সাত অভ্যাসে বাড়তে পারে রক্তে শর্করা
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
১৫-১০-২০২৬ ১২:১৬:৪৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৫-১০-২০২৬ ১২:১৬:৪৪ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
শুধু মিষ্টি খেলেই রক্তে শর্করা বা সুগারের মাত্রা বাড়ে না। প্রতিদিনের কিছু অনিয়মিত অভ্যাসও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কী খাচ্ছেন, কতটা হাঁটাচলা করছেন, পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। তাই সুস্থ থাকতে যে সাতটি অভ্যাসের বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন, সেগুলো জেনে নেওয়া যাক।
১. খালি পেটে চিনি দেওয়া চা বা কফি পান
সকালে ঘুম থেকে উঠেই চিনি দেওয়া চা বা কফি পান করার অভ্যাস অনেকের রয়েছে। সঙ্গে বিস্কুট বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়। এসব খাবারে থাকা চিনি ও পরিশোধিত শর্করা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বাড়াতে পারে। তাই চা-কফিতে চিনি কমানো এবং সকালের খাবারে প্রোটিন ও আঁশসমৃদ্ধ খাবার রাখা ভালো।
২. ঘুম থেকে উঠে দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকা
সকালে ঘুম থেকে উঠে দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সকালে শরীরে কর্টিসল হরমোনের স্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। এ সময় হালকা হাঁটাচলা ও নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম উপকারী হতে পারে।
৩. সকালে ঘুম থেকে উঠে ধূমপান করা
তামাকের নিকোটিন শরীরের ইনসুলিন ব্যবহারের ক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে ইনসুলিন প্রতিরোধের ঝুঁকি বাড়ে এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হতে পারে। তাই ধূমপান পরিহার করা স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৪. পর্যাপ্ত পানি পান না করা
শরীরে পানির ঘাটতি হলে রক্তে গ্লুকোজের ঘনত্ব বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে। তাই দিনের বিভিন্ন সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন। তবে যাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শে পানি পানের পরিমাণ সীমিত রাখতে হয়, তাঁদের সেই নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
৫. অনিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়া
কাজের ব্যস্ততায় অনেকেই সকালের নাশতা দেরিতে করেন কিংবা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকেন। এতে সবার রক্তে শর্করা বাড়বে, এমন নয়। তবে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা এবং পরে একসঙ্গে বেশি খাবার খাওয়া গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই নিয়মিত সময়ে সুষম খাবার খাওয়া এবং খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা ভালো।
৬. পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া
নিয়মিত কম ঘুমানো বা ঘুমের মান খারাপ হলে শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা কমে যেতে পারে। এর ফলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। এ জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং ঘুমের আগে দীর্ঘ সময় মুঠোফোনের পর্দায় তাকিয়ে থাকা এড়িয়ে চলা উপকারী।
৭. ওষুধ খাওয়ার নিয়মে অনিয়ম করা
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ বা ইনসুলিন নির্ধারিত নিয়মে ব্যবহার করা জরুরি। নিজের ইচ্ছায় ওষুধ বাদ দেওয়া, মাত্রা পরিবর্তন করা কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নতুন ওষুধ খেলে রক্তে শর্করার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। কিছু ওষুধও গ্লুকোজের মাত্রা বাড়াতে পারে। তাই ওষুধের কোনো পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুষম খাবার, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান পরিহার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। রক্তে শর্করা বারবার বেড়ে গেলে বা অস্বাভাবিক ওঠানামা করলে পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স