ঢাকা , মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ , ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​মক্কায় গ্রেপ্তারের আগে ফেসবুকে কী লিখেছিলেন নজরুল?

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২০-১০-২০২৬ ০৬:৩৩:১৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২০-১০-২০২৬ ০৬:৩৩:১৭ অপরাহ্ন
​মক্কায় গ্রেপ্তারের আগে ফেসবুকে কী লিখেছিলেন নজরুল? ​ছবি: নজরুল ইসলাম মাহিনের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে
মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রবাসী যুবক নজরুল ইসলাম মাহিনের ফেসবুক পোস্টগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। ২০২৩ সালের ৩ মে তিনি লিখেছিলেন, ‘চিন্তা কমাতেও চিন্তা করতে হয় মধ্যবিত্ত সন্তানদের’। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে সাত লাখ টাকা ঋণ করে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি।

‘Md Nazrul Islam Mahin’ নামের ফেসবুক প্রোফাইলে দেখা যায়, ২০২২ সালের ১৩ নভেম্বর দেশ ছাড়ার সময় বিমানবন্দরে তোলা ছবি দিয়ে নজরুল লিখেছিলেন, ‘Good Bye Bangladesh. সবাই অনেক মনে পড়ছে, সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’ ওই বছরের ২৯ নভেম্বর আরেকটি পোস্টে লেখেন, ‘ভাব নেওয়াটা আমাকে মানায় নাহ, কারণ আমি মধ্যবিত্ত।’ ২০২৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঘাসের ওপর শুয়ে থাকা ছবির সঙ্গে লেখেন, ‘পকেটে টাকা থাকলে তোমরা দুনিয়া কিনতে পারবে।’

পরে মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ পান নজরুল। ২০২৩ সালের ৮ মার্চ কাবা শরিফের সামনে নীল ইউনিফর্ম পরা ছবি দিয়ে লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ ক্লিনার মক্কা হেরাম শরিফ।’ তার ওই পোস্টে এখন শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছেন অনেকে।

পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের নভেম্বরে সৌদি আরবে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর মক্কার একটি মসজিদে এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে নজরুলসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে দেশটির পুলিশ। তিন বছর তিন মাস কারাগারে থাকার পর গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামের চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন নজরুল। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর শুনে ওই রাতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তার ফুফু আবেদা বেগম।

নজরুলের মা রহিমা বেগম জানান, কারাগারে থাকা অবস্থায় প্রতি রোববার পরিবারের সঙ্গে কথা বলতেন ছেলে। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পরিবার প্রথম জানতে পারে গণমাধ্যম ও ফেসবুকের মাধ্যমে।

বাবা আব্দুল বাছির বলেন, সাত লাখ টাকা ঋণ করে ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন সংসারের হাল ধরার আশায়। কিন্তু কারাগারে যাওয়ার আগে মাত্র দেড় লাখ টাকা পাঠাতে পেরেছিল নজরুল। এখন একদিকে ঋণদাতাদের চাপ, অন্যদিকে ছেলেকে হারানোর শোক। কী কারণে ছেলে কারাগারে ছিল, তা-ও জানতেন না তিনি। এখন ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ