অবৈধ অভিবাসন শূন্যে নামানোর প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১২-১০-২০২৬ ০৩:২৯:৪৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১২-১০-২০২৬ ০৪:১৫:৩১ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করে অবৈধ অভিবাসন শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। লক্ষ্য–ইউরোপের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শতভাগ বৈধ ও দক্ষ হিসেবে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইইউর স্বরাষ্ট্র ও অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনারের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধ, বৈধ পথে দক্ষ জনশক্তি পাঠানো, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অবৈধ অভিবাসনের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ পথে মানবপাচার রোধে ইইউর সঙ্গে একযোগে কাজ করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অন্যদিকে ইইউ কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্বের প্রশংসা করে জানান, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করা উভয়েরই মূল অগ্রাধিকার। অনিয়মিত প্রবাহ কমলে ইউরোপের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধভাবে কাজের সুযোগ বহুলাংশে সহজ হবে।
বৈঠকে ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ প্রকল্পের অধীন বাংলাদেশি কর্মীদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও সনদ দেওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে কথা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রায় ৭৫০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীর আন্তর্জাতিক সনদ জটিলতা নিরসনে ইইউভুক্ত দেশগুলোর প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে এসে সরাসরি প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে ইইউ প্রতিনিধিদল ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধী শনাক্ত ও যাত্রী চলাচল পর্যবেক্ষণে চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেশের সব বিমান, স্থল ও সমুদ্রবন্দরে ‘অ্যাডভান্সড প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন অ্যান্ড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ চালুর পরিকল্পনা জানানো হয়, যা সরাসরি ইন্টারপোলের ডেটাবেজের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে ইউরোপীয় বর্ডার অ্যান্ড কোস্ট গার্ড এজেন্সি (ফ্রন্টেক্স)-এর সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সমঝোতা স্থাপনের বিষয়েও কথা হয়।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে এই সংকট এখন বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মির ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য ইইউর সহায়তা চাওয়া হলে তারা যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার আশ্বাস দেয়।
বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ডিরেক্টর হেনরিক নিলসেনসহ যৌথ প্রতিনিধিদল এবং বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচকে/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স