আত্মহত্যায় প্ররোচনা: এমপি গাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুর
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৭-১০-২০২৬ ০৪:৩৯:৪০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৭-১০-২০২৬ ০৪:৩৯:৪০ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (৭ অক্টোবর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ।
এদিন আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান আপসের শর্তে গাজী নজরুলের জামিন চেয়ে শুনানি করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। এ সময় মরিয়মের বাবা আদালতকে জানান, তার মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে সন্দেহের বশে আসামি করা হয়েছিল।
আদালতে এ বিষয়ে আপসনামা দাখিল করেন মামলার বাদী মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। তিনি আদালতে বলেন, আসামি নজরুলের জামিনে তার কোনো আপত্তি নেই।
তবে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত গাজী নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন।
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।
এ মামলায় গ্রেপ্তারের পর গত ২১ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুলের চার দিন এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে গত ২২ সেপ্টেম্বর মাকসুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়। একই মামলায় গ্রেপ্তারের পর ২৩ সেপ্টেম্বর মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়। চার দিনের রিমান্ড শেষে গত ২৪ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলামকে ফের চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। পরে গত ৩০ সেপ্টেম্বর মাকসুদা ইসলামকে জামিন দেন ঢাকার একটি আদালত।
উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর পর ২২ জুলাই সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় দলটির গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবগত করা হয়।
এদিকে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে গত ২১ জুলাই গাড়িচালক ও মৃত মরিয়ম খাতুনের মামা ওবায়দুর রহমান বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত ১০ আগস্ট আট সপ্তাহের জামিন পান গাজী নজরুল ইসলাম। সেই মামলার বাদী ওবায়দুরকে এবার মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় আসামি করা হয়।
মামলার বাদী উল্লেখ করেন, গত জুনে গাজী নজরুলের সঙ্গে ভিকটিমের ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। তিনি সংসদ সদস্য হওয়ায় ভিকটিম মরিয়ম ও তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকসুদা ইসলামসহ শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকার সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন।
মামলায় বলা হয়, আসামি ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সঙ্গে ভিকটিম মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভিকটিম মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে জানান তিনি।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ভিকটিমের বাবাকে মোবাইল ফোনে দ্রুত তাদের বাসায় যেতে বলেন। বাসায় গিয়ে তিনি দেখতে পান, সেখানে অনেক লোকজন উপস্থিত।
তখন তিনি জানতে পারেন, বাসার ভেতরের একটি কক্ষে ভিকটিম মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছেন। পরে শেরেবাংলা নগর পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মেয়ের মরদেহ ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় বিছানার ওপর তার লেখা একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায়।
আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং আসামিদের প্ররোচনায় তার মেয়ে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচকে/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স