ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​গিটারকে যাত্রী ভেবে হেলমেটের মামলা দিল ‘এআই ক্যামেরা’

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ০১-১০-২০২৬ ০৫:৫৭:১২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০১-১০-২০২৬ ০৫:৫৮:১৬ অপরাহ্ন
​গিটারকে যাত্রী ভেবে হেলমেটের মামলা দিল ‘এআই ক্যামেরা’ ​ছবি: সংগৃহীত
ভারতের প্রযুক্তি নগরী বেঙ্গালুরুতে আরোহীর মাথায় হেলমেট না থাকার অভিযোগে এক স্কুটারচালককে জরিমানার নোটিশ পাঠিয়েছে ট্রাফিক পুলিশের একটি এআই ক্যামেরা। তবে ঘটনার আসল রহস্য হলো, স্কুটারের পেছনে কোনো মানুষ ছিলেন না। চালকের পিঠে ঝোলানো একটি গিটারের কেসকে ‘হেলমেট ছাড়া আরোহী’ ভেবে ভুল করেছে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিটি। এ ঘটনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইচালিত প্রযুক্তির নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌভিক দত্ত নামের এক ব্যক্তি সম্প্রতি তার স্ত্রীর ইলেকট্রিক স্কুটার চালিয়ে বেঙ্গালুরুর হেববাল থেকে টিন ফ্যাক্টরির দিকে যাচ্ছিলেন। সে সময় তার মাথায় নিয়মমাফিক হেলমেট ছিল এবং পিঠে একটি গিটার বাঁধা ছিল। কিন্তু রাস্তার মোড়ে বসানো এআই ট্রাফিক ক্যামেরা গিটারের কেসটিকে পেছনের আসনে বসা দ্বিতীয় আরোহী (পিলিয়ন রাইডার) হিসেবে ভুল শনাক্ত করে। পরক্ষণেই হেলমেট না পরার অভিযোগে জরিমানা বা চালানের নোটিশ জারি করে। পরবর্তীতে ক্যামেরায় তোলা প্রমাণসহ সেই ৫০০ রুপির জরিমানার নোটিশ পৌঁছায় স্কুটারের মালিক অর্থাৎ সৌভিকের স্ত্রীর কাছে।

বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে নেটদুনিয়ায় হাস্যরসের পাশাপাশি সমালোচনার ঝড় ওঠে। সৌভিক দত্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ট্রাফিক ক্যামেরায় ওঠা ছবিসহ চালানের বিস্তারিত তথ্য শেয়ার করে বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পোস্টে তিনি ক্ষোভ ও ব্যঙ্গ প্রকাশ করে লেখেন, ‘আমি পিঠে গিটার ঝুলিয়ে একা স্কুটার চালাচ্ছিলাম। আর আমার স্ত্রী ‘হেলমেট ছাড়া পিলিয়ন রাইডিং’-এর জন্য জরিমানা নোটিশ পেলেন! এআইভিত্তিক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্তকরণ ব্যবস্থার এই হলো নমুনা! দয়া করে এই ভুল চালানটি প্রত্যাহার করুন।’

সৌভিকের সেই পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। কমেন্ট বক্সে অনেকেই এআই ক্যামেরার এমন ভুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। একজন ব্যবহারকারী লেখেন, ‘এটি ট্রাফিক ক্যামেরার খুব সাধারণ ভুল, এমন ভুয়া জরিমানা দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।’ অন্য এক নেটিজেন অবশ্য হতাশা প্রকাশ করে লেখেন, ‘এসব ভুল চালান বাতিল করাতে গেলে চার-পাঁচ মাস ধরে নানা মানসিক হয়রানির শিকার হতে হবে।’ আবার কেউ কেউ ঠাট্টা করে মন্তব্য করেছেন, ‘ছবিতে তো সত্যিই পেছনের আসনের জন্য কোনো হেলমেট দেখা যাচ্ছে না!’

ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে সাড়াও দেওয়া হয়েছে। তারা সৌভিককে নির্দিষ্ট ইমেইল ঠিকানায় মেইল অথবা নির্ধারিত ফোন নম্বরে যোগাযোগ করে ওই ভুলের প্রতিকার নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচকে/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ