ব্রহ্মপুত্রের পেটে যাচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২০-১০-২০২৬ ০৩:৩৮:৪৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২০-১০-২০২৬ ০৩:৩৮:৪৮ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
ব্রহ্মপুত্রের তীব্র ভাঙনে কুড়িগ্রামের রৌমারীর চর শৌলমারী ইউনিয়নের তিন গ্রামে বিলীন হচ্ছে অনেক বসতভিটা ও ফসলি জমি। বাধ্য হয়ে কাঁচা ধান কেটে নিচ্ছে কৃষক। মঙ্গলবার ওই ইউনিয়নের সুখেরবাতি গ্রামে নদের তীরে। ছবি: কালের কণ্ঠ
একের পর এক কাঁচা ও আধাপাকা ধানক্ষেত গিলছে ব্রহ্মপুত্র। ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটাও।
জমি, বসতভিটা আর ধানক্ষেত হারানো কৃষক পরিবারের হাহাকার এখন ব্রহ্মপুত্রের পারজুড়ে।
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের তিনটি গ্রামে এখন এমন চিত্র। সুখেরবাতি, সোনাপুর ও খেদাইমারী গ্রামে গত এক সপ্তাহেই নদী ভাঙনে বিলীন হয়েছে ১৭টি পরিবারের ভিটেমাটি।
স্থানীয়রা জানায়, গত তিন দিনে ব্রহ্মপুত্রের তীব্র ভাঙনে এসব এলাকায় অন্তত ২০ একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
ভাঙনের মুখে রয়েছে আরো ২০০ থেকে ২৫০ বিঘা ফসলি জমি। দ্রুত প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নিলে চলতি মৌসুমে ফসলের পাশাপাশি জমিও হারানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, কৃষিজমি নদে বিলীন হওয়ায় উপায় না পেয়ে ভাঙনের মুখে থাকা জমির ধানগাছ কেটে গবাদি পশুর খাবার হিসেবে ব্যবহার করছে কৃষক।
ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দা জেলহকের ভাষ্য, ‘গত তিন দিনে হঠাৎ ভাঙন বেড়েছে।
ধানগাছে থোড় এসেছে; এর মধ্যেই জমি ভাঙতে শুরু করেছে। আমার প্রায় দেড় একর জমি ভাঙনের কবলে। এখন উপায় না পেয়ে ধানগাছ কেটে নিচ্ছি।’
একই এলাকার নগর আলী ও সবুর নাইয়া জানান, ঋণ করে ধানের চারা কিনে রোপণ করেন তারা। সার ও জ্বালানিতে খরচ হয়েছে অনেক টাকা।
এই জমির ফসল বিক্রি করেই সংসার চলতো, কিন্তু ধানের থোড় আসার সময় নদী তাদের সব শেষ করে দিচ্ছে। আগামী বছর খাওয়ার ধানও থাকবে না বলে আশঙ্কা তাদের।
এলাকাবাসী জানায়, গত এক বছরে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে কয়েক শ একর আবাদি জমি ও শতাধিক বসতভিটা বিলীন হয়েছে। শৌলমারী ইউনিয়নের চারিপাড়া, বয়াতিপাড়া, শেখের বাজার ও চর খেদাইমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের বিস্তীর্ণ বসতি এলাকাও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দা তন্ময় হাসান তোতা বলেন, সুখেরবাতি ও মধ্যপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পাশের চর খেদাইমারীতে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও সুখেরবাতি এলাকায় ভাঙন ঠেকাতে উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
চর শৌলমারী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনছার আলী তুহিন জানান, গত এক সপ্তাহে দুই গ্রামের ১৭টি বাড়ি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। কোনোমতে নদীপারে চালা টেনে বসত করছে এসব পরিবার। ওই এলাকার ইউনুছ মোল্লার দেড় বিঘা, ছবুর প্রামাণিকের এক বিঘা আমন ক্ষেত নদীতে চলে গেছে। একই সঙ্গে জমসের আলীর বসতভিটা ও তিন বিঘা ধানি জমিও নদীগর্ভে চলে গেছে।
চর শৌলমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ কে এইচ এম সাইদুর রহমান বলেন, ‘সুখেরবাতি, খেদাইমারী ও সোনাপুর ওয়ার্ড তিনটিতে নদীভাঙন মারাত্মক রূপ নিয়েছে। এখানে ব্লকের কাজ না করায় জিও ব্যাগ দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে যে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে, সেগুলো নদীগর্ভে চলে গেছে। এখন উন্মুক্ত হয়ে গেছে নদী। ফলে দ্রুত আবাদি জমি, গাছপালা ও বাড়িঘর ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, অর্থ সংকটের কারণে আপাতত চর রক্ষায় কাজ করা যাচ্ছে না। বরাদ্দ পেলে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স