ঢাকা , বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ , ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​পদত্যাগ করিনি, সুস্থ হয়ে দায়িত্বে ফিরব: চুয়েট ভিসি

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৪-১০-২০২৬ ০৭:৫৪:৩৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৪-১০-২০২৬ ০৭:৫৪:৩৫ অপরাহ্ন
​পদত্যাগ করিনি, সুস্থ হয়ে দায়িত্বে ফিরব: চুয়েট ভিসি ​ছবি: সংগৃহীত
সুস্থ হয়ে আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বে ফেরার কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।

পদত্যাগ করেছেন এবং ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে ফিরবেন না, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন খবরকে অসত্য বলে দাবি করেছেন তিনি। অন্যদিকে, উপাচার্যকে ক্যাম্পাস ছাড়ার আগে আর না ফেরার শর্ত দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তিনি ফিরে এলে আন্দোলন আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।

এর আগে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্রায় ৩০ ঘণ্টা নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকার পর চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে ক্যাম্পাস ছাড়েন তিনি। বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে যে আমি পদত্যাগ করেছি এবং ভবিষ্যতে কখনো চুয়েট ক্যাম্পাসে পদার্পণ করব না। এ ধরনের কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি আমি দিইনি। অসুস্থতার কারণেই আমি ক্যাম্পাস ছেড়েছিলাম। এখনো আমি অসুস্থ এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছি। সুস্থ হয়ে আমি আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করব, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রের দেওয়া দায়িত্ব পালন করতেই চট্টগ্রামে এসেছি। কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা বিশেষ কোনো এজেন্ডা নিয়ে আসিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম সচল রাখাকে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের দ্রুত শ্রেণিকক্ষে ফেরার আহ্বান জানাই।’

অন্যদিকে, বুধবার এক বিবৃতিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, উপাচার্যকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার আগে তাকে আর না ফেরার শর্ত দিয়েছিলেন তারা। শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে শর্তটি জানানোর পর তারা প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে যান। পরে ফিরে এসে শিক্ষার্থীরা গণমাধ্যমের সামনে তিনবার শর্তটির কথা জানান। সে সময় উপাচার্য বা তার সঙ্গে থাকা অন্যরা আপত্তি করেননি বলে দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। এ কারণে শর্তটি মেনে নেওয়া হয়েছে বলে তারা ধরে নিয়েছিলেন। উপাচার্য আবার ক্যাম্পাসে ফেরার চেষ্টা করলে আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে বলেও বিবৃতিতে জানান তারা।

চুয়েট শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির বলেন, ‘তালা ভেঙে উপাচার্য ভবনে প্রবেশের ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। ভবনের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রয়েছে। সেগুলো চুরি হয়েছে কি না এবং কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে আমরা অটল রয়েছি। আমরা কর্মবিরতি ও অসহযোগ চালিয়ে যাব।’

তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা অধ্যাপক সায়েম স্যারকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। এই আন্দোলন চালিয়ে যাব। আর সায়েম স্যারকে পুনর্বহালের দাবিতে শাটডাউন কর্মসূচি চলমান থাকবে।’

গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এতে ক্লাস-পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি উপলক্ষে বুধবার সকালে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ব্যাগ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে ক্যাম্পাস ছাড়তে দেখা যায়।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচকে/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ