নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৯ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মহাসড়কে অন্য যানবাহনকে ওভারটেক করতে গিয়ে বাসটির সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ হয়ে থাকতে পারে। দুর্ঘটনায় বাস ও ট্রাকের চালকও নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে বনপাড়া-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার সরকারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮), শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কাজীরহাট গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (৩০), একই উপজেলার বড়কান্দি গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে জুয়েল রানা (৪০), ডুবিসাহেবের গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লার ছেলে শালাল মোল্লা (৪৫), কাজীরহাট গ্রামের শাহিন হোসেন (২৫), জাজিরা উপজেলার সামাদ (৭০), কাশেম (৩৫) ও জহুর উদ্দিন। এ ছাড়া বাসটির চালক রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরহাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে সোহেল রানা (৪০) নিহত হয়েছেন।
বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) শামীম হোসেন জানান, আরপি পরিবহনের বাসটি বরগুনা থেকে যাত্রী নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে, পঞ্চগড় থেকে বালু নিয়ে একটি ট্রাক যাচ্ছিল ঝিনাইদহের দিকে। ভোরে সরকারপাড়া এলাকায় পৌঁছালে যানবাহন দুটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এসআই শামীম হোসেন বলেন, ট্রাকটি মহাসড়কের বাম পাশের লেন দিয়ে চলছিল। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দ্রুতগতিতে চলা বাসটি অন্য একটি যানবাহনকে ওভারটেক করার সময় ট্রাকটির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান আরও কয়েকজন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন সেনা কর্মকর্তা আছেন বলে জানিয়েছেন নাটোরের পুলিশ সুপার (এসপি) শরীফুল ইসলাম। দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতাল, বড়াইগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতাল এবং রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহত অন্যদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
দুর্ঘটনার সময় বাসে থাকা যাত্রী আব্দুস সালাম বলেন, বাসটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী ছিলেন। সব আসন পূর্ণ থাকায় অনেককে দাঁড়িয়ে যেতে হচ্ছিল। যাত্রীদের ভিড়ে বাসের ভেতরে পা ফেলারও জায়গা ছিল না। তাঁর ভাষ্য, বাসটি দ্রুতগতিতে চলছিল এবং চালক মাঝেমধ্যে জোরে ব্রেক করছিলেন। এতে যাত্রীরা আসন থেকে ছিটকে পড়ছিলেন।
এদিকে নাটোর সদর আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোর-আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ, জেলা প্রাশাসক সুমনী আক্তার, পুলিশ সুপার শরীফুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ৭ সদস্যদের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
হুইপ দুলু বলেন, দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নিহত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তাছাড়া দুর্ঘটনা রোধে পাবনা-বনপাড়া মহাসড়কটি প্রশস্ত করার উদ্যেগ নেবেন তিনি।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১৪