৩০ লাখের সেতু ৩ বছরেই ধস, ৫ বছরেও হয়নি সংস্কার
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৯-০৯-২০২৬ ০২:৪৫:২৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৯-০৯-২০২৬ ০২:৪৫:২৩ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
৩০ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মাণের ৩ বছরের মধ্যেই ধসে পড়ে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের বাইতরা ঘোনাপাড়া এলাকার একটি সেতু। ধসের ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সেতুটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। ফলে পুটাইল, বেতিলা, মিতরা ও বলধারা ইউনিয়নের হাজারো মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময় যথাযথ পাইলিং না করা, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং পরবর্তী সময়ে সেতুর পাশে মাটি কাটার কারণে এটি ধসে পড়ে।
জানা যায়, বর্ষায় পানির স্রোতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের বাইতরা ঘোনাপাড়া এলাকায় ৪০ ফুট দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয় ৩০ লাখ ৭৭ হাজার ৬৫৭ টাকা।
তবে নির্মাণের ৩ বছর না যেতেই ২০২১ সালে সেতুটির পশ্চিম পাশের দুটি পাখা ধসে পড়ে। সেতুর একাংশ দেবে যাওয়ার পাশাপাশি দুই পাশ ও তলদেশের মাটি সরে যায়। দেখা দেয় ফাটল। এরপর থেকেই সেতু দিয়ে স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে, ধসের পর সেতুর পাশ দিয়ে একটি বিকল্প ঢালু রাস্তা তৈরি করা হয়। সেই রাস্তা দিয়েই গত ৫ বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন ৪ ইউনিয়নের হাজারো মানুষ। বর্ষায় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিকল্প রাস্তাটিও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন শিক্ষার্থী ও ছোট-বড় যানবাহনের চালকেরা।
দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগব্যবস্থা অচল থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। দ্রুত সেতুটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করে দুর্ভোগের অবসান চান তারা।
পুটাইল ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য চিত্তরঞ্জন সরকার বলেন, ব্রিজ দেওয়ার পর দক্ষিণ পাশের জমির মাটি কেটে বিক্রি করা হয়েছিল। এরপর বর্ষা এলে ব্রিজটি পড়ে যায়। এখন আমাদের যাতায়াতে সমস্যা হয়।
স্থানীয় অটোরিকশাচালক আব্দুল করিম বলেন, ব্রিজের দক্ষিণ পাশে মাটি কাটা বেশি হয়ে গিয়েছিল। বন্যার সময় প্রবল স্রোতে ব্রিজের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় এটি ধসে পড়ে। এখন আবার বড় বন্যা হলে বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থাটুকুও থাকবে না।
আরেক রিকশাচালক মাসুদ রানা বলেন, আমার মনে হয় পাইলিং শক্ত ছিল না। পাশে যে বিকল্প রাস্তা করা হয়েছে, সেটি বর্ষায় তলিয়ে যায়। বৃষ্টি হলেও এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যায় না।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান জানান, এই ব্রিজের পাশ থেকে মাটি কাটায় এর বেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকায় কথা বলব, যাতে টেকনিক্যাল টিম সরেজমিনে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নিতে পারে।
তিনি বলেন, সেতুটি সংস্কার করা সম্ভব হলে সংস্কার করা হবে। অন্যদিকে সংস্কার করা না গেলে সেতুটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স