কী আছে মক্কা চুক্তিতে?
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২১-১০-২০২৬ ০৪:৪৯:৪৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২১-১০-২০২৬ ০৬:১৮:২১ অপরাহ্ন
মক্কা চুক্তি স্বাক্ষর করছে তুরস্ক, সৌদিআরব ও পাকিস্তান। ৭ আগস্ট ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ্যে এসেছে। চুক্তিতে তিন দেশ একে অপরের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সহযোগিতার অঙ্গীকার করেছে। কোনো দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের মতো যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ধারণা থাকলেও চুক্তিতে কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলকে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। গত আগস্টে তিন দেশ এ চুক্তিতে সই করে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তুরস্ক সরকার চুক্তিটি দেশটির পার্লামেন্টে উপস্থাপন করে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠের একটি অনানুষ্ঠানিক ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করেছে। এর ভিত্তিতে চুক্তির প্রধান বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশ প্রতিরক্ষা, সামরিক শিল্প ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা বাড়াবে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ ও মহড়া এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়নেও একসঙ্গে কাজ করবে তারা। প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্র, গোলাবারুদ, জ্বালানি, খুচরা যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে একে অপরকে সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
চুক্তি বাস্তবায়ন ও সহযোগিতার দিকনির্দেশনা দিতে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সামরিক বাহিনীর প্রধানদের নিয়ে একটি কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিতে বছরে দুবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়োজন মনে করলে তিন দেশের নেতারাও বছরে একবার বৈঠকে বসতে পারবেন।
চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর মহাসচিবের দায়িত্ব তিন দেশের নাগরিকদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বণ্টন করা হবে। প্রথম মহাসচিব হবেন পাকিস্তানের নাগরিক। অন্য কোনো দেশকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি তিন দেশের সম্মতির ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
চুক্তিতে এর মেয়াদ অনির্দিষ্টকাল রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে কার্যকর হওয়ার ১০ বছর পর যেকোনো দেশ জোট থেকে বেরিয়ে যেতে পারবে। এ ক্ষেত্রে কূটনৈতিক চ্যানেলে অন্তত তিন মাস আগে লিখিত নোটিশ দিতে হবে। কোনো দেশ জোট থেকে বেরিয়ে গেলেও আগে সম্মত হওয়া চলমান কার্যক্রম ও প্রকল্প বন্ধ হবে না। গোপনীয় তথ্য সুরক্ষার বাধ্যবাধকতাও বহাল থাকবে।
চুক্তিটি কার্যকর করতে তিন দেশকে নিজ নিজ আইন ও প্রক্রিয়া অনুযায়ী অনুমোদন নিতে হবে। সর্বশেষ অনুমোদনপত্র নির্ধারিত সচিবালয়ে জমা দেওয়ার পর চুক্তিটি কার্যকর হবে। চুক্তির মূল পাঠ তুর্কি, আরবি ও ইংরেজি ভাষায় তৈরি করা হয়েছে। ভাষাগত ব্যাখ্যা নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দিলে ইংরেজি পাঠকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স