শীতের আগে তেল সংকটের শঙ্কা, ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারের সতর্কতা
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
০৬-১০-২০২৬ ০৭:২৯:৩৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৬-১০-২০২৬ ০৭:২৯:৩৯ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্য থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে উঠে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পণ্য বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ভিটোলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাসেল হার্ডি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) লন্ডনে অনুষ্ঠিত এনার্জি ইন্টেলিজেন্স ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।
হার্ডি বলেন, গত সাত থেকে ১০ দিনে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং আরও প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল পরিশোধিত জ্বালানি আন্তর্জাতিক বাজারে গেছে। তবে এই সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা না গেলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
তার মতে, শীতকাল সামনে রেখে পশ্চিমা দেশগুলোর তেলের মজুত এরই মধ্যে তুলনামূলক কম। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জাহাজে করে প্রতিদিন ১ কোটি থেকে ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ অব্যাহত না থাকলে জ্বালানি বাজারে ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হার্ডি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রফতানির প্রবাহ বড় ধরনের বাধার মুখে পড়লে সরবরাহ ঘাটতি দ্রুত তীব্র হতে পারে। আর সেই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক মূল্য ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছানোর ঝুঁকি রয়েছে।
শীতের আগে বাড়ছে উদ্বেগ
বিশ্বের তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অঞ্চলটি থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি প্রতিদিন বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে যায়। ফলে এখানকার সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে তার প্রভাব দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারে ছড়িয়ে পড়ে।
বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর তেলের মজুত কম থাকায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন হার্ডি। শীত মৌসুমে ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানির চাহিদা বাড়ে। সেই সময় সরবরাহ কমে গেলে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে।
তেলের দাম বেড়ে গেলে শুধু জ্বালানি খাতই নয়, পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা, খাদ্য উৎপাদন ও পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়ে যায়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈঠক বুধবার
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নও নতুন করে আলোচনা করছে।
ইউরোপীয় কমিশনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বুধবার (৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল আটটায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের অয়েল কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ বৈঠকে বসবে। বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতিতে জোটের সর্বশেষ অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ইইউর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হলে বাজারে বড় ধরনের সংকট এড়ানো যেতে পারে। তবে জাহাজে তেল পরিবহনে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন তৈরি হলে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর মজুত দ্রুত কমতে থাকলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
সেক্ষেত্রে ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারের তেলের দাম শুধু একটি সম্ভাব্য বাজারদর নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির সংকেত হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচকে/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স