বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ১২২ দেশের মধ্যে ৮৪তম বাংলাদেশ
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
১৬-১০-২০২৬ ০৩:৩৯:২৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৬-১০-২০২৬ ০৩:৩৯:২৯ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে ক্ষুধা নিরসনের অগ্রগতিতে বাংলাদেশের গতি আগের চেয়ে অনেকটাই মন্থর হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রকাশিত সর্বশেষ ‘গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স ২০২৬’ বা বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বর্তমানে বিশ্বের ১২২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম।
২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ক্ষুধা সূচকে ৪২ শতাংশেরও বেশি উন্নতি হলেও ২০১৮ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত এই অগ্রগতির হার নেমে এসেছে মাত্র ৪ শতাংশে। বর্তমানে ১৯ দশমিক ২ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশ আগের মতোই ‘মাঝারি মাত্রার ক্ষুধা’র দেশে অবস্থান করছে, যা ২০১৮ সালে ছিল ২০।
সূচকের বিস্তারিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অন্যান্য ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি থাকলেও শিশুদের তীব্র অপুষ্টির হার হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়াটাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী উচ্চতার তুলনায় কম ওজনের শিশুদের হার ২০১৮ সালে যেখানে ছিল ৮ দশমিক ৪ শতাংশ, তা বেড়ে ২০২৬ সালের মূল্যায়নে ১২ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০০০ সালের পর সর্বোচ্চ। তবে আশার কথা হচ্ছে, অন্যান্য প্রধান সূচকগুলোতে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে।
২০১৮ সালের তুলনায় শিশুদের খর্বাকৃতির হার ২৯ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে। এছাড়া অপুষ্টিতে ভোগা মোট জনসংখ্যার অনুপাত ১২ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুহার ৩ point ৩ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩ শতাংশে।
প্রতিবেদনে দীর্ঘমেয়াদি এই ইতিবাচক পরিবর্তনকে একটি পুরো প্রজন্মের অর্জিত সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০০০ সালে দেশে শিশুদের খর্বাকৃতির হার যেখানে ছিল ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ, সেখান থেকে এই ধারাবাহিক উন্নতির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে মা ও অভিভাবকদের শিক্ষা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা ও আধুনিক স্যানিটেশন ব্যবস্থার প্রসার এবং সার্বিক জীবনযাত্রার মানের প্রবৃদ্ধি।
আঞ্চলিক বিচারে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। প্রতিবেশী ভারতে এই স্কোর ২৪ দশমিক ১, পাকিস্তানে ২৫ দশমিক ৫ এবং আফগানিস্তানে ২৮ দশমিক ৬। এই তিনটি দেশই ক্ষুধা সূচকে ‘গুরুতর’ তালিকায় পড়ে রয়েছে। অন্যদিকে নেপাল ও শ্রীলঙ্কা যথাক্রমে ১৪ দশমিক ৫ এবং ১০ দশমিক ২ স্কোর নিয়ে বেশ সুবিধাজনক জায়গায় অবস্থান করছে। পুরো দক্ষিণ এশিয়ার গড় স্কোর বর্তমানে ২৩ দশমিক ৫ এবং বৈশ্বিক গড় স্কোর ১৮ দশমিক ১।
বিশ্বের সার্বিক খাদ্য পরিস্থিতির পর্যালোচনায় এবারের প্রতিবেদনে আফ্রিকার দেশ সোমালিয়া ১২২তম স্থান নিয়ে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বৈশ্বিক চার অঞ্চল ফিলিস্তিনের গাজা, ইয়েমেন, সুদান এবং দক্ষিণ সুদানকে চরম খাদ্য সংকটে থাকা ‘হাঙ্গার হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
মূলত অপুষ্টির সার্বিক অনুপাত, শিশুদের খর্বাকৃতি, আকস্মিক তীব্র অপুষ্টি এবং শিশুমৃত্যুর হার—এই চার প্রধান উপাদানের ওপর ভিত্তি করেই প্রতি বছর বিশ্বের দেশগুলোর বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক নির্ধারণ করা হয়।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স