ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​রাত ১১টার মধ্যে বার বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে রিট

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০১-১০-২০২৬ ০৭:০৫:৫৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০১-১০-২০২৬ ০৭:০৫:৫৮ অপরাহ্ন
​রাত ১১টার মধ্যে বার বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে রিট ​ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর গুলশান, বনানী ও উত্তরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বার ও অ্যালকোহল পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো রাত ১১টার মধ্যে বন্ধ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করেছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এসএম জুলফিকুর আলী জুনু বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রিটটি দাখিল করেন। 

রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটের মহাপরিচালক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনারকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে বলা হয়, যেসব বার বা অ্যালকোহল পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানের বৈধ লাইসেন্স, সরকারি প্রজ্ঞাপন, আদেশ, বিধি বা অন্য কোনো আইনগত দলিলে বন্ধের নির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত রয়েছে, তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে সারা দেশে বারের জন্য অভিন্ন বন্ধের সময় না থাকলে রাত ১১টার মধ্যে বার বন্ধ ও অ্যালকোহল পরিবেশন বন্ধের একটি অভিন্ন নীতি প্রণয়ন করা যায় কি না, তা পরীক্ষা ও আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

যদিও রিটে স্পষ্ট করা হয়েছে, রাত ১১টা বর্তমানে সারা দেশের সব বারের জন্য বাধ্যতামূলক আইনগত বন্ধের সময়- এমন দাবি করা হয়নি। যেখানে ১১টা বা অন্য কোনো সময় বৈধভাবে নির্ধারিত রয়েছে, তা বাস্তবায়ন এবং যেখানে অভিন্ন সময় নির্ধারিত নেই, সেখানে রাত ১১টার নীতি বিবেচনার আবেদন করা হয়েছে। 

রিটে গুলশান, বনানী ও উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় কিছু বার, ক্লাব, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিনোদনকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স বা অনুমোদন ছাড়া অ্যালকোহল বিক্রি ও পরিবেশন, লাইসেন্সের শর্তের বাইরে কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় কনজাম্পশন পারমিট না থাকা ব্যক্তিদের কাছে অ্যালকোহল বিক্রির অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। এসব অভিযোগ আইনসম্মত তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

রিটে আরও বলা হয়েছে, কোনো হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্লাব বা বিনোদনকেন্দ্র পরিচালনার সাধারণ অনুমোদন থাকলেই অ্যালকোহল বিক্রি বা পরিবেশনের বৈধতা তৈরি হয় না। আইন অনুযায়ী পৃথক লাইসেন্স বা অনুমোদনের প্রয়োজন হলে তা থাকতে হবে। পাঁচতারকা বা বিলাসবহুল হোটেলের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, চোরাচালানের মাধ্যমে আনা, অবৈধভাবে আমদানি করা, অঘোষিত বা শুল্ক পরিশোধ না করা অ্যালকোহল সংরক্ষণ, সরবরাহ ও বিক্রির অভিযোগ তদন্তে কাস্টমস ও রাজস্ব কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমদানির কাগজপত্র, ক্রয় চালান, কাস্টমস ডিক্লারেশন, শুল্ক পরিশোধের নথি, স্টক রেজিস্টার, ব্র্যান্ড নিবন্ধন ও রিলিজ অর্ডারসহ প্রয়োজনীয় নথি যাচাইয়ের আবেদন করা হয়েছে।

রিটে গুলশান, বনানী ও উত্তরায় অ্যালকোহল পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত নজরদারি ও পরিদর্শনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনের সময় লাইসেন্সের বৈধতা ও নবায়ন, অনুমোদিত স্থান, কার্যক্রমের সীমা, কোটা বা অনুমোদিত পরিমাণ এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক শর্ত যাচাইয়ের আবেদন করা হয়েছে। একই ধরনের আইনসম্মত নজরদারি রাজধানীর বাইরেও সারা দেশে নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

কিছু হোটেল, ক্লাব, বার ও বিনোদনকেন্দ্রে অনুমোদনহীন ডিজে অনুষ্ঠান বা অন্যান্য বিনোদনমূলক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও রিটে তুলে ধরা হয়েছে। তবে শুধু সাধারণ অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে শাস্তি না দিয়ে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স, অনুমতি, জনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিধান বা দণ্ডবিধির কোনো বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে কি-না, তা প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণের আবেদন করা হয়েছে। 

অবৈধ অ্যালকোহল ব্যবসা, চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ মোকাবিলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পুলিশ, ঢাকা মহানগর পুলিশ, সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও কাস্টমসের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বৈধভাবে অ্যালকোহল বিক্রি বা পরিবেশনের অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর হালনাগাদ সরকারি রেকর্ড সংরক্ষণ, নিয়মিত ও ঝুঁকিভিত্তিক পরিদর্শন এবং আইন লঙ্ঘন প্রমাণিত হলে লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলের প্রক্রিয়া শুরুর আবেদন রয়েছে।

রিটে সাধারণ মানুষের অভিযোগ জানানোর জন্য একটি স্বচ্ছ জনঅভিযোগ ব্যবস্থা চালু বা শক্তিশালী করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে কতটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়েছে, কতটি প্রতিষ্ঠানে লাইসেন্সের ঘাটতি পাওয়া গেছে, কতটি ক্ষেত্রে শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, কত পরিমাণ অ্যালকোহল জব্দ করা হয়েছে এবং কতটি মামলা বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে- এসব তথ্য রাখার আবেদন করা হয়েছে।

রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গুলশান, বনানী ও উত্তরায় বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ, গোয়েন্দা তথ্য বা অন্য কোনো আইনসম্মত ভিত্তি পাওয়া গেলে অনুমোদনহীন অ্যালকোহল পরিবেশনের অভিযোগ থাকা প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। পরিদর্শনে চলমান কোনো আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাদের আইনগত ক্ষমতার মধ্যে প্রয়োজনীয় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচকে/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ