ঢাকা , সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ , ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাপ্তাই বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বাড়াতে ৮৭০ কোটি টাকার প্রকল্প

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৫-১০-২০২৬ ০৩:১৮:৪৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৫-১০-২০২৬ ০৩:৫০:৫৫ অপরাহ্ন
কাপ্তাই বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বাড়াতে ৮৭০ কোটি টাকার প্রকল্প ফাইল ছবি
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত দেশের একমাত্র কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিটের হারানো উৎপাদন ক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে ৮৬৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকার একটি নতুন প্রকল্প প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ইউনিট দুটির বর্তমানে কমে যাওয়া উৎপাদন ক্ষমতা (প্রতিটিতে প্রায় ২০ থেকে ৩০ মেগাওয়াট) থেকে আবার আগের পূর্ণ ১০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

প্রস্তাবিত ৮৬৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রকল্পে ২০০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা সরকারি তহবিল এবং ১২ কোটি ৪০ লাখ টাকা বিপিডিবির নিজস্ব অর্থ থেকে জোগানের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া বাকি অর্থ জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) থেকে ঋণ হিসেবে নেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা চলছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) নীতিগত অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সংস্কারের কাজ চলবে বলে জানা গেছে।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট দুটি ১৯৮৮ সালে স্থাপন করা হয়। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ১০ বছর পর পর ইউনিটগুলোর পূর্ণ সংস্কার প্রয়োজন হলেও দীর্ঘদিনের ব্যবহারে নানা যান্ত্রিক ও কাঠামোগত জটিলতার কারণে বর্তমানে এখান থেকে মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

এর আগে ২০১০ সালের জুন ও ২০১১ সালের এপ্রিলে সর্বশেষে এগুলোর সংস্কার করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে প্রথম বড় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ক্যাপিটেশন জটিলতা, দরপত্র বাতিল ও প্রযুক্তিগত শর্ত পালনে ব্যর্থতার কারণে সাত বছর ধরে বিষয়টি আটকে ছিল। আন্তর্জাতিক দরপত্রে টোশিবা প্রযুক্তির বাধ্যবাধকতা থাকায় স্থানীয় ঠিকাদারদের আপত্তিতে তা বাতিল হয়, যার ফলে জরুরি ওভারহলিং ছাড়াই শুধু অস্থায়ী মেরামতের ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, বিপিডিবি ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট সংস্কারে তার কাছে প্রস্তাবনা চেয়েছে এবং তিনি সংস্কার বাজেট জমা দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, এই প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়ন হতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগবে।

সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে ইউনিট দুটির হারিয়ে যাওয়া মোট ১০০ মেগাওয়াট পূর্ণ উৎপাদন ক্ষমতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এতে কেন্দ্রের স্থায়ী টেকসই নিশ্চিত হবে, বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি কমবে এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও বেগবান ও সুরক্ষিত হবে।
  
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ