দেশে এলপিজির কোনো ঘাটতি নেই। অথচ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ১২ কেজির সিলিন্ডার। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আমদানিকৃত এলপিজি মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ উঠেছে শীর্ষস্থানীয় পাঁচ কোম্পানির বিরুদ্ধে।
বিষয়টি নিয়ে সরকারকে সতর্ক করেছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া এনএসআইয়ের এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এলপিজি মজুতের অভিযোগে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো আইগ্যাস, ওমেরা, পেট্রোম্যাক্স, বিএম এনার্জি ও যমুনা।
এনএসআইয়ের ওই প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, ২২ সেপ্টেম্বর বা এর কাছাকাছি সময় থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো আমদানি করা এলপিজির সরবরাহ আটকে রেখেছিল।
গোয়েন্দা সংস্থার এমন অভিযোগ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভোক্তাদের ওই সিলিন্ডার ২ হাজার টাকারও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে আমদানির পরিমাণ ও সরবরাহের হিসাব বলছে, দেশে এলপিজির প্রকৃত ঘাটতি থাকার কথা নয়। ফলে পর্যাপ্ত আমদানি থাকা সত্ত্বেও কেন বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হচ্ছে এবং কেন ভোক্তাদের বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এনএসআইয়ের গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এলপিজি সরবরাহ আটকে রাখার ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে এলপিজির আমদানি, মজুত ও বাজারে সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচকে/এসকে
বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: লোয়াব