ঢাকা , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ , ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ঘিরে নানা প্রশ্ন, জটিলতা

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৮-১০-২০২৬ ১১:১৯:০৬ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ১৮-১০-২০২৬ ১২:৪৬:১৯ অপরাহ্ন
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ঘিরে নানা প্রশ্ন, জটিলতা ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের মক্কা নগরীর একটি মসজিদে ‘অনৈতিক’ কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটি। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস ও তাদের পরিবারকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি।

এতে কনস্যুলার অধিকার ও ভিয়েনা কনভেনশনের বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে কি না সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানায়, ঘটনার বিস্তারিত জানতে গত বৃহস্পতিবার জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কূটনৈতিক সূত্র।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে গত বুধবার দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক ও অশালীন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের আটক করেছিল নিরাপত্তা বাহিনী।

জেদ্দায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুই বাংলাদেশির আটক, বিচার ও শাস্তি কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ দূতাবাসকে কোনো তথ্য দেয়নি। এমনকি তাদের নাগরিকত্বও দূতাবাসের মাধ্যমে যাচাই করা হয়নি বলে জানা গেছে।

১৯৬৩ সালের কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিক আটক হলে তাকে কনস্যুলার সহায়তা পাওয়ার অধিকার সম্পর্কে জানাতে হয়। আটক ব্যক্তি চাইলে তার দেশের কনস্যুলার কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা এবং যোগাযোগের সুযোগ দেওয়ার বিধানও রয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ড. রায়হান রশীদের মতে, দুই বাংলাদেশির বিচার ও আপিল প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে চলার কথা। তাই পুরো প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের কিছুই জানতে না পারার বিষয়টি প্রশ্ন তৈরি করে। তার মতে, আটক ব্যক্তিরা কনস্যুলার সহায়তা নিতে চান কি না, সে বিষয়ে তাদের অবহিত করার প্রমাণ সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে থাকার কথা।

ব্র্যাকের অভিবাসন বিভাগের প্রধান শরীফুল হাসানও মনে করেন, এ ঘটনায় সৌদি আরব ভিয়েনা কনভেনশনের বিধান লঙ্ঘন করেছে। তার প্রশ্ন, দুই বাংলাদেশি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেয়েছিলেন কি না এবং তারা কনস্যুলার সহায়তা পেয়েছিলেন কি না সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।

তবে সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবিরের মতে, সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার সম্পন্ন হলে বাংলাদেশকে তা জানানোর বাধ্যবাধকতা আছে কি না, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট আইনি বিধানের ওপর। তাঁর মতে, বাংলাদেশ তথ্য চাইলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জবাব দিতে পারে, তবে এ ক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতা নিয়ে স্পষ্টতা নেই।

দুই বাংলাদেশির মরদেহ বর্তমানে কোথায় রয়েছে, তা জানে না বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। ফলে মরদেহ কবে দেশে ফিরবে, কিংবা আদৌ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য না দেওয়ায় দুই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। সাধারণত পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে দূতাবাস মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। কিন্তু এ ঘটনায় এখনো প্রয়োজনীয় তথ্য ও যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়নি। ফলে দুই বাংলাদেশির বিচার, কনস্যুলার অধিকার এবং মরদেহ প্রত্যাবাসন সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন 

 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ