দিশেহারা ভোলার কৃষক
বৃষ্টির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে আমন ক্ষেত
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২০-১০-২০২৬ ১২:০৬:৫৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২০-১০-২০২৬ ১২:০৬:৫৪ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
আমন ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য ক্ষেতে পর্যাপ্ত পানি ও আর্দ্রতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। অথচ ভোলায় টানা দুই সপ্তাহ ধরে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাত না থাকায় আমন ক্ষেতে তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির অভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকার অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। কোথাও ধানের চারা লালচে ও দুর্বল হয়ে পড়ছে, আবার কোথাও পানির অভাবে দেখা দিচ্ছে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ ও নানা রোগবালাই। এমন বিরূপ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য ফলন বিপর্যয় ও বাড়তি খরচের আশঙ্কায় পড়েছেন উপকূলীয় এ জেলার হাজারো কৃষক।
সরেজমিনে ভোলার দৌলতখান উপজেলার চরখলিফা ও জয়নগর এবং সদর উপজেলার চরসামাইয়া ও ভেদুরিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন কৃষিজমি ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টিনির্ভর আমন ক্ষেতগুলোতে পানির হাহাকার চলছে। বিশেষ করে উঁচু জমিগুলোর মাটি শুকিয়ে বড় বড় ফাটল ধরেছে। সদ্য বেড়ে ওঠা ধানের চারা পানির অভাবে সতেজতা হারিয়ে ফ্যাকাশে ও দুর্বল হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আশ্বিনের মাঝামাঝি পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় চলতি মৌসুমে আমন চাষ নিয়ে তেমন কোনো শঙ্কা ছিল না। কিন্তু, গত দুই সপ্তাহ ধরে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা না মেলায় পুরো পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। মাঝে দু-একদিন বিচ্ছিন্নভাবে কোনো কোনো এলাকায় সামান্য গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও তা কৃষিজমির পানির চাহিদা মেটানোর জন্য একেবারেই অপ্রতুল।
দৌলতখানের জয়নগর এলাকার কৃষক কবির ফরাজী বলেন, আমন ধানের মাঝামাঝি সময়টায় আমরা মূলত বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করি। এখন আকাশে মেঘ জমলেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি হচ্ছে না। জমি শুকিয়ে ফাটল ধরছে, যা আমাদের দুশ্চিন্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
একই উপজেলার চরখলিফা গ্রামের কৃষক জালাল আহমেদ জানান, তিনি বাড়ির পাশের জমিতে সেচ মেশিনের সাহায্যে পানি দিয়ে আমনের চারা বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু অনাবৃষ্টি আর তীব্র রোদে চারাগুলো লালচে হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত বৃষ্টি না হলে আবারো বাড়তি খরচ করে সেচ দিতে হবে।
ভোলা সদরের চরসামাইয়া ইউনিয়নের কৃষক সুরুজ মিয়া আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, উঁচু জমিগুলো ইতোমধ্যে শুকিয়ে গেছে। পানি না থাকার সুযোগে ক্ষেতে পোকার আক্রমণও বাড়ছে। আর কয়েক দিনের মধ্যে ভালো বৃষ্টি না হলে বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা খরচ করে সেচের ব্যবস্থা করতে হবে।
বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি সাহাব-উদ্দিন ফরাজী বলেন, আমন ধানের প্রাথমিক ও চারা বৃদ্ধির সময়ে জমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা থাকা আবশ্যক। দীর্ঘ সময় ধরে পানি সংকট বজায় থাকলে চারার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রোগ ও পোকার আক্রমণের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়ে, যা চূড়ান্ত পর্যায়ে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় অনেক বাড়িয়ে দেয়।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক খায়রুল ইসলাম মল্লিক জানান, বৃষ্টির অভাবে কিছু আমন ক্ষেত শুকিয়ে গেলেও এখনই বড় ধরনের কোনো শঙ্কার কারণ দেখছেন না তারা। আশা করা যাচ্ছে সামনে বৃষ্টি হলে মাঠের এই পানির সংকট কেটে যাবে। তবে, এই মুহূর্তে কৃষকদের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে চাষাবাদ বজায় রাখার অনুরোধ জানান তিনি।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স