যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল সরবরাহে পুতিনের সম্মতি
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
১০-১০-২০২৬ ১১:২১:১৮ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
১০-১০-২০২৬ ১১:২১:১৮ পূর্বাহ্ন
ফাইল ছবি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহে মস্কোর সম্মতি পেয়েছেন তিনি। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রাশিয়ার ওপর আরোপিত যুদ্ধসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করেছেন ট্রাম্প।
২০২২ সালে প্রতিবেশী ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা মস্কোর ওপর দফায় দফায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে ট্রাম্পের এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি একে ‘অমর্যাদাকর’ ও ‘দুর্বল’ সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে এ চুক্তির ঘোষণা এল। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের মধ্যে কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়েছে। ওই সময় ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তেহরান জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, ‘রাশিয়া অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল জ্বালানি সরবরাহ করবে। নভেম্বরে রাশিয়া ৫ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করবে। এরপর সরবরাহের পরিমাণ হবে ১০ লাখ টন।’ পরবর্তী সময়ে আরও বেশি পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘আমেরিকানদের জন্য, বিশেষ করে আমাদের মহান কৃষক, খামারি ও ট্রাকচালকদের জন্য জ্বালানির দাম কমানোই আমার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’ ক্রেমলিনও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে তেল ও তেলজাত পণ্য সরবরাহের প্রস্তুতির বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছে রাশিয়া।
এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ জেলেনস্কি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি অবশ্যই সৎ কোনো কাজ নয়, আমাদের অংশীদারদের জন্য অবশ্যই অমর্যাদাকর এবং আমার দৃষ্টিতে এটি একটি দুর্বল সিদ্ধান্ত।’
এদিকে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ একটি অস্থায়ী লাইসেন্স জারি করেছে, যার মাধ্যমে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত রাশিয়ার ডিজেল বিশ্ববাজারে সরবরাহ করা যাবে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ পেট্রোলের গড় দাম ৪৬ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ৩৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ডিজেলের দাম ৬৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি গ্যালন ৬ দশমিক ২৮ ডলারে পৌঁছেছে।
জ্বালানির দাম বাড়ার জন্য ট্রাম্প রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকে দায়ী করেছেন। তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে প্রধান বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে।
এ চুক্তির খবর আসে এমন এক সময়ে, যখন সংঘাতের অচলাবস্থা ভাঙার নতুন প্রচেষ্টায় শুক্রবার মিয়ামিতে বৈঠকে বসেন ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকেরা। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেন, ‘শীত আসার আগে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ প্রশমিত ও সমাপ্ত করার সম্ভাব্য পথ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে।’
দীর্ঘদিনের ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনার গত মাসে মস্কো ও কিয়েভ সফর করেন। ওয়াশিংটন যখন সামান্য অগ্রগতি হওয়া আলোচনা আবারও এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে, তখন সেই সফরের ধারাবাহিকতায় মিয়ামির এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স