ঢাকা , বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রকল্পের টাকা তেল আমদানিতে, ব্যয় ১৯ হাজার ৫০০ কোটি

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ৩০-০৯-২০২৬ ০২:৫৫:১৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ৩০-০৯-২০২৬ ০২:৫৫:১৫ অপরাহ্ন
প্রকল্পের টাকা তেল আমদানিতে, ব্যয় ১৯ হাজার ৫০০ কোটি ফাইল ছবি
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও দেশে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটসহ (ইআরএল-২) বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য রাখা ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যবহার করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। গত সাত মাসে জ্বালানি তেল আমদানিতে এ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির প্রথম বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য তৈরি বিপিসির কার্যপত্রে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে জ্বালানি তেল বিক্রি করে বিপিসির লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

বিপিসির হিসাবে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই মাসের তেলের মূল্যের সমপরিমাণ ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা চলতি মূলধন হিসেবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। তবে ভর্তুকি মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি করায় সংস্থাটির চলতি মূলধন কমে গেছে।

এ অবস্থায় বিভিন্ন প্রকল্পের হিসাবে থাকা অর্থ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বিন্যাস করে তেল আমদানিতে ব্যবহার করা হয়েছে।
বিপিসি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন প্রকল্পের হিসাবে রাখা অর্থ বিপিসির। প্রকল্পগুলোতে চলতি ও আগামী অর্থবছরে কখন কত টাকা লাগবে, সেই প্রয়োজন বিবেচনা করে অর্থ পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এ জন্য মন্ত্রণালয় থেকে নতুন করে অর্থ নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত রাখা এখন বিপিসির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রকল্পের প্রয়োজনের সময় অর্থের ব্যবস্থা করা হবে।

বিপিসির হিসাবে, ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের গড় দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৮৬ ডলার। মার্চে সেটি বেড়ে ১৮৬ দশমিক ৫৯ ডলারে ওঠে। এপ্রিলে সর্বোচ্চ ২৮৪ দশমিক ৯৫ ডলারে পৌঁছায়।

সেপ্টেম্বরে কার্যপত্র তৈরির সময় গড় দাম ছিল ১৬৫ দশমিক ৮২ ডলার।

বিপিসি চেয়ারম্যান জানান, দেশের ব্যবহৃত পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় ৬৫ শতাংশ ডিজেল। কার্যপত্র তৈরির সময় আন্তর্জাতিক বাজারদর ও ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় প্রতি লিটার ডিজেলের ব্যয় পড়ছিল প্রায় ২০৫ টাকা। অথচ দেশে তখন তা বিক্রি হচ্ছিল ১১৫ টাকায়।

২০২৪ সালের মার্চে দেশে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালু হয়। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে দাম নির্ধারণ করা হলেও পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও প্রায় পাঁচ মাস দেশে দাম বাড়ানো হয়নি।

১৯ এপ্রিল ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়। ১ জুন কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম যথাক্রমে ১৩৫, ১৪৫ ও ১৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ ২১ সেপ্টেম্বর চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়।

বিপিসি বলেছে, লোকসান কমানোর পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশে জ্বালানি তেল পাচারের ঝুঁকি কমাতেও দাম বাড়ানো হয়েছে।

বর্তমানে বিপিসি ও এর আওতাধীন ৬৪টি ডিপো ও স্থাপনায় ১৬ লাখ ২৭৩ টন জ্বালানি তেল মজুদের সক্ষমতা রয়েছে। এতে পণ্যভেদে ৪০ থেকে ৪৫ দিনের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। এই সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটি দেশের বর্তমান জ্বালানি চাহিদা, মজুদ সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা মোকাবিলায় প্রস্তুতির বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী বৈঠকে দিতে বিপিসিকে সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে জনগণের জন্য জ্বালানির দাম সহনীয় রাখতে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরিরও সুপারিশ করা হয়েছে।

  
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন

 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ