বেগম খালেদা জিয়ার দেওয়া কুয়াকাটার আশ্রয়নের ঘরটি ফেরত চান রাখাইন মাথান
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৯-১০-২০২৬ ০২:৪৭:৫৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৯-১০-২০২৬ ০২:৪৭:৫৪ অপরাহ্ন
ফোকাস বাংলা নিউজ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার দেওয়া বিশেষ আবাসনের ঘরটিও হাতছাড়া হয়ে গেছে রাখাইন নারী মাথানের। ঘরটির সামনের দোকান দুইটিও বেহাত হয়ে গেছে। আবাসনের ঘরটিতে থেকে রাখাইন মহিলা মার্কেটে নিজের দোকানটি পরিচালনা করতেন। এখন ওই দোকানটিও বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ উপার্জনহীন হয়ে যাওয়ায় কেরানিপাড়া ছেড়ে এখন পক্ষিয়াপাড়া রাখাইন পল্লীতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন মাথান। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটার কেরানিপাড়া রাখাইন পল্লীর এই নারী এখন আশ্রয়হারা হয়ে পড়েছেন।
২০০৪ সালের ২ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়া কুয়াকাটায় সফরকালে রাখাইনদের দুরবস্থা দেখে তাঁদেরকে বিশেষ আবাসনের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেন। ওই নির্দেশনার আলোকে হতদরিদ্র ও দরিদ্র রাখাইনদের বিশেষ আবাসনের লক্ষ্যে পটুয়াখালী জেলা আশ্রয়ন প্রকল্প টাস্কফোর্স কমিটি ২০জনের একটা তালিকা অনুমোদন করেন। কলাপাড়া উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে কুয়াকাটার কেরানিপাড়ায় রাখাইনদের বসত ঘরের আদলে ২০টি টংঘর নির্মাণ করা হয়। যেখানে মাথানকে ছয় নম্বর ঘরটি বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেখানে মাথান বসবাস করে আসছিলেন। পরবর্তিত সরকার পরিবর্তনের কারণে মাথানকে তাঁদেরই স্বজাতি এক নিকটজন পরিকল্পিতভাবে ওখান থেকে উচ্ছেদের জন্য প্রথমে মামলা ঠুকে দেয়। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের প্রভাবে তাঁকে উচ্ছেদ করে ওই ঘরে রাখাইন উচু মং বসবাস শুরু করেন। এরপরে টংঘরটির সামনের দোকান দুইটি ভাড়া আদায় বন্ধ করে দেন উচু মং। গত তিন বছর ধরে ওই দোকানের ভাড়া পর্যন্ত দেয়া হয় না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ‘আবাসনের অধিকাংশ ঘর রাখাইনদের হাতছাড়া হয়ে গেছে। অনেকেই স্বেচ্ছায় জমিসহ ঘর বিক্রি করেছেন। এখন বহুতল আবাসিক হোটেল চলছে। রাখাইন পল্লীর পুরনো আদল নেই।’ অনেকের অভিযোগ, রাখাইন পাড়ার নিজস্ব (দেবোত্তর) সম্পত্তিও বিক্রি করা হয়েছে। তবে মাথানের ঘরটি ঠাঁয় দাড়িয়ে আছে। টিনের চালটিও পুরনো হয়ে গেছে। সামনের দোকান দুইটির ভাড়াটিয়াও ঠিক আছে। শুধু নেই কোন কিছুই মাথানের নিয়ন্ত্রণে। সব যেন হাতছাড়া হয়ে গেছে। সেখানে উচু মং নামের এক রাখাইন থাকছেন।
মাথান জানান, ভাড়াটে জয়নাল ও আবু হানিফ এখন আর তাঁকে কোন টাকা দেন না। চার হাজার টাকা করে দেন উচুর নিয়োজিত ইমাথো মংকে। এভাবে নিঃস্ব করে দেওয়া হয় মাথানকে। তবে অভিযুক্ত উচু মং দাবি করেন, মাথান কখনো এই ঘরে ছিলেন না। দখলের কথা সঠিক না। মিথ্যা কথা। দোকানের বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি।
বর্তমানে মাথান তাঁর এই বেদখল হওয়া আবাসনের ঘরসহ দোকান উদ্ধারে ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। ভাড়াটে দোকানি জয়নাল ও আবু হানিফ জানান, আমরা আগে মাথানকে ভাড়ার টাকা দিতাম। এখন উচুর দখলে থাকায় তাঁকে ভাড়ার টাকা দেন। বর্তমানে হতভাগী মাথান রাখাইন নারী তার কলেজ পড়ুয়া সন্তানদের নিয়ে নিজের অধিকার আদায়ের জন্য লড়তেও স্বাচ্ছন্দবোধ করছেন না। হতাশ এই নারী জানান, বর্তমানে তিনি সকলের কাছে ঘুরছেন। কিন্তু কোন সমাধান মেলেনি। তিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘ ওনার (প্রধানমন্ত্রী) মা আমাকে ঘর দিছে। কিন্তু হাতছাড়া হইয়া গ্যাছে।’ উদ্ধার করার জন্য সহায়তা চান।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স