালকদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হবে।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও যুবসমাজকে সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে প্রচারাভিযান, সভা ও কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ রয়েছে।
বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হবে।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার পাশাপাশি সড়কের অবকাঠামো, যানবাহনের উপযুক্ততা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স