ঢাকা , বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উত্থান ও চ্যালেঞ্জ

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ৩০-০৯-২০২৬ ০২:৫৮:৪০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ৩০-০৯-২০২৬ ০২:৫৮:৪০ অপরাহ্ন
ভারতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উত্থান ও চ্যালেঞ্জ ফাইল ছবি
আন্তর্জাতিক পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তরে প্রতিবেশী  ভারত এখন আর প্রান্তিক কোনো অংশগ্রহণকারী নয়। বরং নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দেশটি বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি।

আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থার (আইআরইএনএ) হিসাবে, ২০২৫ সালের শেষে ভারতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির স্থাপিত সক্ষমতা ছিল ২৫০ দশমিক ৫২ গিগাওয়াট (জিডাব্লিউ)। এ দিক থেকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পর ভারতের অবস্থান তৃতীয়।

পারমাণবিক বিদ্যুৎও ধরলে ভারতের মোট অ-জীবাশ্ম জ্বালানি সক্ষমতা ২০২৫ সালের শেষে প্রায় ২৬৭ গিগাওয়াটে দাঁড়ায়। ২০২৬ সালে তা ৩০০ গিগাওয়াট ছাড়িয়েছে।

দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে ভারতের বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। সেই চাহিদার মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো দেশটির বিদ্যুৎব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে।

ভারতের নতুন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের (এমএনআরই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশটির অ-জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ৩০০ দশমিক ৫০ গিগাওয়াট। ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট অ-জীবাশ্ম সক্ষমতা তৈরির যে লক্ষ্য ভারত নিয়েছে, তার ৬০ শতাংশের কিছু বেশি ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে।

একই সময়ে ভারতের মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল প্রায় ৫৫২ গিগাওয়াট। এর মধ্যে অ-জীবাশ্ম জ্বালানির অংশ ৫৪ শতাংশের বেশি।

এই সক্ষমতার বড় অংশ এসেছে সৌরবিদ্যুৎ থেকে। গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত ভারতে সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা ছিল ১৬৪ দশমিক ৫৯ গিগাওয়াট। বায়ুবিদ্যুৎ ৫৮ দশমিক ১৪, জলবিদ্যুৎ ৫৭ দশমিক ২৪, বায়ো-পাওয়ার ১১ দশমিক ৭৫ এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ ৮ দশমিক ৭৮ গিগাওয়াট।

সৌরবিদ্যুতের প্রবৃদ্ধি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০১৪ সালে ভারতে সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা ছিল প্রায় ২ দশমিক ৮ গিগাওয়াট। ২০২৬ সালে তা বেড়ে প্রায় ১৬৫ গিগাওয়াট হয়েছে।

প্রবৃদ্ধির গতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরো বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত ৫৫ দশমিক ২৯ গিগাওয়াট নতুন অ-জীবাশ্ম বিদ্যুৎ সক্ষমতা যুক্ত করেছে। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ৪৪ দশমিক ৬১ গিগাওয়াট এবং বায়ুবিদ্যুৎ ৬ দশমিক ৫ গিগাওয়াট।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সাম্প্রতিক মূল্যায়নেও ভারতের এই গতি উঠে এসেছে। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৫ সালে ভারতের বার্ষিক নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সক্ষমতা বৃদ্ধির হার প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে, যা বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত। ওই বছর প্রায় ৫০ গিগাওয়াট নতুন সৌরবিদ্যুৎ এবং ৬ গিগাওয়াটের বেশি বায়ুবিদ্যুৎ সক্ষমতা যুক্ত হয়েছে।

কিছু বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, বিনিয়োগ, বিদ্যুতের চাহিদা, দেশীয় উৎপাদন, সঞ্চালনব্যবস্থা ও বাস্তবায়নের গতি অনুকূলে থাকলে ভারতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সম্প্রসারণ সরকারি লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও দ্রুত হতে পারে। তবে এ ধরনের হিসাব বিভিন্ন অনুমানের ওপর নির্ভরশীল। তাই সরকারি লক্ষ্য এবং বিশ্লেষকদের সম্ভাব্যতার হিসাবকে আলাদা করে দেখা দরকার।

শুধু লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই হয় না : ভারতের অভিজ্ঞতা দেখায়, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য শুধু লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা যথেষ্ট নয়। গত এক দশকে ভারত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র, বেসরকারি বিনিয়োগ, দেশীয় উৎপাদনে প্রণোদনা এবং বড় আকারের সঞ্চালন অবকাঠামো উন্নয়নের মতো পদক্ষেপ একসঙ্গে নিয়েছে।

পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সরঞ্জামের জন্য আমদানিনির্ভরতা কমাতেও ভারত উদ্যোগ নিয়েছে। প্রোডাকশন-লিঙ্কড ইনসেনটিভ (পিএলআই) এবং অ্যাপ্রুভড লিস্ট অব মডেলস অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারারসের (এএলএমএম) মতো উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় সৌর সরঞ্জাম উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে সৌর প্যানেল উৎপাদনের সক্ষমতা দ্রুত বেড়েছে।

এর প্রভাব শুধু বিদ্যুৎ খাতে সীমাবদ্ধ নয়। দেশীয় পরিচ্ছন্ন জ্বালানি শিল্প বড় হলে জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, আমদানির ওপর নির্ভরতা এবং বিনিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব পড়তে পারে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ভারতের অভিজ্ঞতা তাই দেখায়, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন শিল্প ও অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ গ্রিড ও বিদ্যুৎ সঞ্চয় : স্থাপিত সক্ষমতা আর প্রকৃত বিদ্যুৎ উৎপাদন এক বিষয় নয়। গত জুলাইয়ে ভারতের মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ৫৪ শতাংশের বেশি অ-জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে এলেও প্রকৃত বিদ্যুৎ উৎপাদনে এর অংশ অনেক কম। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ভারতের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ২৯ দশমিক ২ শতাংশ এসেছে অ-জীবাশ্ম উৎস থেকে। তখনো কয়লা ও অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানি ছিল বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উৎস।

আইইএর হিসাবে, ২০২৫ সালে ভারতের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৭১ শতাংশ এসেছে কয়লা থেকে। আগের বছরের তুলনায় এই অংশ কমলেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার প্রাধান্য রয়ে গেছে।

এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়লেই সমপরিমাণ জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় না। উৎপাদিত বিদ্যুৎ কখন এবং কোথায় ব্যবহার করা যাবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ বাড়ার সঙ্গে তাই বিদ্যুৎ সঞ্চালন, গ্রিড ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যুৎ সংরক্ষণের গুরুত্ব বাড়ছে।

সঞ্চালনব্যবস্থা ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। একটি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা অনেক সময় উচ্চক্ষমতার সঞ্চালন লাইন তৈরির চেয়ে দ্রুত সম্ভব। কিন্তু সঞ্চালন লাইন নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ, রাইট অব ওয়ে, অনুমোদন এবং একাধিক সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়। আইইএর হিসাবে, পর্যাপ্ত সঞ্চালন অবকাঠামোর অভাবে ভারতের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করতে সমস্যা হয়েছে।

২০৩০ সালের অ-জীবাশ্ম জ্বালানি লক্ষ্যে পৌঁছাতে ভারত তাই গ্রিন এনার্জি করিডরসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সঞ্চালন নেটওয়ার্ক ও গ্রিড আধুনিকায়ন করছে।

বিদ্যুৎ সংরক্ষণও একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সৌরবিদ্যুৎ মূলত দিনের বেলায় উৎপাদিত হয়, কিন্তু সন্ধ্যার দিকে বিদ্যুতের চাহিদা অনেক সময় বেড়ে যায়। ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ, পাম্পড-স্টোরেজ জলবিদ্যুৎ, শক্তিশালী সঞ্চালনব্যবস্থা এবং বিদ্যুতের চাহিদা ব্যবস্থাপনা—এসবের মাধ্যমে দিনের উৎপাদন ও সময়ভিত্তিক চাহিদার ব্যবধান কমানো সম্ভব।

অর্থাৎ ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ এখন শুধু কত দ্রুত নতুন নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করা যায়, তা নয়। উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিভাবে গ্রিডে যুক্ত হবে, সংরক্ষণ করা হবে, প্রয়োজনের সময় সরবরাহ করা হবে এবং ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছাবে—সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের জন্য প্রাসঙ্গিকতা কোথায় : বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত এখনো ভারতের তুলনায় অনেক ছোট। তবে এ ক্ষেত্রে নীতিগত দিকনির্দেশনা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে।

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মোট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল প্রায় ১ হাজার ৭৮১ মেগাওয়াট।

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের ব্যবহারও বাড়ছে। স্রেডার মার্চ ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি বিতরণ কম্পানির আওতায় ৪ হাজার ৪৯০টির বেশি নেট মিটারিং-ভিত্তিক ছাদসৌরব্যবস্থা গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। এসব ব্যবস্থার মোট সক্ষমতা প্রায় ২১৪ মেগাওয়াট।

২০২৫ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার নেট মিটারিং ব্যবস্থাও হালনাগাদ করেছে। এতে ছাদসৌরসহ বিকেন্দ্রীভূত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার আরো বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে বাংলাদেশের ভারতের ৩০০ গিগাওয়াটের মাত্রা অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই। দুই দেশের ভৌগোলিক আয়তন, জনঘনত্ব, বিদ্যুৎব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভিন্ন। বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির কৌশলও তাই আলাদা হতে হবে। তবে ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে কয়েকটি বিষয় বাংলাদেশের জন্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি নীতির ধারাবাহিকতা : নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ প্রকল্পে শুরুতেই বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন এবং বিনিয়োগ ফেরত পেতে সময় লাগে। স্থিতিশীল দরপত্র ব্যবস্থা, ট্যারিফ ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তা কমাতে পারে।
বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো : প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ও স্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা গেলে সরকারের ওপর অর্থের চাপও কমতে পারে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে গ্রিডও বাড়ানো : নতুন নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পর সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থা তৈরি করার পরিবর্তে দুই কাজ পাশাপাশি এগোনো দরকার। তা না হলে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

যেখানে প্রয়োজন, সেখানে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ : সৌরবিদ্যুতের অংশ বাড়লে ব্যাটারি ও অন্যান্য সংরক্ষণ প্রযুক্তির প্রয়োজনও বাড়বে। বিশেষ করে সন্ধ্যার সময়ের চাহিদা মেটাতে এর ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ছাদসৌরকে অগ্রাধিকার : সীমিত ভূমি ও উচ্চ জনঘনত্বের কারণে বাংলাদেশের জন্য বাড়ি, বাণিজ্যিক ভবন, শিল্প-কারখানা এবং ইতিমধ্যে উন্নত করা অন্যান্য স্থানে সৌর প্যানেল স্থাপনের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারি জমির ব্যবহার : পরিবেশগত ও সামাজিক বিষয় এবং গ্রিড-সুবিধা বিবেচনা করে যেখানে সম্ভব, অব্যবহৃত বা উপযুক্ত সরকারি জমি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে ব্যবহার করা যেতে পারে।

আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্য : আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্য বাংলাদেশের জন্য বাড়তি নমনীয়তা তৈরি করতে পারে। নিজস্ব নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎব্যবস্থার সংযোগ বাড়ানো সরবরাহের স্থিতিশীলতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য ভারতের অভিজ্ঞতার মূল শিক্ষা তাই শুধু দ্রুত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সক্ষমতা বাড়ানো নয়। একটি কার্যকর জ্বালানিব্যবস্থা গড়ে তুলতে নীতি, অর্থায়ন, শিল্প, সঞ্চালন, বিতরণ, বিদ্যুৎ সংরক্ষণ এবং বিদ্যুৎবাজার—সবকিছুকে একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

বাংলাদেশের বাস্তবতা ভারতের চেয়ে আলাদা। তাই ভারতের মডেল হুবহু অনুসরণ করার সুযোগ নেই। তবে ভারতের অভিজ্ঞতা দেখায়, নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে শুধু জলবায়ু নীতির অংশ হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। এটি জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্প উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতার সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে।

বাংলাদেশ যখন আমদানি করা জ্বালানির দামের ওঠানামার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে চাইছে, তখন সামনে বড় প্রশ্ন হলো—কিভাবে এমন একটি বিদ্যুৎব্যবস্থা তৈরি করা যায়, যা একই সঙ্গে সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ হবে এবং ধীরে ধীরে কার্বন নিঃসরণও কমাবে।

ভারতের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য সেই পথের একটি কেস স্টাডি হতে পারে, কোনো তৈরি মডেল নয়।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন 

 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ