১২৩ বছরের জীবনের অবসান, না ফেরার দেশে আব্বাস প্রামাণিক
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
১২-১০-২০২৬ ০৯:৫৫:৩৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১২-১০-২০২৬ ০৯:৫৫:৩৪ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
১২৩ বছর বয়সী প্রবীণ আব্বাস প্রামাণিক মারা গেছেন। বার্ধক্যজনিত কারণে সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামের নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় দূর্গাপুর প্রাইমারী স্কুল মাঠে মরহুম আব্বাস প্রামাণিকের জানাজা নামাজ শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হবে।
জানা গেছে, দীর্ঘ জীবনের ইতিহাসে ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান আমল এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন দেখেছেন আব্বাস প্রামাণিক। তার ভোটার আইডি কার্ডে জন্ম তারিখ ১৯০৩ সাল। কর্মজীবনে মাত্র ৬০ টাকা বেতনে শিক্ষকতা করেছেন।
পাশাপাশি এলাকায় ছেলে-মেয়েদের বিনা মূল্যে কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন। তার দুই মেয়ে ও ছয় ছেলে রয়েছে। তিনি মৃত সদর উদ্দিনের ছেলে। কর্মজীবনে তিনি খুবজীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।
সম্প্রতি বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া শরীর নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের অনুষ্ঠানে হাজির হন আব্বাস প্রামাণিক। সে সময় সবার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হন তিনি। শেষ বয়সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় আলোচিত ব্যক্তি হয়ে উঠেন আব্বাস। বিস্ময়কর বিষয় হলো-১২৩ বছর বয়সেও চশমা ছাড়াই নিয়মিত নামাজ-কোরআন পড়তেন তিনি। খালি চোখে স্পষ্ট দেখতে পেতেন হাতে রাখতেন ক্যাসিও ঘড়ি।
তার স্ত্রী অনেক আগেই মারা গেছেন। নাতি-বউয়েরা সামর্থ্য অনুযায়ী তার দেখাশোনা করতেন। একসময় অর্থ-সম্পদও ছিল তার। তবে ভাঙাচোরা ঘরেই জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলেছেন। নিজের কাজ নিজেই করতেন। বেশির ভাগ সময় হেঁটেই চলাচল করেছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আব্বাসের মেয়ে আলিমা বেগম বলেন, ৫ বছর বয়সে মা মারা যান। বাবার কাছেই বড় হয়েছি। সুযোগ পেলেই পছন্দের খাবার নিয়ে বাবাকে দেখতে যেতাম। তিনি তার সন্তান ও নাতিদের সঙ্গেই থাকতেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, প্রবীণ ব্যক্তিদের একজন ছিলেন আব্বাস প্রামাণিক। উপজেলা প্রশাসন সব সময় তার পাশে ছিলেন। আব্বাস প্রামাণিক মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। মরহুমে রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচকে/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স