ঢাকা , সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ , ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলাপাড়ায় শিশু রাইয়ান হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে দল থেকে বহিষ্কার

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৯-১০-২০২৬ ০৪:১৭:৩৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৯-১০-২০২৬ ০৪:১৭:৩৪ অপরাহ্ন
কলাপাড়ায় শিশু রাইয়ান হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে দল থেকে বহিষ্কার ফাইল ছবি
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দশ মাসের শিশু রাইয়ানকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি আল-আমিনকে (৫০) দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আল-আমিন উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তাঁকে গতকাল ১৮ অক্টোবর বহিষ্কার করা হয়েছে। কলাপাড়া উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম হাওলাদার স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদিকে বর্বর ও নৃশংস এই হত্যাকান্ডের প্রধান আসামি আল-আমিনকে কলাপাড়া থানা পুলিশ পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। কলাপাড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে চাঞ্চল্যকর, নৃশংস হত্যাকান্ডের আসল রহস্য উদঘাটনে পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে আল-আমিনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম নিশ্চিত করেন।

এর আগে নিখোঁজের ৫৩ ঘন্টা পরে শিশু রাইয়ানের মৃতদেহ গুটাবাছা গ্রামের নিজ বাড়ির পাশের খাল থেকে পুলিশ শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উদ্ধার করে। লাশটি একটি কাপড়ের তৈরি বাজারের ব্যাগের মধ্যে কচুরিপানার নিচে পাওয়া গেছে। বেলা ১১টার দিকে স্থানীয়রা প্রথমে দূর্গন্ধ পাচ্ছিলেন। পরে কচুরিপানার মধ্যে ব্যাগটি দেখতে পায়। থানা পুলিশকে খবর দেয়ার পরে থানা পুলিশ শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করে। গত ১৫ অক্টোবর ভোর থেকে ঘুটাবাছা গ্রামের এই শিশুটি নিখোঁজ ছিল। শিশুটির মা রুমা বেগম নিখোঁজ হওয়ার দিন বৃহস্পতিবার রাতে (১৫ অক্টোবর) কলাপাড়া থানায় আল-আমিনকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা করেন। যার প্রেক্ষিতে আল-আমিনকে পুলিশ গ্রেফতার করে পরের দিন আদালতে প্রেরণ করে। গ্রেফতার আল-আমিন নিহত শিশুর আপন খালু।

রুমা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে বাবা রাসেলের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিল তাঁদের দুগ্ধপোষ্য শিশু রাইয়ান। ভোরে উঠে তিনি ঘরের বাইরে কাজে ব্যস্ত ছিলেন। একটু পরে এসে দেখেন রাইয়ান নেই। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। পুকুরে তল্লাশি চলে। এলাকায় মাইকিং করা হয়। কিন্তু কোথাও মেলেনি রাইয়ানের সন্ধান। 

শিশুটির এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নিষ্পাপ শিশুটির সঙ্গে এমন নৃশংসতা কেন ঘটল, তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত এবং দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই দাবিতে কলাপাড়া পৌর শহরে রবিবার কলাপাড়া প্রেসক্লাব চত্বরে ছাত্র-জনতার ব্যনারে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি খুব দুঃখজনক। আসল খুনিকে শনাক্তে আমরা কাজ করছি। মামলার প্রধান আসামি নিহত শিশুর আপন খালু আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।”

কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নৃশংস এই হত্যাকান্ডের ঘটনাটি এখন সর্বত্র আলোচিত রয়েছে। পরিবারের আহাজারিতে সেখানকার পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাইয়ানের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এখনও প্রতিদিন শত শত মানুষ ওই বাড়িতে যাচ্ছেন। 

আজ সোমবার দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন নিহত শিশু রাইয়ানের বাড়িতে গিয়েছেন। তিনি সন্তান হারানো দম্পতিকে শান্তনা দিয়েছেন। কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করেন। পরিবারের পাশে থেকে সকল ধরনের সহায়তার আশ^াস দিয়েছেন।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ