ঢাকা , সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ , ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ-রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১২-১০-২০২৬ ০৩:০১:২০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১২-১০-২০২৬ ০৩:০১:২০ অপরাহ্ন
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ-রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা ছবি : সংগৃহীত
দীর্ঘ ছয় বছর পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে সংগৃহীত স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার ওজন নির্ধারণ এবং গণনার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে নয়টি মাঝারি আকারের কনটেইনার ও ছয়টি সিলগালাকৃত খাম খুলে এ কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে জেলা প্রশাসনের ট্রেজারি থেকে স্বর্ণ ও রুপার অলংকার কড়া পুলিশি প্রহরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনা হয়। পাগলা মসজিদে আগত দর্শনার্থীরা নগদ টাকার পাশাপাশি স্বর্ণ ও রুপার অলংকার এবং বৈদেশিক মুদ্রা দান করে থাকেন।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অলংকার গণনা ও নিলামে বিক্রির কার্যক্রমে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত আছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ খান সোহেল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এরশাদুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইশতিয়াক ইমন, পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জেবুন নাহার শাম্মী এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মারুফ।

স্বর্ণ, রূপা ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা এবং ওজন নির্ধারণ কার্যক্রমের সার্বিক নিরাপত্তায় তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১০ জন পুলিশ সদস্য ও ছয়জন এসআরবি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছয়জন কর্মচারী, মসজিদের কর্মচারী, জুয়েলারি সমিতির ১০ জন স্বর্ণকার এবং রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা এ কাজে সহযোগিতা করছেন।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের ওজন নির্ধারণের পর বাজারমূল্য ঠিক করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে সেগুলো নিলামে বিক্রি করা হবে। অন্যদিকে, বৈদেশিক মুদ্রা দেশভিত্তিক আলাদা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, দানবাক্স খোলার পর পাওয়া টাকা রূপালী ব্যাংকে জমা করা হয়। এ ছাড়া স্বর্ণ ও রুপার অলংকার সিলগালা করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারিতে জমা রাখা হয়।

এর আগে, ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে দান হিসেবে পাওয়া স্বর্ণ ও রুপার অলংকার ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল। তখন প্রায় তিন বছর ধরে দানসিন্দুকে জমা হওয়া ৪১৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও ১৮৪ ভরি রুপা ওই দামে বিক্রি করা হয়। এ ছাড়া তখন দানসিন্দুকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫৬১ টাকা পাওয়া গিয়েছিলো।

২০২০ সালের ১১ মার্চের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৮ বার দানবাক্স খোলা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৭ জুন দানবাক্স খোলা হয়। বর্তমানে পাগলা মসজিদের তহবিলে জমা রয়েছে ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা। এ ছাড়া মসজিদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে এ পর্যন্ত ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৯০৬ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ