২০২৭ সালেও ডিজেল সংকটের আশঙ্কা, বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
১৫-১০-২০২৬ ১২:০৫:১৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৫-১০-২০২৬ ১২:০৫:১৭ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ সংকট ২০২৭ সালের বড় একটি সময়জুড়েও অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটের কারণে জ্বালানিটির দাম উচ্চপর্যায়ে থাকলে শিল্প উৎপাদন, কৃষি ও পরিবহন খাতে ব্যয় বাড়বে।
পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বাধাগ্রস্ত করতে পারে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।
জ্বালানিবাজারে অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার পরিমাণ ও সময় নির্ধারণ নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি চলছে। এমন পরিস্থিতিতে ডিজেলের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
শিল্পকারখানায় উৎপাদন, কৃষিকাজ, পণ্য পরিবহন এবং ব্যক্তিগত যানবাহনে ডিজেলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানিটির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন দেশের সরকার, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ডিজেলনির্ভর খাতগুলোতে উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, ডিজেলের সরবরাহ বাড়াতে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোকে মজুত থেকে জ্বালানি বাজারে ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া না হলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
আইইএর মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিজেলের রেকর্ড উচ্চমূল্যের প্রভাব ইতোমধ্যে অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে পণ্য উৎপাদন ও পরিবহনের খরচ বাড়ছে। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভোক্তাদের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমছে। একই সঙ্গে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ আরও জোরালো হচ্ছে।
সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় ডিজেলের বাজার পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠেছে। সাধারণত বছরের এই সময়ে জ্বালানির মজুত বাড়ার কথা থাকলেও বর্তমানে তা কমছে। ফলে ভবিষ্যতে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত অব্যাহত থাকলে ডিজেলের বাজারে সংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আইইএ। সংস্থাটির মতে, সরবরাহের ঘাটতি সামাল দিতে বিদ্যমান মজুতের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। এতে বাজারের সুরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে। ২০২৭ সালে সরবরাহে উদ্বৃত্ত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগপর্যন্ত আগামী কয়েক মাস বিশ্ববাজারে ডিজেলের সংকট ও মূল্য অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব জ্বালানি খাতের গণ্ডি ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়েও পড়তে পারে। পরিবহন খরচ বাড়লে বাজারে পণ্য সরবরাহের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে, কৃষিতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলে খাদ্যপণ্যের দামও বাড়তে পারে। শিল্পকারখানায় উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে পণ্যের চূড়ান্ত মূল্য বাড়ার পাশাপাশি ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ডিজেলের সরবরাহসংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে উৎপাদন, বাণিজ্য ও ভোগব্যয় বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স